অতিথি অভ্যর্থনা
Featured

03 June 2019
Author :  

 

ছবি : ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত

 

-তারিক সামিন।

 

জন অ্যাডামস। বয়স ৩০ বৎসর। দীর্ঘকায় শরীর হালকা পাতলা গড়ন। মাথা ভরা সোনালী চুল। লম্বাটে মুখমণ্ডল। লালচে-সাদা গায়ের রং। সবুজ রং এর চোখ তীক্ষ্ণ চোখা নাক। হাফ হাতা জামা, জিন্স প্যান্ট, আর বুট জুতা পরে থাকে বেশির ভাগ সময়।

কারো সাথে দেখা হলেইআসসালামু-আলাইকুমবলে মিষ্টি হেসে করমর্দন এর জন্য হাত বাড়ায় সে। অদ্ভুত শিশুসুলভ তার বাংলা বলার ধরন। জন এদেশে এসেছে আট মাস। এরই মধ্যে এই দেশটিকে আর এদেশের মানুষগুলোকে দারুণ ভাল লাগতে শুরু করেছে তার।

কখনো কখনো তাকে দেখা যায় গ্রামের পথে আম-কাঁঠালের ডাল ভেঙ্গে গরু-ছাগলের বাচ্চাগুলোকে খাওয়াচ্ছে। সাইকেল চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছে। কখনো অসুস্থ শিশুদের পাশে দাড়িয়ে তাদের মাথায় হাত বুলায়। পরিবার পরিজন কে সান্ত্বনা দেয়। গামছা কাঁধে পুকুরে গোসল করতে যায়।

এদেশের ইলিশ মাছ ভাজা, ভুনা খিচুরি আর দেশী মুরগীর মাংসের ঝোল তার দারুণ পছন্দ। এরই মধ্য সে শিখে ফেলেছে চামচ ছাড়াও, হাত দিয়ে, সুন্দর পরিচ্ছন্ন ভাবে খাবার খাওয়া যায়।

জন একটি আন্তর্জাতিক এন.জি. অফিসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার। স্বাস্থ্য জনসংখ্যার উপর গবেষণা আর্থিক সাহায্য দেয় তাদের প্রতিষ্ঠান। প্রায়শই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ঘুরে বেড়ায় সে।

দেড় মাস হলো, বগুড়া সরকারী হেলথ কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজ করছে লিজা। ওর পুরো নামক সালেহা পারভিন লিজা। মাঝারী উচ্চতা, গায়ের রং শ্যামলা। খুব হাসি-খুশি আর সপ্রতিভ মেয়েটি। একটা কালো আর সবুজ রং এর ঢাকাই জামদানী; তার উপর সাদা অ্যাপ্রোন পড়ে রোগী দেখছিল লিজা। এদেশের শ্যামল বরন মেয়েদের চোখে-মুখে সবুজ ফসলের মাঠের মত স্নিগ্ধতা থাকে। এদের হাসি নদীর ঢেউয়ের মত আন্দোলিত করে জীবনকে। লিজার মত একটি মেয়েকে বিয়ে করে এদেশে থেকে যাবার ইচ্ছে জনের।

গণতান্ত্রিক সুশাসন, ন্যায় বিচার, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি রোধ এবং সমাজ ধর্মীয় কুসংস্কার মুক্ত হলে, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ জাতি হয়ে উঠবে ...... এসব ভাবতে ভাবতে গ্রামের পথ ধরে অফিসে যাচ্ছিলো জন।

হঠাৎ একটা মটর সাইকেল থেকে তিনজন যুবক খুব দ্রুত নেমে আসলো জনের দিকে। প্রথম আগুন্তক যুবকে দেখে হাস্যজ্জল মুখে জন বললো, ‘আসসালামু-আলাইকুম, কেমন আছেন?’

আল্লাহু আকবরবলে, নির্মম নির্দয় ভাবে জনের মাথা, হাত আর কাঁধে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেল যুবক-ত্রয়।

 

[ এই গল্পটি বাংলাদেশে উগ্রপন্থীদের দ্বারা নিহত সকল বিদেশী নাগরিকদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত। ]

 

*পুনঃ প্রকাশিতঃ প্রথম প্রকাশ ১৯ নভেম্বর‘ ২০১৮

 

 

 

300 Views
Literary Editor

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree