সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে, পাঠ্যপুস্তকে যৌন শিক্ষা অর্ন্তভূক্ত করা হোক
Featured

09 June 2019
Author :  

 

মানুষের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত হচ্ছে তার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাহচর্য। যৌনতা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মৌলিক অধিকার। খাদ্য গ্রহণ না করলে যেমন মানুষ শারীরিক অপুষ্টিতে ভুগে। তেমনি, প্রাপ্ত: বয়স্ক মানুষ; যৌন তৃপ্ত ব্যতীত মানসিক ও নৈতিক অপুষ্টিতে ভুগে।

দুর্ভিক্ষ পিরিত দেশে খাদ্য সংকট কালে যেমন মানুষের ইচ্ছে থাকলেও খাবার জোটে না। তেমনি সংকীর্ণ ও অশিক্ষিত সমাজে মানুষের ইচ্ছে থাকলেও যৌন তৃপ্তি হয় না। এখানে যুবক-যুবতিদের যৌন কামনা পরিতৃপ্তিতে হাজারো রকমের বাধা থাকে। দাম্পত্য জীবনে স্বামী ও স্ত্রী’র যৌন সম্পর্কও একঘেয়েমি পূর্ন হয়ে উঠে শিক্ষার অভাবে।

যৌন অশিক্ষিতরা জানে না, একবারে না খেয়ে থাকাও যেমন স্বাস্থ্য হানিকর। ঠিক তেমনি অধিক ভোজন তথা বেশি আহারও স্বাস্থ্য হানিকর। সঙ্কীর্ণ ও অশিক্ষিত সমাজে যৌনতা মানেই অধিক ভোজন বা একবারে না খেয়ে থাকা।

অন্যদিকে খাবার বিশুদ্ধ না হলে, যেমন শরীরে বিভিন্ন রোগ তৈরি হয়, ঠিক তেমনি অনিরাপদ যৌন সম্পর্কও স্বাস্থ্য হানিকর। কখনো কখনো অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী। সঙ্কীর্ণ ও অশিক্ষিত সমাজে লোক নিন্দা এড়াতে মানুষ গোপনে বেশ্যাগমন, পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অনিরাপদ ও ক্ষতিকর সম্পর্কে বেশি জড়ায় ।

যৌনতার মতো জটিল একটি বিষয় বুঝতে তাই যৌন শিক্ষা জরুরী। কিন্তু মুসলিম সমাজে যে কথা বলাও পাপ। অথচ যৌন অপরাধ মুসলিম সমাজেই সবচেয়ে বেশি। এই সমাজ কাঠামোর মধ্যে যৌন বিকৃতি সবচেয়ে বেশি। হুজুররা, নারী পুরুষের প্রেমকে পাপ মনেকরে কিন্তু ধর্ষণকে ইনিয়ে-বিনিয়ে সমর্থন করে।

চরম রক্ষণশীল সৌদি আরবে নারীরা পিতা ও ভাইদের দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে। সে সব থেকে বাঁচতে সৌদি নারীরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। সে কারণে সৌদি সরকার সে দেশের নারীদের পাসপোর্ট দিচ্ছে না। আর দিলেও তা পরিবারের পুরুষদের জিম্মায়। সৌদি সরকার সেদেশের পুরুষদের খুশি রাখতে, বিদেশ থেকে নারী গৃহকর্মি নিচ্ছে। পিতা ও পুত্ররা মিলে সেই সব নারী গৃহ কর্মীকে ধর্ষণ করে। সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশী গৃহ কর্মীরা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে স্বদেশে ফিরে আসছে। তাদের মুখ থেকেই শোনা যাচ্ছে এসব বিভৎস অত্যাচারের কথা।

বাংলাদেশে যৌন বিকৃতির প্রকাশ্যে উৎসব চলছে। গুগলে ’বাংলা.’ লিখলে সবার আগে আসে বাংলা চটি। আর সেই চটি মানেই বাবা-মা, ভাই-বোনদের সাথে বিকৃত যৌন গল্প। মুসলিম সমাজে নারীরা খোলামেলা চলে না। একটি পুরুষের সারা জীবন দেখে তার নারী বান্ধবী, অফিসের সহকর্মী, রাস্তার নারী সবাই শরীর ঢেকে চলে ।

কিন্তু বাসায় মা-বোনদের তো সব সময় শরীর ঢেকে কাজকর্ম করার উপায় নেই। মুসলিম পুরুষ তাই এদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। বহু মানুষ এখন নিজের অজান্তে এমন মানসিক বিকৃতিতে ভুগছে। কিন্তু বাংলাদেশে লজ্জিত হতে হয় এসব সত্য কথা লিখতে গিয়ে ।

এছাড়াও এখন ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফির বড় একটা অংশ আসে বাংলাদেশ থেকে। নারীদের বিভিন্ন ভাবে ব্লাকমেইল করে এসব তৈরি হয়। স্কুল পড়ুয়া মেয়েরাও বাদ পরছে না এসব লম্পটদের হাত থেকে।

বাংলাদেশে যৌন বিকৃতির প্রকাশ্য উৎসব এর আরো রূপ হচ্ছে রাস্তা ঘাটে নারীদের ইভ টিজিং, যানবাহনে ইচ্ছাকৃত ভাবে নারীদের শরীর স্পর্শ করা। মাত্র একদিন আগেও, প্রকাশ্য রাস্তায় হিজাব পড়া সাত বছরের শিশুকে যৌন নিগ্রহ করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে, যৌন বিকারগ্রস্ত এক মাদ্রাসা শিক্ষক। অথচ এরাই আবার ফেসবুক ও ধর্মীয় সমাবেশে নারী বিদ্বেষ প্রচার করছে।

ধর্ষণ, গণ-ধর্ষণ, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ এসবই যৌন বিকৃতির বিবিধ রূপ। আরো ভংয়ন্কয় অমানবিক হচ্ছে মাদ্রাসাগুলোতে শিশু ও কিশোরদের বলাৎকার। মাদ্রাসা গুলোতে প্রতিনিয়ত ছোট ছোট শিশুরা ধর্ষণ ও বলাৎকার এর শিকার হচ্ছে। সেই সাথে মাদ্রাসাগুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সমকামিতা।

সমকাম একটি জেনেটিক ডিজঅর্ডার। অর্থাৎ শরীরের দিকে দিয়ে হয়তো সে পুরুষ কিন্তু মনের দিক দিয়ে নারী। অথবা শরীরের দিকে দিয়ে সে হয়তো নারী কিন্তু মনের দিক দিয়ে পুরুষ। তাই নারী হয়েও সে অন্য নারী বা পুরুষ হয়েও সে অন্য পুরুষেরে প্রতি আকৃষ্ট হয়। এজন্য তাকে অর্থাৎ সমকামীকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। মানুষের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী যৌন অঙ্গ হচ্ছে তার মস্তিষ্ক বা ব্রেন। এটা অনুধাবন করার মতো বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ মুসলিম সমাজে বিরল। সমকামী ঈশ্বর বা প্রকৃতির সৃষ্টি। অন্য সব মানুষের মতো মানুষ। তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। একটি সুন্দর জীবন যাপন করার অধিকার আছে। সমকামী এখানে একজন ভিকটিম মাত্র। সমাজ ও রাষ্ট্রের তার পাশে থাকা নৈতিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশের মাদ্রাসা গুলোতে যৌন বিকারগ্রস্থতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে, এদের পাঠ্য ব্যবস্থায় নারীকে পাপের বস্তু হিসেবে দেখানো হয়। আবার কখনো কখনো নারীকে মাতৃ রূপে অতি সম্মানিত দেখানো হয় । এদের চোখে হয় নারী অতি নিকৃষ্ট অথবা অতি সম্মানিত। নারী-পুরুষের বন্ধুত্ব ও স্বাভাবিক মেলামেশা এখানে নিষিদ্ধ। নারীর প্রতি এই ভয় থেকে এবং স্বাভাবিক নারী সাহচর্য বঞ্চিত থাকা, এখানকার যুবকরা অল্প বয়সে সমকামে আকৃষ্ট হচ্ছে। অথবা শিশু, কিশোরদের বলাৎকার ও ধর্ষন করছে।

আবার এরাই সমকামীদের ঘৃণা করে, হত্যা করে। অথচ ধর্ষণ, বলাৎকার ও নারী ও শিশু যৌন নিগ্রহের মতো জঘন্য অপরাধে এরা চুপ থাকে। ব্যক্তিগতভাবে, আমি সমকামীতা পছন্দ করি না। তবে তাদের বেঁচে থাকার ও স্বাবাভিক জীবন যাপনের অধিকার আমি সমর্থন করি।

আবদ্ধ পানিতে যেমন জীবানু বেশি জন্মে। ঠিক তেমনি সঙ্কীর্ণতা ও কুসংস্কার আচ্ছন্ন, অশিক্ষিত- কুশিক্ষিত সমাজে; যৌন বিকারগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা বেশি। এছাড়াও মানুষের অন্যান্য বহু জটিল মানসিক ও শারিরিক সমস্যার কারনও যৌন অবদমন। আবার অনিরাপদ যৌনতাও জীবনঘাতী। সে জন্য যৌন শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

সাহিত্য, চলচ্চিত্র, শিল্প কলা ও বিনোদন মাধ্যম সমূহে সুস্থ যৌনতার উপস্থাপন না থাকলে, চটি সাহিত্য ও পর্নোগ্রাফির বিকৃত দিক গুলোর প্রতি মানুষ বেশি আকৃষ্ট হয়। মানুষের মস্তিষ্ক কখনো শূন্য থাকে না। ভালো না পেলে; খারাপ দিয়ে সেই শূন্য স্থান পূরণ করে।

মোট কথা, একটি সমাজে মানুষের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ ও নৈতিক উন্নয়নে যৌন শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী। এটা সরকারকে বুঝতে হবে।এ বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবং পশ্চাৎপদ মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করতে হবে। তা-না-হলে অচিরেই ভেঙ্গে পড়বে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা।

 

- তারিক সামিন 

 

215 Views
Literary Editor

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree