Literary Editor

Lіudmyla Diadchenko is a Poet and Vice President of Ukrainian Writers Association, Ukrainian literary rating "The Book of the Year" expert. Was born 2.08.1988.

2012 - Master literary creation in National Taras Shevchenko University, Kyiv. 2012 - Art Editor of the "Suchasnist" journal.

2014 - The deputy of chief editor of “Image.ua” journal.

2016 - Doctor of philosophy (Theory of literature).

Scientific interests: mithopoetics, hermeneutics, spatial studios.

2019 - Director of the Educational and Scientific Center of Shevchenko Studies at National Taras Shevchenko University. Living and working in Kyiv.

 

Some poems translated Georgian, Belarusian, Russian, English, Arabic, Azerbaijani and Turkish languages.

 

 

1.

Passing Venice along,

where it's not so deep,

And across, gathering dreams and hitting gondolas…

The land with no sign of where the rain gets and drops water of it,

And how long it is lasting as first and foremost.

Now it's winter in your lands,

holes covered by sand,

Changes of weather as well as of women are tangible.

That is time to burn fire with ships and boats crashed

Sailing peacefully to the coast which is visible.

Is a man from the South aware of winter and cold to the bone?

There are masks and my carnivals… but even a gram

I'm not closer to you. But I'm walking on nets submerged

Waving to gondoliers.

You call them "boatmen".

 

2.

An island with wild goats and two stranger donkeys

Has ripped its olive tree waiting for godness.

We don't need just treasures, we want see them buried

And, also, old maps to make me look for this.

 

When the autumn comes and lies down like on altar

There is a lamb or grape, accept them but don't taste this.

That is the law of mine, consider it like Gibraltar

Impeding to link Africa with Europe outstanding.

 

But water is washing away edges of boats,

So swim away with a bundle of freedom.

I didn't meet those whom I was looking for,

But those who I met, it seemed, I hadn't seen them.

 

3.

There's nothing in common, so we do not talk,

But we're not against to approve a silence in the truth.

Ducks' wings become heavier above the seashore.

There's nothing in common. Could anyone shoot?

Guilty and guiltless rains, like milk in a coffee,

Will be drunk by us, and the cups will be broken.

By sky all of my planes have already been stolen,

And all motherlands' voices have also stopped talking.

If I fly or not: it's a playing one's words with mistakes,

Where you stay leaving all for sled dogs.

But unlike belongings, you can't lift pain by hands:

So take it and care it yourself, if you want.

 

Translated by Dmytro Teplouhov

-তারিক সামিন

 

বিস্তীর্ণ এই জলাশয়ের পাশে

বিরাট এক অশ্বত্থ গাছ ছিল,

স্বচ্ছ জলাশয়ের পানিতে ছুটোছুটি করত

হরেক রকমের মাছ

শাপলা-শালুক, কলমিলতা আর হেলেঞ্চার ডগা

তুলতো কিশোর-কিশোরীরা,

আর ছিল অনেক মানুষ!

এখন মানুষ হারিয়ে গেছে জনসংখ্যার ভিড়ে

 

মানুষের শান্ত নিবেদিত বসবাস

হারিয়ে গেছে হিংস্র লোভী আচরণে

ওইখানে স্কুলের পাশ দিয়ে হেঁটে যেত

গ্রামের কৃষক, গৃহবধূ, শিশু-কিশোর

তাদের সরল-চাহনি পবিত্র-হাসি

মুগ্ধ করতো সকলকে

এখন তারা কাউকে দেখে হাসে না

উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে থাকে আগন'কের দিকে

 

নগেণ মাস্টার আর সিদ্দিক স্যার-

ছাত্রদের দেশপ্রেম-নৈতিকতা-মূল্যবোধ শিক্ষা দিত,

এখন সব শিক্ষক কোচিং নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত

জনসংখ্যার ভিড়ে হারিয়ে গেছে বাংলার মানুষ!

হারিয়ে গেছে বাংলার সুখ-দুঃখ অনুভূতি বিবেক

টিনের ঘরে শুয়ে ঘ্রাণ পাওয়া যেত

হাসনাহেনা-রজনীগন্ধা-বেলি-চামেলি আরো কত ফুলের ঘ্রাণ

এখন পেট্রোল আর প্লাস্টিক পোড়া গন্ধ সেখানে

 

সুমধুর-সুরে বেণু আপা, রাধা দি, হাশেম ভাই

ইদ্রিস কাকা , তবলা-হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করতো,

এখন সারাদিন টেলিভিশনে গান দ্যাখে সকলে

আর দেখে মারদাঙ্গা-কুটিল সব নাটক-চলচ্চিত্র

আমাদের যাত্রা-পালা তখনও সভ্য

তোমাদের সানি লিওনের চাইতে

 

আমাদের মসজিদে পবিত্র মনে সবাই

দোয়া করতো সকলের জন্য

মন্দিরে পুজো আর প্রসাদ সবাই ভাগ করে নিত

তখন আমাদের মূল্যবোধ আর বিশ্বাস ছিল

উদার এবং মনের গভীরে প্রেথিত,

এখন সামান্য ঝাঁকুনীতে তোমাদের বিশ্বাস আর অনুভুতি ভেঙ্গে পড়ে

তখন রাজনীতির মানুষগুলো সবার সাথে মিশতো

এখন তারা পেশী-শক্তি আর লোভের খাচাঁয় বন্দি

 

বছরে দুএক বার মারামারি হলে

গ্রামে পুলিশ এলে হইচই পরে যেত.

এখন প্রতিদিন খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি

কতকিছু হচ্ছে, পুলিশের গাড়ি একটু পর-পর

যাচ্ছে-আসছে, তোমরা নীরব কেন হে?

শোনা যেত গ্রামের ওই ছেলেটি

মেধাবি, ভালো গান করে, বাউন্ডুলে

ভালো ফুটবল খেলে, আরো কত কি

এখন! কে কত উপরি পায়, কত খরচ করে

কত জমায়, সবাই হিসেব করে তার

 

অভাব তখনও ছিল, এখনো আছে

সম্পদ তখনো ছিল এখনো আছে,

শুধু মানুষ, আমার মানুষ

হারিয়ে গেছে জনসংখ্যার ভীড়ে

পথে বাউল আর বোষ্টমি গান গায় না এখন

ঝিঙে-লাউ আর শসা দেখে সুখ হয় না কারো,

দেশি মাছ হারিয়ে গেছে হাইব্রিড চাষে

ছানার মিষ্টি এখন বানায় কিসে!

 

রোগে জোটে না ভেষজ উদ্ভিদ

হাতুড়ে ডাক্তার অপারেশন করে

আমাদের মানুষগুলো হারিয়ে গেছে জনসংখ্যার ভীড়ে!

নজরুল-রবীন্দ্র-শরৎ চন্দ্র কেউ পড়ে না এখন

-নোট, গাইডবুকে ব্যস্ত সকলে

 

যে বন্ধুর কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিত হওয়া যেত

সে এখন ব্যস্ত প্রতারিত করতে,

যে নারীকে ভালোবেসে মহৎ স্বপ্ন দেখা যেত

সে এখন বিকায় জনে জনে

মনুষত্বের অপমৃত্যু হলো সামান্য ব্যবধানে-

কুটিলতা কেড়ে নিল সরলতা,

অবিশ্বাস কেড়ে নিল বিশ্বাস

হীনতা কেড়ে নিল উদারতা,

বিশৃঙ্খল জীবনে কোন কিছুই আনন্দ আর

পবিত্রময় রইল না সেখানে

আমাদের মানুষগুলো হারিয়ে গেল জনসংখ্যার ভীড়ে

 

ছবি : ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত

 

-তারিক সামিন।

 

জন অ্যাডামস। বয়স ৩০ বৎসর। দীর্ঘকায় শরীর হালকা পাতলা গড়ন। মাথা ভরা সোনালী চুল। লম্বাটে মুখমণ্ডল। লালচে-সাদা গায়ের রং। সবুজ রং এর চোখ তীক্ষ্ণ চোখা নাক। হাফ হাতা জামা, জিন্স প্যান্ট, আর বুট জুতা পরে থাকে বেশির ভাগ সময়।

কারো সাথে দেখা হলেইআসসালামু-আলাইকুমবলে মিষ্টি হেসে করমর্দন এর জন্য হাত বাড়ায় সে। অদ্ভুত শিশুসুলভ তার বাংলা বলার ধরন। জন এদেশে এসেছে আট মাস। এরই মধ্যে এই দেশটিকে আর এদেশের মানুষগুলোকে দারুণ ভাল লাগতে শুরু করেছে তার।

কখনো কখনো তাকে দেখা যায় গ্রামের পথে আম-কাঁঠালের ডাল ভেঙ্গে গরু-ছাগলের বাচ্চাগুলোকে খাওয়াচ্ছে। সাইকেল চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছে। কখনো অসুস্থ শিশুদের পাশে দাড়িয়ে তাদের মাথায় হাত বুলায়। পরিবার পরিজন কে সান্ত্বনা দেয়। গামছা কাঁধে পুকুরে গোসল করতে যায়।

এদেশের ইলিশ মাছ ভাজা, ভুনা খিচুরি আর দেশী মুরগীর মাংসের ঝোল তার দারুণ পছন্দ। এরই মধ্য সে শিখে ফেলেছে চামচ ছাড়াও, হাত দিয়ে, সুন্দর পরিচ্ছন্ন ভাবে খাবার খাওয়া যায়।

জন একটি আন্তর্জাতিক এন.জি. অফিসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার। স্বাস্থ্য জনসংখ্যার উপর গবেষণা আর্থিক সাহায্য দেয় তাদের প্রতিষ্ঠান। প্রায়শই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ঘুরে বেড়ায় সে।

দেড় মাস হলো, বগুড়া সরকারী হেলথ কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজ করছে লিজা। ওর পুরো নামক সালেহা পারভিন লিজা। মাঝারী উচ্চতা, গায়ের রং শ্যামলা। খুব হাসি-খুশি আর সপ্রতিভ মেয়েটি। একটা কালো আর সবুজ রং এর ঢাকাই জামদানী; তার উপর সাদা অ্যাপ্রোন পড়ে রোগী দেখছিল লিজা। এদেশের শ্যামল বরন মেয়েদের চোখে-মুখে সবুজ ফসলের মাঠের মত স্নিগ্ধতা থাকে। এদের হাসি নদীর ঢেউয়ের মত আন্দোলিত করে জীবনকে। লিজার মত একটি মেয়েকে বিয়ে করে এদেশে থেকে যাবার ইচ্ছে জনের।

গণতান্ত্রিক সুশাসন, ন্যায় বিচার, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি রোধ এবং সমাজ ধর্মীয় কুসংস্কার মুক্ত হলে, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ জাতি হয়ে উঠবে ...... এসব ভাবতে ভাবতে গ্রামের পথ ধরে অফিসে যাচ্ছিলো জন।

হঠাৎ একটা মটর সাইকেল থেকে তিনজন যুবক খুব দ্রুত নেমে আসলো জনের দিকে। প্রথম আগুন্তক যুবকে দেখে হাস্যজ্জল মুখে জন বললো, ‘আসসালামু-আলাইকুম, কেমন আছেন?’

আল্লাহু আকবরবলে, নির্মম নির্দয় ভাবে জনের মাথা, হাত আর কাঁধে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেল যুবক-ত্রয়।

 

[ এই গল্পটি বাংলাদেশে উগ্রপন্থীদের দ্বারা নিহত সকল বিদেশী নাগরিকদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত। ]

 

*পুনঃ প্রকাশিতঃ প্রথম প্রকাশ ১৯ নভেম্বর‘ ২০১৮

 

 

 

মশক তত্ত্ব

-তারিক সামিন

 

মশার বীরত্ব ও শৌর্য-বীর্যের কাহিনী অতি পুরাতন। এই সামান্য(?) মশার কাছেই পরম শক্তিমান নমরুদ পরাস্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেছিলেন।

রক্ত পিপাসু আর কানের কাছে ভন্‌-ভন্‌ শব্দে বিরক্ত উদগ্রীবকারী এই প্রাণীটি, আমার কাছে অসহ্য! লোকে বলে, ‘যেথা বাঘের ভয়, সেথা রাত্রি হয়’। সেই জন্যই মশার প্রাতরাশ, মধ্যাহ্ন ভোজ বা রাত্রিকালীন আহার, সর্বত্র আমার রক্ত তাদের প্রিয়।

চীনা জাতি সত্যই বড় মানব হিতৈষী। তা না হলে আমার মত সামান্য লেখকের এত বড় উপকার করবে কেন? যেখানে যাই, বসি-দাড়াই-ঘুমাই সর্বত্র আমার সঙ্গী চায়নার তৈরি একখানা ব্যাডমিন্টন ব্যাট। ভাবছেন আমি খুব ভাল ব্যাডমিন্টন খেলি! আজ্ঞে মোটেও না। আসলে ব্যাটখানা মশার মরণাস্ত্র। আস্ত একখানা কামান। মুড়ি ভাজার মত ফট্‌-ফট্‌ শব্দে মশার দগ্ধ-অর্ধদগ্ধ দেহ সৎকার হয় এই মহান যন্ত্রের সাহায্যে। মশা মারতে এই কামানের জুরি-মেলা-ভার। সকাল-সন্ধ্যা মশা মারতে কামান দাগাই আমার এখন মুখ্য কাজ। লেখা-লেখি গৌণ, মাঝে মাঝে নগণ্য।

মশার জীবন চক্র বড়ই কৌতূহল উদ্দীপক! মাত্র দিন সাতেক আয়ু, এর মধ্যই অগণিত বংশ বিস্তার করে। এদের জীবনে আর কোন ভাল কাজ নেই! ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু আরো সব প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে, জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি অন্যের ক্ষতি করাই এ জীবের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞানী ডারউইন সাহেবের দাবী মানুষের পূর্ব পুরুষ বানর ছিল। কিন্তু একালের কতিপয় মানব সন্তানের কর্মকাণ্ড দেখে আমার উর্বর মস্তিষ্কে এখন এ ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে। তাহাদের পূর্ব-পুরুষগন মশা হইতে বিবর্তিত হয়ে নিশ্চয় মানুষ হয়েছে!!!

বুঝলেন না! একটু বুঝিয়ে বলি। ধরুন, আপনি যদি আপনার শরীরের সমস্ত রক্ত মশাদের অনায়াসে খেতে দেন; এরা সানন্দে পুরোটাই শুষে নেবে। আপনি মরলেন কি বাঁচলেন তাতে এদের কি! মানুষের মধ্যে দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর সম্প্রদায়য়ের লোকেরাও ঠিক তেমনি। দেশ ধ্বংস হয়ে যাক, মানুষ না খেয়ে মরে যাক, এদের শোষণ বন্ধ হয় কি?

দু’বেলা না খেয়ে আছেন বললে, সরকারি অফিসের কর্তা ঘুষ না খেয়ে ফাইল ছেড়ে দেবে কি?

পরিবারে আয় করার দ্বিতীয় কেউ নেই, এটা শোনার পরও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা পুলিশের মনে কোন দিন কোন দয়া হয়েছে কি?

তাছাড়া মশারা যেমন দলবেঁধে চলে, দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরেরা তেমনি দলবদ্ধ। রাজনীতিবিদ, আমলা, সামরিক-বেসামরিক সরকারী কর্মকর্তা- কর্মচারী, লেখক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী সকলের মধ্যেই ওই নিরীহের রক্ত চোষায় আসক্ত শ্রেনীর মানুষ লুকিয়ে আছে। নিপীড়িতের রক্ত শোষণ না করে এরা সমাজে বেঁচে থাকতে পেড়েছে কখনো?

অপরদিকে দেখুন, মশা যেমনি আমাদের বিশুদ্ধ রক্ত শোষণ করে; বিনিময়ে আমাদের শরীরে প্রাণঘাতী সব রোগ-জীবাণু ঢুকিয়ে দেয়। দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরেরা তেমনি আমাদের অর্থ-বিত্ত লুট করে আমাদের খাবারে বিষ, ওষুধ ও চিকিৎসায় ভেজাল, বিচারে অবিচার, শিক্ষায় প্রশ্ন ফাসঁ ও বিকৃত রুচির পাঠ্য পুস্তক প্রণয়ন এর মতো জঘন্য কাজগুলো করে।

সব অপকর্মের পরও মশা যেমন বুক উঁচু করে কানের কাছে ভন্‌ ভন্‌ করে; দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরেরা তেমনি টেলিভিশনে, পত্র-পত্রিকায় উঁচু গলায় কথা বলে।

এই পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যায়; তার মধ্যে সবচাইতে বেশী মারা যায় মশার কামড়ে। পৃথিবী জুড়ে বছরে সাত লক্ষের বেশি মানুষ মারা যায় শুধু মশার কামড়ে। দ্বিতীয় বৃহত্তর মানুষ হন্তা-কারক মানুষ নিজে, অর্থৎ মানুষের হাতে মানুষ মরে আরো প্রায় সাত লক্ষ। বাঘ-সিংহ মানুষ হত্যা করে বছরে বড় জোর শ-দুইশো।

এতসব বিশদ গবেষণার পর, দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরদের পূর্ব-পুরুষগন মশা হইতে বিবর্তিত হয়ে মানুষ হয়েছে, এ নিয়ে আমার লেখা বিশাল একখানা বই প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন সাহেব ভুমিকা লিখছেন এবং প্রুফ দেখছেন স্বয়ং কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ!

পরিশেষে আরো আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার এই আবিষ্কার জনপ্রিয় ‘সায়েন্স’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আশাকরি, এই মহান আবিষ্কারের জন্য ‘নোবেল পুরস্কার কমিটি’ আগামী বছর আমাকে বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করিয়া ধন্য হইবেন।

Bengali Translation of Rui Cóias’s biography and poem.

  

রুই কোয়িয়াস লিসবন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কোয়েম্বার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে স্নাতক পাস করেছেন এবং আইন বিজ্ঞানে তার একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী আছে। তিনি একজন আইনজীবী এবং দর্শনশাস্ত্র অনুরাগী।  'ভূগোলবিদ এর কাজ' 'বিশ্বের আদেশ' বই দুটি তার রচনা। ২০১৬ সালে পর্তুগালে তার শেষ কবিতা সংগ্রহ 'ইউরোপা' প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইটি অন্যান্য অনেক বইয়ের মতো প্রথম মহাযুদ্ধ (১৯১৪-১৮) উপর ভিত্তি করে কবিতার একটি সিরিজ। আরো বিশেষভাবে বললে ১৯১৬ সালের সোমের যুদ্ধ নিয়ে লেখা কবিতাগুলো উল্লেখযোগ্য। কবিতাগুলি ফরাসি সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি ফেলোশিপ এর আনুকূল্যে লিখিত। 

সম্প্রতি এই বইটির ডাচ এবং স্প্যানিশ অনুবাদ, হল্যান্ড ও মেক্সিকোতে প্রকাশিত হয়ছে। এছাড়া রুই কোয়িয়াস কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন। পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, ইতালি, রোমানিয়া, ম্যাসেডোনিয়া ও ব্রাজিলে তার বিভিন্ন কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, তুরস্ক ও সুইজারল্যান্ডে তার কাজ উপস্থাপন করেছেন। এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য উৎসব এবং সাহিত্য সভায় তিনি পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

 

Rui Cóias was born in Lisbon. He is graduated in Law from the University of Coimbra, has a postgraduate degree in Legal Sciences, a Jurist, and also studies Philosophy.

He is the author of the books The Function of the Geographer and The Order of the World. In 2016 was publisghed in Portugal his last collection of poems: Europa, that includes, among others, a series of texts based on the Great War 14-18, more specifically in the Battle of the Somme of 1916, written in the occasion of a fellowship awarded by the French Ministry of Culture and Communication. 

This book was recently published in Mexico and Holland with translations to spanish and dutch. 

Rui Cóias is also published in Belgium (La Nature de la Vie) and in France (L`ordre du monde). 

He has also written some essays. In his work, the distinctions between time and space, between the personal and the impersonal, are imprecise. In the background it is all a vast territory through which travel and travel in space and time establish connections with the landscape and memory, in a project of definition and naming of the intelligible world. A happiness, however uncertain, fleeting, is always within reach, or within our retreat, and we also, at all times, pursue the dark beauty of the world. 

He has also published in several anthologies and publications in Portugal, Slovakia, Italy, Romania, Macedonia and Brazil. He has also presented his work in Switzerland, France, the United States, India and Turkey and represented Portugal in several important festivals and literary meetings, like for exempla at Hyderabad Lit Fest and Apeejay Kokata, in India. 

He is also part of the Portuguese authors that integrate the web platforms: Poetry International Web (Rotterdam), Poems from the Portuguese (Portugal) and Lyricline (Germany).

He has a travel and literature blog, and lives in Lisbon.

 

 

৩।

এমন কিছুই নেই যার কোনও শুরু নেই ।

এমনকি দূরের, একটি স্বচ্ছ প্রজ্বলিত আলোক বিন্দু,

সীমাহীন মহাশূন্য অঞ্চল,

অজানা সমুদ্র থেকে প্রবাহিত বালি,

আমরা কেবল ভাবি সেই পর্যন্ত যা আমাদের অনুভূব্য ।

যদি লিভিনিয়ার মাঠ গুলি মাসুরিয়ার মাঠ পর্যন্ত এগিয়ে যায়,

যদি উষ্ণ স্নান জলে টাইলস গুলো মসৃণ হয়,

এবং আরও; কবরস্থান অনুসরণ করে কবরস্থানকে

এবং তারই মধ্যে, বাতাসের অভাবে বার্চের বন স্থবির দাঁড়িয়ে থাকে,

যদি সূর্য জলপাই তেলের কিরণ হয়ে কামড় দেয় রুটির উপর

কিংবা বিক্ষিপ্ত বজ্র ভাঙে এলসিনরের দেয়ালের উপর,

যদি মৃত্যুর গল্প সর্বত্র একইরকম হয়,

সান্তা মারিয়ার বাঁশির মধ্যে হতে বা তাল্লিন বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে হতে যেখানেই হোক

এই কারণে আমরা সুরেকে এক জায়গায় আন্দোলিত করি যা ধীরে প্রবাহিত হয়

অন্যত্র থেকে।

এমনকি অনিচ্ছাকৃতভাবে, অথবা সম্ভবত এটা ধাবমান প্রতিচ্ছায়া,

সম্ভাবনা এবং বিচক্ষণতা আমরা বনন করি তবে তা একটি সারির চেয়ে বেশি নয়

একটি স্রোতের সাথে যা আমাদের সবাইকে নিয়ে চলে, বিচ্ছিন্নভাবে,

সবচেয়ে সংবেদনশীল চূড়ান্ত উত্তরণে।

এমনকি খুব শ্রম দিয়ে আমরা যদি স্থানগুলো আলাদা করি,

বুঝতে পারি তাদের বিস্তৃতি, পথের বাক এবং গভীরতা,

- তারমধ্যে সাদৃশ্য, তারা যা, আর আমরা তাদের যা ভাবতাম,

এমনকি বিস্তৃত সারিগুলি বিভক্ত সমগ্র অঞ্চল জুড়ে,

যেখানে রাত্রি নেমে আসে ল্যাভেন্ডারের গায়ে,

আমরা অনুসরণ করি একই গল্প - আমারা পা ডোবাই একই কাদায় ।

তার মধ্যে যা আমাদের বারবার ডোবাতে চায়

যাই হোক না কেন আমারা ব্যাকুলভাবে পেতে চাই পরের জন্য যা আসে ও চলে যায়

আমারা হাত দিয়ে মসৃণকরি ওক গাছ, আমরা লিখি তার বাকলের উপর,

আমাদের পূর্ব প্রজন্মের মতো, আমাদের বাঁধানো নাম, আমাদের ভালবাসা,

আমরা ক্রমাগত ফিরে আসি সেই বিন্দুতে যেখানে সবকিছুর পুনরাবৃত্তি এবং শুরু হয়,

আমরা যার নিছক একটি মিনিট উপলব্ধি করতে পারি - তাৎক্ষনিকভাবে,

এই বছর এবং পরবর্তী বছরের মধ্যে ধারালো মধ্যস্থতার।

 

3.

Nothing exists that hasn’t had a beginning.

Even in the distance, a clear lit speck,

in territories stripped from all limits, on

sands that flow from unknown seas,

we only contemplate the extent of what we perceived.

If fields in Livonia lead to fields in Masuria,

if tiles are smoothed in tepid bath waters,

and further on graveyard follows graveyard, and 

in their midst, inert in the lack of wind, the birch wood stands,

if the sun is the flame of the olive oil crumbling the bread 

or the chipped lightening on the walls of Helsingør,

if the death plot is everywhere the same,

be it in the Santa Maria flute or in the Tallinn concertina

it is because we modulate in one place what has seeped from another.

Even unwillingly, or perhaps it’s the shadows on the move,

we weave no more than a row of chances and discretions

along a current which takes each one of us, separately 

to the most sensitive final passage.

Even if laboriously we detach the places, 

detailing their diversions and extremes

– the similarity between what they are and what we thought they were, 

even throughout regions intersected by extensive trains,

where night will fall in scales of lavender,

we’ll follow the same story – we sink our feet in the same mud.

In that which repeatedly sucks us in,

as we yearn for whatever comes to pass further in the next cove 

smoothing with our hands the oak trees on whose bark we inscribe,

like others before us, our sinuous names, our loves, 

we constantly return to the point where all is repeated and begun,

of which we grasp a mere minute – an instant,

the blade mediating between this year and the next.

 

মুল পর্তূগিজ থেকে ইংরেজি অনুবাদ: আনা হডসন

বাংলা অনুবাদ: ফাল্গুনী ঘোষ ও তারিক সামিন

© English Translation: Ana Hudson

Bengali Translation: Falguni Ghosh and Tareq Samin

  

দুঃসহ দহন।

তারিক সামিন।

 

()

তিনি সরকারী অফিসের একজন পিয়ন। তার সামনের চেয়ারে বসে আছি প্রায় দুই ঘণ্টা। তিনি টেবিলের নিচে পা ছড়িয়ে, শরীর এলেয়ে বসে আছেন। তার চোখ দুটো বন্ধ। মনে হচ্ছে মহাজাগতিক কোন ধ্যানে ব্যস্ত।

তবুও ভীরু মনে সাহস করে একবার ডাকলাম, ‘রাজু ভাই, আমার ফাইলটার কি খবর?’

দুর মিয়া বিরক্ত করেন নাতো, স্যার নাই, সই হয় নাই। অন্য দিন আসেন। রোজা রাইখা মানুষের এতো প্যাঁচাল ভাল লাগে না।

তারপর ধমক দিয়ে বললেন, ”টাকা ছাড়া সরকারী অফিসে কোন কাজ হয় না। যান! অযথা ঘুর ঘুর করে লাভ নাই।

খুব কাছের টেবিলে বসে আছেন রাজু ভাইয়ের সহকারী। তিনি আমার কানে কানে ফের বললেন, ”মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা! এত কষ্ট করে বারবার আসার কি দরকার?”

হ্যাঁ অনেক কষ্ট করেছি, গত কয়েক মাস ধরে সুপ্রিম কোটের উল্টো দিকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হেড অফিস থেকে মিরপুর দুই নম্বরে নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সর্বত্র সীমাহীন দুর্নীতি ঘুষের কারবার। যেখানে যাই সেখানেই একই কথা, ঘুষ ছাড়া সরকারী অফিসে কোন কাজ হয় না।

 

রাজু ভাইয়ের পাশের টেবিলের যুবক কম্পিউটার অপারেটর। বেশ লম্বা-চওড়া স্বাস্থ্যবান মানুষ। আমার কাছে আপাতত মহামানব এর ন্যায় মূল্যবান মানুষ রাজু ভাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ’রাজু ভাই চলেন থাইল্যান্ড যাই। থাই মেয়ে গুলার নরম হাতে; দিনে দুই বার করে এক সপ্তাহ ম্যাসেজ নিয়ে আসেন, শরীরের ম্যাজ-ম্যাজানীটা কেটে যাবে।

দুর মিয়া আর দুঃখ বাড়ায়ে নাতো! সারা দিন দোকান খুইলা বসে আছি, কাস্টমার নাই। টাকা না হলে থাইল্যান্ড যাবো কি দিয়া!, ঘরের পুরাণ বউ দিয়াই চালাতে হবেবলে রোমান্টিক একটা হাসি দিলেন তিনি।

রোজার মাস না, তবুও তিনি নফল রোজা রেখেছেন, এমন ভাল মানুষের মুখে এমন কথা শুনে সত্যই খুব আশ্চর্য হলাম।

অবশ্য এমন সব ভাল মানুষের দেখা গত কয়েক মাস ধরে অহরহ হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি দেখেছি রোজার মাসে। তখন সরকারি অফিসে ঘুষের রেট বেড়ে যায়। নামায় পড়ে এসে টুপি খুলে বলবে, ’সামনে ঈদ, টাকা বেশি দিতে হবে, আগের রেটে কাজ হবে না। নইলে ঈদের পরে আসেন।

ঘুষ দুর্নীতিবাজদের মতো জঘন্য পাপাচারী কিছু মানুষ যখন ধর্ম সৃষ্টিকর্তার নামকে ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করে, তখন মনটা শিউরে উঠে!

 

 

( )

ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে দিলে, সুড়ত করে কাজটা হয়ে যাবে, জানি। তবুও আমি দেব না। আমি দেখতে চাই, এদেশের দুর্নীতির বীভৎস রূপ। লেখক হিসেবে, আমি জানতে চাই, কি রকম দুঃখে বা সুখে আছে এদেশের মানুষ।

জীবনে বহু বার সরকারী অফিস গুলোতে ঘুরে ঘুরে আমি জীবনকে গভীরভাবে বুঝতে শিখেছি। আমারই মতো, অন্য সব মানুষের মতোই দেখেতে অথচ কি নিচু, লোভী অসৎ মানুষ এরা। এদের সীমাহীন দুর্নীতি শোষণ আজ পাকিস্তানী বা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শোষণকেও হার মানিয়েছে।

 

ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটি, বাংলায় জাতিয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সংক্ষেপে সবাই বলে হাউজিং। এখানে দৈাড়াচ্ছি বাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে। বৈধ মালিকানা কাগজপত্র থাকার পরও ঘুষের হিসেবে পাঁচ লাখ থেকে সাত লাখ লাগবে।

একজন মানুষ কিছুটা ব্যতিক্রম পেয়েছিলাম, তিনি আমার ফাইলের রিসিভার ডেপুটি ডিরেক্টর এর পি.এস। প্রথম প্রথম বেশ কয়েক দিন ঘুরালেন। তারপর বললেন, ”বুঝছি কবি সাব। আপনার টাকা নাই, ঠিক আছে, আমি আমার কাজ টুকু করে দিমু। আপনি দৌড়ে দৌড়ে বাকি কাজটা করে নেন। এখানে টাকা না দিলে ফাইল হাজার বছরেও নড়ে না। তবুও, আপনার জন্য আমি এইটুকু করবো।ভদ্রলোক পদ মর্যাদায় একজন পিয়ন। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। এখানে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সবারই কম বেশি অঢেল সম্পদ।

বাংলাদেশে সরকারী অফিসে ঘুষের রেট বাধা।

আশেপাশের পিয়নরা চিৎকার করে উঠতো, ”তুই আর দেশী মানুষ, আর কাছ থন দশ হাজার টিহা নিলি, হেতেরে মাগনা দিলি কেন?”

ভদ্র লোক বলতো, ”আমার ইচ্ছা! ভাই একজন কবি মানুষ, হের টাকা-পয়সা নাই। হেতে এই দুয়ার, ওই ঘুরতেছে। আমি টাকা নিমু না.. ”

চোখের পানি অনেক কষ্টে লুকাতাম! তবে কিছু দিন পর তিনিও বদলে গেলেন। হাজার নষ্টের মধ্যে একজন ভাল মানুষ টিকে থাকতে পারে না।

একদিন পর ফাইল সাইন হয়ে গেল। খুশি মনে ডিরেক্টর সাহেবের অফিসে দৌড়লাম।

ডিরেক্টর এর পি.এস. একজন ধূর্ত মহিলা, দুর্নীতি বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী। পাঠক হয়তো ভাবছেন, মহিলার ব্যবহার খুব খারাপ! মোটেও না, তিনি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে আপনার ফাইল মাসের পর মাসে আটকে রাখবেন। আজ স্যারের মন খারাপ, স্যার ফাইল ধরছেন না, আজ স্যারের মিটিং, আজ স্যারেরইত্যাদি ইত্যাদি। এই দেখেই বুঝি কবি গুরু বলেছিলেন, ”পুরুষ বাধে শিকলে, নারী বাধে আফিমে।

 

()

এরপর গেলাম মেম্বার এর কাছে। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী- সরকারের অতিরিক্ত সচিব। সবাই বললো, তিনি একটা সাইন করতে নেন চল্লিশ হাজার টাকা। একটা সাইন করতে, পাঁচ সেকেন্ড সময় লাগে। পাঁচ সেকেন্ডে চল্লিশ হাজার টাকা আয়! এমন অসাধারণ প্রতিভাধর মানুষ দেখার আমার খুব শখ হলো। তার পারসোনাল সেক্রেটারি কে অনেক ধরে কয়ে সাক্ষাৎ নিলাম।

অতিরিক্ত সচিব সাহেব একজন খর্বকায় মানুষ। তাতে কি? জাপানীরা কি বেটে নয়? তবুও-তো তাদের বিশ্বজুড়ে প্রশংসা। ইনিও জাপানিদের মতো, নিজের ভাষার প্রতি তার অঘাৎ মমতা। কথা বলেন, একদম খাটি আঞ্চলিক ভাষায়। আপনের নাম কি? বাপের নাম কি? এভাবে কথা শুরু করলেন তিনি। কথা প্যাচাচ্ছেন তো প্যাচাচ্ছেনই। যার অর্থ খুব সোজা! আমার পি.এস.কে টাকা দাও, না হয় কেটে পড়। কিন্তু আমি নাছোড় বান্দা, সহজে হাল ছাড়ি না। এই মহামানবের(!) সাইন না পেয়ে সত্তর ঊর্ধ্ব বয়স্ক মানুষ জনাব কলিম উদ্দিন সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে যেতে দেখেছি।

সেদিনই বুঝ ছিলুম!, এরা আমাদের কবি বা লেখকদের মতো এতো সস্তা লোক নয়! যে, কেউ অটোগ্রাফ বলে একটা সাদা কাগজ বাড়িয়ে দিলে, আমাদের প্রাণটা আনন্দে ভরে উঠে। কত রকমের শুভেচ্ছা বানী লিখে একটা অটোগ্রাফ দিয়ে দেই। একটা একশ টাকার বই বিক্রি করে কবির লাভ ওটাই, অটোগ্রাফ! প্রকাশক তো এক-পয়সাও দেয় না।

এরা বড় মানুষ! অনেক শিক্ষিত! অনেক মেধাবী!(?), বিসিএস পাশ! তাইতো বলি বি.সি.এস পাশদের চাকুরীর কোটা নিয়ে এতো রক্তারক্তি হয়ে গেল কেন? এরা আমাদের প্রভু, আমরা এদের দাস। মোগল, পাকিস্তান, ব্রিটিশ চলে গেছে এদের রেখে গেছে। এখন এরাই আমাদের মতো অকেজো, অভদ্র, ইতর জনগণকে শাসন করে আমাদের ধন্য করছেন!

আমার কাগজ-পত্রে কোন গোলমাল নেই। কত আর প্রশ্ন করবেন, কত আর ঘুরাবেন! আমার পাশে এক ভদ্রলোক তদবিরে বসে আছেন। তার জমির পরিমাণ অনেক বেশি, তাও আবার গুলশানে এবং সম্ভবত বড় কোন ঘাপলা আছে। পি.এস. স্যারকে দ্রুত তাগাদা দিলেন। ইশারায় বুঝালেন, আমার সাথে কথা সংক্ষিপ্ত করতে। আমিও চট করে বড় বড় দুই-তিন জন আমলা লেখকের নাম বলে দিলাম। বললাম তাদের সাথে আমার খুব ভাব, ইয়ার দোস্ত মানুষ! স্যার বিরক্ত হয়ে ঘচ্ করে একটা সাইন মেরে দিলেন। বিশ্বাস করুন পাঠক, এতটা আনন্দ হলো, মনে হলো স্যারের পা ছুঁয়ে সালাম করি। চল্লিশ হাজার টাকা বেঁচে গেল। মনে দারুণ আনন্দ। আমার দোয়ায়(!) অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ভদ্রলোক চেয়ারম্যান অর্থাৎ সর্বোচ্চ পদে প্রমোশন পেয়ে গেলেন।

 

()

নিজ জাতির এমন বীভৎস, কদাকার রূপ দেখে মাঝে মাঝেই আমার ভেতরটা কেঁদে উঠে। দেশের স্বাধীনতার জন্য কত লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। নির্যাতিত হয়েছে কত মানুষ। আমার নিজের পরিবারই সয়েছে কত অত্যাচার, দুঃসহ দরিদ্রতা, প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনা। অথচ সেই স্বাধীন বাংলাদেশ আজ কতিপয় দুর্নীতিবাজ আর ক্ষমতা লোভীর কারণে শোষক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।

একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন, স্ব-জাতিকে বঞ্চনা-মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মৃত্যুকে হাসি মুখে মেনে নিয়ে ছিলেন আমার মেজ চাচা। আমার বাবা ছিলেন যুদ্ধ বন্দি। আরো এক চাচা মুক্তিযুদ্ধে আহত অবস্থায় কত কষ্ট পেয়ে ধুকে ধুকে মরেছে। তাদের সবারই স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর স্বাধীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার। আজ স্বাধীন দেশে চারদিকে সীমাহীন দুর্নীতি।

আমার মেজ চাচা ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সুবেদার। আব্বা নায়েব সুবেদার ছোট চাচা ল্যান্স নায়েক। তিন ভাই সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে, সেই সুবাদে গ্রাম জুড়ে তাদের ছিল অনেক সম্মান। তবুও, পরাধীন দেশের বঞ্চনা সহ্য হয়নি তাদের! ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পূর্বে পাকিস্তান থেকে ছুটি নিয়ে এসে মেজ চাচা পরিবারের সবাইকে ডেকে বলেছিলেন, ”শেখ সাহেবরে ভোট দাও। বাঙ্গালী দুর্দশা মুক্ত হবে।চাচার তখন পাকিস্তান ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সে পোস্টিং। কোথায় এদেশের খবর পাকিস্তানীদের দেবে! তা না করে সবাইকে বলছে, ‘শেখ সাহেবরে ভোট দাও। বাঙ্গালী দুর্দশা মুক্ত হবে।

সেনাবাহিনীর লোক গুলো এমনিতে রাগী কিন্তু ভেতরটা সহজ-সরল। এরা সিভিলিয়ানদের মতো কৌশলী না। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জয়ের পর। এবার মেজ চাচা বললো, ”১৯৭১ মার্চে বড় কোন অপারেশন হবে, তোমরা সবাই সতর্ক থেক।সত্যই ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ কাল রাতে ভয়াবহ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চললো। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ছোট একটা দল চলে এলো টাঙ্গাইলে, আমাদের গ্রামে। চাচাকে স্যালুট করে বললো, ঢাকায় বড় ধরনের গণ্ডগোল হচ্ছে, আপনাকে দ্রুত হেড কোয়াটারে রিপোর্ট করতে হবে।

বাড়ীর সবাই মেজ চাচাকে বললো পালিয়ে যেতে। তিনি বললেন, “আরে বাদ দাও! আমি কি কোন অন্যায্য কথা বলেছি নাকি? আর এই সব সৈনিকরা তো আমার চেনা-জানা। এদের সাথে আমি কত রুটি মাংস ভাগ করে খেয়েছি। এরা আমার কোন ক্ষতি করবে না।চাচা চলে গেলে। এরপর হতে তার কোন খোঁজ নেই। তার ইউনিটের এক বাঙ্গালী সৈনিক মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে খবর দিয়েছিল, ”স্যারকে ওরা অনেক অত্যাচার করে মেরেছে। তারপর তার লাশ পুরিয়ে ফেলেছে।

ভদ্রলোক আমার আম্মাকে বলেছিল, ”দ্যাখেন ভাবি, আমার একটাও দাঁত নেই। নখ উঠাইয়া ফেলছিল, আবার গজাইছে। টর্চার সেল থেকে পালিয়ে ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলাম। তাই খবর দিতে এত দেরি হয়ে গেল।

সবার ঘরে যুদ্ধ জয়ের আনন্দ। আমাদের বাড়ীতে বিষাদের কালো ছায়া। বাবা পাকিস্তানে বন্দী। রেডক্রস এর মাধ্যমে ইংল্যান্ড হয়ে ছয় মাসে একটা চিঠি আসতো। তাতে একটা খবর জানা যেত তিনি বেচে আছেন। এভাবে চললো তিন বছর। তারপর পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবন্দি চুক্তির বিনিময়ে ছাড়া পেলেন। চোখের সামনে, কত হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযুদ্ধ তৈরি হলো। পৃথিবী জুড়ে প্রিজনার অব ওয়ারদের সন্মান জানালে হলেও, এদেশের সৈনিক, যারা যুদ্ধবন্ধী ছিল; তাদের আজো কোন সন্মান জানায়নি বাংলাদেশ। ছোট চাচা, (পাঁচ নম্বর চাচা) কহিনুর কাকা। মুক্তিযুদ্ধে পালিয়ে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, ধরা পরার পর বেদম মারধরের কারণে আমৃত্যু আহত, দুর্বল হয়ে, কষ্ট পেয়ে ধুকে ধুকে মারা গেলেন। মেজ চাচার কষ্ট, বাবার কষ্ট আমি দেখিনি, এই সব আমার মায়ের মুখে শোনা। আমার জন্মের বেশ আগের ঘটনা। কিন্তু কহিনুর কাকার সেই দুঃসহ কষ্ট পীড়িত জীবন আমি দেখেছি।

মুক্তিযুদ্ধ এদেশের বহু পরিবারকে হত-দরিদ্র করেছে, নিঃস্ব করেছে, তবুও মানুষ দেশের স্বার্থে সব সয়ে নিয়েছে। কিন্তু জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃক পক্ষর অফিসে বসে একটা অনুভূতিই বার বার হয়েছে। ভুল, সবই ভুল! এত কষ্ট, এত অশ্রু, এত কান্না। সব আত্ম-ত্যাগ সবই বৃথা!

Page 5 of 19

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree