Literary Editor

।।প্রেম।।

 

দিক নেই।

তোমার কাছেপিঠে একটা বক বসে থাকে।

তার উড়ে যাওয়ার ডানা নেই।

সেও আমারই মতো তোমাকে দেখার ভেতর বেঁচে আছে।

বেঁচে থাকবে আরো কতো কাল!

তার সাদা রং, ভুলে গেছে,

মাস্তুল বেয়ে উঠে আসে যে সকাল,

সেখানে মাছেদের খেলা।

সীমান্ত ডিঙিয়ে আসে উদবাস্তুর শব।

 

আমি বসে আছি তোমার ঘরের ভিতরে,

তোমার মনের ভিতরে।

 

কম্পাস দিকভ্রান্ত, 

ভুল বার্তা ভুলভাবে ছড়াতে ছড়াতে আজ,

সে বড়ো ক্লান্ত!

ভুল পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণে বারবার ফিরে আসি।

আমার পৃথিবী ছেড়ে কী মোহে

পড়ে থাকি তোমার উঠোনে! বোঝো না!

আমিও বুঝি না।

-- আমি প্রেমিক না'কি পাখি!

কে মহান? 

---ভালোবাসা না'কি শুভ্র দুটি ডানা!

 

 

।।ধর্ম।।

 

আলোটা ছিলো না, এই যা।

নচেৎ তোমাকে ঠিক আলোতেই ভালোবাসতাম।

শরীরে পুঙ্খানুপুঙ্খ যে খরা ও বাদলের রূপটান খেলে যায়

তাকে নিয়ে চলে যেতাম লম্বা ছুটিতে।

 

আলোটা ছিলো না।তাই রোজ শরীরে খুঁজেছি আলো,

শরীরে খুঁজেছি মেঘ।

আলোটার খোঁজে তোমাকে কী নিবিড় ভালোবাসি আমি!

 

 

।।দাসত্ব।।

 

পশুখাদ্যের জন্যে এখানে আলাদা কোনো ঘাসের চাষ হয়না।

কেবল পশুরা পায়ের কাছে ঘুরঘুর করে।উচ্ছিষ্ট খায়।পশুর সাথে সঙ্গম করে পশু।

 

গ্রামের অনতিদূরে ট্রেড ইউনিয়নের ভাঙাচোরা বর্ণমালা, 

ছাই রঙা আকাশ থেকে কার যেন আর্ত চিৎকার ভেসে আসে।

 

খামারবাড়ির পাখিরা নিয়মিত ঘুম থেকে ওঠে,

নিয়মিত ঘুমোতে যায়।

 

গ্রামের নিউক্লিয়াসে একটা শহরকে ইনজেক্ট করছে রাষ্ট্র

 

পশুদের বাচ্চারাও পশু, 

মাথা তুলতে পারে না, পায়ে পায়ে ঘুরঘুর করে।

উচ্ছিষ্ট খায়।

চালাকি

নওরোজ নিশাত

 

শরীরের একটা অঙ্গ 

বিকল করে দিল 

বেঁচে থাকার কোন সম্ভাবনা থাকলো না আর জীবনে।

হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন আর ইচ্ছে খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম যার মধ্যেই।

 

গহন মনের  অন্তরালে বিরাজ করছিলো

কে জানতো আগে ।

সে ছিল বিকৃত অসুস্থ মস্তিষ্কের।

বুদ্ধির বিচার করে যখন

আমি করি আবেগের।

 

ভিন্ন ধারার বই নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সাহিত্যসভা

সম্মানিত অভীক গঙ্গোপাধ্যায়

 

২৬শে অগাস্ট, ২০১৮, রবিবার, সকাল ১১টা থেকে ২টো, কলকাতা প্রেস ক্লাবে চেতলা অঙ্কুর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল ব্যতিক্রমী লেখক অভীক গঙ্গোপাধ্যায়ের চারটি ভিন্নধারার বই নিয়ে একটি আলোচনাচক্র। অনুষ্ঠানটিকে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সাহিত্যসভা বললেও অত্যুক্তি হবে না―কারণ, সভার চারজন বক্তার মধ্যে দু’জন ছিলেন ভারতের এবং দু’জন বাংলাদেশের।

 

এখানে উল্লেখ্য অভীকবাবু ৩০টি বইয়ের লেখক এবং সম্পাদক―যে বইগুলির বিষয়বৈচিত্র্য, কৃষ্টিভাবনা, শিল্পতত্ত্ব, সাহিত্যতত্ত্ব থেকে শুরু করে ভাষা, সমালোচনা সাহিত্য, এমনকি ভারততত্ত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিরাট পরিসরে এই পরিমাণ কাজের স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন সারা বিশ্ব থেকে। ২০০২-তে অভীক গঙ্গোপাধ্যায়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “লাইব্রেরি অফ পোয়েট্রি” থেকে, কবিতা নিয়ে তাঁর কাজের জন্য দেওয়া হয় “এডিটরস চয়েস অ্যাওয়ার্ড।” ভাষার মৃত্যু, ডায়াস্পোরা ও অভিঘাত সাহিত্য, ভারততত্ত্ব প্রভৃতি স্বকীয় বিষয়ে তাঁর গবেষণালব্ধ কাজের জন্য তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন, স্কটল্যান্ডের “এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়”, জার্মানির “হেনরিখ হাইনে বিশ্ববিদ্যালয়”, ফ্রান্সের “সরবয়েঁ বিশ্ববিদ্যালয়”, কানাডার “ইন্দো কানাডিয়ান ডায়াস্পোরা কনফেডারেশন”, “সেন্টার ফর রিভাইটালাইজেশন অফ এনডেঞ্জারড ল্যাঙ্গুয়েজেস”, বাংলাদেশের “রাঢ় ও বরেন্দ্র ভাষা সংস্কৃতি চর্চা পরিষদ”, “বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি”, ভারতের “বরদা সিদ্ধি পীঠম” প্রমুখ প্রথিতযশা প্রতিষ্ঠান থেকে।

 

এছাড়াও অভীকবাবুর বই এবং তাঁর লেখকসত্তা নিয়ে “দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া”, “দ্য হিন্দুস্তান টাইমস”, “দ্য স্টেটসম্যান”, “আনন্দবাজার পত্রিকা”, “বইয়ের দেশ”, “সাপ্তাহিক বর্তমান”, “এই সময়”, “একদিন”, “ডেইলি অবসার্ভার” (বাংলাদেশ ও ফ্রান্স), “বাংলাদেশ পোস্ট”, “ঢাকা রিভিউ” ও অন্যান্য প্রথম সারির পত্রপত্রিকা, ই-জার্নালে অনেক আলোচনা, সাক্ষাৎকার, নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

এই মাপের একজন লেখকের রত্নসমৃদ্ধ পুস্তক-সায়র থেকে চারটি নির্বাচিত গ্রন্থ নিয়ে প্রেসক্লাবের উক্ত অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল। বইগুলি হল―“ভাষার মৃত্যু”, “ডায়াস্পোরা অ্যান্ড ট্রমা লিটারেচার”, “সং অফারিংস অ্যান্ড গীতাঞ্জলী” এবং “সরস্বতী”। অনুষ্ঠানের বিগদ্ধ আলোচকবৃন্দ ছিলেন বাংলাদেশের নতর্দ্যম  বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরাজি ভাষার অধ্যাপক আহমেদ তাহসিন শামস, ভারতীয় শিল্প এবং সঙ্গীতের স্বতন্ত্র গবেষক ডঃ অভিজিৎ মজুমদার, তুলনামূলক সাহিত্য এবং ভারততত্ত্বের স্বতন্ত্র গবেষক শ্রী জয়দীপ মুখার্জি এবং বাংলাদেশের সাংবাদিক ও সাহিত্য সমালোচক নাজমুন নাহের শিশির। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন মৌলানা আবুল কালাম ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির অধীনস্থ জর্জ কলেজের মিডিয়া সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপিকা সোমা দত্ত।                  

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম বক্তা আহমেদ তাহসিন শামস অভীকবাবুর দু’টি গ্রন্থ―“ভাষার মৃত্যুঃ লুপ্ত ও বিপন্ন ভাষার খোঁজ” এবং “ডায়াস্পোরা অ্যান্ড ট্রমা লিটারেচার” নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য মূলতঃ ছিল অপেক্ষাকৃতভাবে স্বল্পালোচিত বা অনালোচিত কিছু আন্তর্বিভাগীয় বিষয় সম্পর্কে অভীক গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশেষ গুরুত্ববহ কাজ নিয়ে। এই ধরণের গবেষণায় অভীকবাবু ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব, সাহিত্যের নৃতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়কে নিখুঁত নৈপুণ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর স্বকীয় ভাবনায়। এই সূত্র ধরেই বক্তা অভীকবাবুর উক্ত গ্রন্থদ্বয়ে ভাষার মৃত্যু, যে ভাষাগুলি হারিয়ে গিয়েছে তাঁর প্রমাণ এবং লিপি, ভাষার পুনরুজ্জীবন এবং সারা বিশ্বজুড়ে বাস্তুহারা, ছিন্নমূল মানুষের অভিঘাতের তথ্যসমৃদ্ধ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখের কথা আলোচনা করেন।

এই গম্ভীর এবং মর্মস্পর্শী বিষয়ের অনন্যসাধারণ আলোচনার পর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় বক্তা ডঃ অভিজিৎ মজুমদার, অভীকবাবুর সম্পূর্ণ ভিন্নধারার একটি কাজ নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাখেন―“সং অফারিংস অ্যান্ড গীতাঞ্জলী”। বক্তা নিজে একজন সঙ্গীত গবেষক হওয়ার দরুণ সাঙ্গিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি এই কাজের বিশ্লেষণ করেন এবং দেখিয়ে দেন কীভাবে অভীকবাবু রবীন্দ্রনাথের এই যুগান্তকারী সৃষ্টিকে, স্থানান্তর-সৃষ্টিতত্ত্বের ধারণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে রবীন্দ্রগবেষণায় এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছেন। অভীকবাবু পরে এই প্রসঙ্গে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধুমাত্র বাংলা থেকে ইংরাজিতে তাঁর কাজের অনুবাদই করেন নি, সাথে নতুন ভাষায় তাঁর সৃষ্টির পুনর্জন্ম ঘটিয়ে সেগুলিকে স্বকীয় মর্যাদা দিয়েছেন।”

 

 

অনুষ্ঠানের তৃতীয় বক্তা শ্রী জয়দীপ মুখার্জি, অভীকবাবুর আরেকটি ভিন্নধারার বই নিয়ে আলোচনা করেন “সরস্বতীঃ প্রত্নতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক, নান্দনিক প্রেক্ষিত”। ভারততত্ত্ব গবেষক জয়দীপবাবু তাঁর এই আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “সরস্বতী”-র দ্বিতীয় সংস্করণে দু’টি নতুন তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে অভীকবাবু প্রচুর তথ্যপ্রমাণ সহ “আর্য আক্রমণ তত্ত্ব” নামক এক বহুল প্রচলিত মিথ্যা তত্ত্বকে সফলভাবে খণ্ডন করে আলোতে নিয়ে এসেছেন বহুবছর ধরে অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা এক ঐতিহাসিক সত্যকে। প্রাচীনকালে কোন বিদেশী জাতি আক্রমণ আর গণহত্যা করে ভারতের সভ্যতা-সংস্কৃতি সৃষ্টি করেনি। নদীর জন্যই ভারতে প্রস্তর যুগ থেকে সভ্যতার যুগে উত্তরণ। প্রাকৃতিক কারণে অধুনা হারিয়ে যাওয়া সেই নদীই সরস্বতী, যাকে কেন্দ্র করে একসময় গড়ে উঠেছিল “সরস্বতী সভ্যতা”।

অনুষ্ঠানের অন্তিম বক্তা সাংবাদিক ও সাহিত্য সমালোচক নাজমুন নাহের শিশির, সাম্প্রতিককালে অভীকবাবু বিভিন্ন ই-জার্নাল এবং পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন ধ্রুপদী সাহিত্য গ্রন্থ নিয়ে যে বিদগ্ধ আলোচনা করছেন, সেই নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি দেখিয়ে দেন কীভাবে এতো পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা হওয়ার সত্ত্বেও, শুধুমাত্র অভীকবাবুর স্বকীয় উপস্থাপনার গুণে, সেগুলি শুধু অ্যাকাডেমিক মহলেই নয়, সাথে সাধারণ পাঠকের মধ্যেও উৎসাহ সৃষ্টি করে জনপ্রিয় হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে, অভীক গঙ্গোপাধ্যায় স্মৃতির সরণী বেয়ে, তাঁর এই সাহিত্য চর্চা, গবেষণা এবং এত স্বকীয় কাজের দীর্ঘ যাত্রাপথের কথা স্মরণ করে সবাইকে সমৃদ্ধ করেন। বক্তাদের স্মারক দেবার পাশাপাশি অভীকবাবুর হাতে International Language Preservation & Endangered Language Alliance প্রদত্ত “Certificate of Honor” তুলে দেন আহমেদ তাহসিন শামস।

  

আলোচক : দীপ চ্যাটার্জী 

রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ এবং ভারতীয় সংস্কৃতি বিষয়ে

উৎসাহী আলোচক। অধ্যাত্ম দর্শন ও সমাজবীক্ষার     

পাশাপাশি বঙ্কিমী-শৈলীর যথার্থ প্রয়োগে বুদ্ধিদীপ্ত

সরস ব্যঙ্গরচনায় সুলেখক পাঠকমহলে এক পরিচিত নাম।

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

আয়োজনে : চেতলা অঙ্কুর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল ইন্সটিটিউট, কলকাতা

।।।।

 

‘Sleep, that deptorable curtailment of the joy of life.’

ওল্‌ফের পারিবারিক ইতিহাসে মানসিক প্রতিবন্ধকতার উদাহরণ থাকলেও আত্মহত্যার উদাহরণ নেই। এক সৎ প্রতিবন্ধী বোন কিছুদিন তাঁদের সঙ্গে থাকলেও স্থায়ীভাবে তার সঙ্গে অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু ১৩ বছর বয়সে মার মৃত্যু ও তার দুবছর পরে সৎ বোন স্টেলার মৃত্যু এবং ২২ বছর বয়সে বাবার মৃত্যু তাঁকে মাঝে মাঝেই বিষাদগ্রস্ত করে রাখত। এই সময় এবং এর কিছুদিন আগে থেকেই ওল্‌ফ এবং তার বোন ভানেসা তাদের সৎ ভাই জর্জ ও জেরাল ডাকওয়ার্থের যৌন নিগ্রহের স্বীকার হতেন। আধুনিক জীবনীকারদের পাশাপাশি ওল্‌ফ নিজেই তাঁর আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধ ‘আ স্কেচ অফ দ্য পাস্ট’-এ নিজেই জানিয়েছেন। ব্যবহারের পরিবর্তন তাঁর সামাজিকতা ও সামাজিক সম্পর্কগুলোকে যে কতটা বিঘ্নিত করে সে সম্পর্ক তিনি সচেতন। ‘ব্লুমস বেরী গ্রুপ’-এর দিকপাল চিন্তাবিদদের সান্নিধ্যে তিনি আসেন--লিটন স্ট্র্যাচি, ক্লাইভ বেল, রুপার্ড ব্রক-এঁদের সঙ্গে intellectual repertoire-এ তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই গ্রুপেরই লিওনার্দ ওল্‌ফকে তিনি বিয়ে করেন, দুজনে মিলে হগার্থ প্রেস প্রতিষ্ঠা করেন, এবং নিজেরাই উপন্যাস প্রকাশের দায়িত্ব নেন। তবে একজন ইহুদিকে বিয়ে করার জন্য মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তার ও উৎকন্ঠার জায়গা প্রশস্ত হত। ১৯১২ সালে বিয়ের ২৫ বছর পর ডায়েরিতে ওল্‌ফ লিখছেন : ‘আমাদের দাম্পত্য জীবন এত সম্পূর্ণ যে কোনো মুহূর্তে একজনকে আলাদা করে ভাবা যায় না--সবচেয়ে বড়ো কথা হল, স্ত্রী হিসেবে কেউ আমাকে চায় এই আনন্দ।‘ স্বামী স্ত্রী দুজনেই জানতেন তাঁরা হিটলারের ব্ল্যাক লিস্টে রয়েছেন। তবে ইহুদিদের সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল মিশ্র। ইহুদিদের সহনশক্তির প্রতি যেমন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন আবার উন্নাসিকতার সমালোচকও ছিলেন। একটা চাপা ফ্যাসিবাদের ভয় তাঁদের মধ্যে প্রবাহিত ছিল। কিন্তু তার লেখার মধ্যে সর্বপ্রথম স্থান পেয়েছে যা, তা হল ঘটনা ও চরিত্রের বৈশিষ্ট্যহীনতা, দৃশ্য ও শব্দের প্রাচুর্য, এক গীতিকাব্যিক মাধুর্য, অস্বাভাবিক চরিত্রের বিরলতা। অনেক সমালোচক ওল্‌ফের লেখার মধ্যে উচ্চমধ্যবিত্ত ইংরেজ বুদ্ধিজীবী সমাজের অতিরিক্ত প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু খুঁজে পান না। তার ‘আ রুম অফ অয়ান্স’ (১৯২৯) ও ‘থ্রি গিনিস’( ১৯৩৮) প্রবন্ধগুচ্ছ যুদ্ধ, আক্রান্ত হবার যন্ত্রণা, শ্রেণীগত চেতনা, মহিলা লেখকদের ও বুদ্ধিজীবীদের আইনগত ও অর্থনৈতিক সমস্যা, শিক্ষা ও সমাজ, মেয়েদের ভবিষ্যত দীর্ঘ আলোচনার ক্ষেত্র জুড়ে রয়েছে। 

মনোবিজ্ঞানীরা ও মনস্তাত্ত্বিক সমালোচকদের কয়েকটি বক্তব্য লক্ষ্য করার মতো:

প্রথমত আত্মহত্যা সম্পর্কে ওল্‌ফের মন্তব্য, দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন আলাপচারিতায় আত্মহত্যার গুরুত্ব নিয়ে ওল্‌ফের প্রতিফলন, তৃতীয়ত, সমস্যার সমাধানের বা পরিত্রাণের ভাবনায় আত্মহত্যার স্থান ও গুরুত্ব। এ কথা সঠিক যে ওল্‌ফ তিরিশের দশকে বন্ধু সুরকার ও গীতিকার এথেল স্মিথকে লিখেছিলেন,

“আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কি কি যুক্তি আছে, জানিও তো।...আমি জানতে চাই--‘এখানে সবকিছু শেষ করে দিই’-এই বোধটার বিরুদ্ধে যুক্তিটা কি?’’ (৩০ অক্টোবর,১৯৩০)। এর ছয় মাস পরে ২৯ মার্চ, ১৯৩১-এ আবার ওই প্রসঙ্গে লিখতে দেখা যায়। কোনো এক আয়োজনের শেষে, বাড়ি ফিরে, লিওনার্দের উদ্দেশ্যে লিখছেন : ‘If you weren’t here, I should kill myself-so much do I suffer.’’। দশদিন পরে ৮ এপ্রিল বিয়াত্রিচ্‌ ওয়েবকে আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা করতে শুনে তাঁকে লেখেন : ‘I wanted to tell you but was too shy, how much I was pleased by your views upon the possible justification of suicide. Having made the attempt myself, from the best of motives as I thought--not to be a burden on my husband--the conventional accusation of cowardice and sin has always rather rankled.’

আত্মহত্যা ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের এক চির আকর্ষণের বিষয় ছিল। খুব নৈর্ব্যক্তিকভাবে সুস্থ অবস্থায় আত্মহত্যা নিয়ে ভাবতেন। অতীতের আত্মহত্যার সুপ্ত ইচ্ছাকে যুক্তি দিয়ে সমর্থনের প্রয়াস করে যেতেন। আত্মহত্যার হিতবাদী ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের সান্ত্বনা খুঁজতেন। মৃত্যু তার বড়ো হওয়ার মধ্যে যেভাবে উপস্থিত,আর শিল্পীর তীক্ষ্ণতায় তা এতই ভাস্বর যে তার বর্তমান সব সময় অতীতের বাস্তবে বিঘ্নিত হতই, যা কাছের মানুষের অধরা থেকে যেত : ‘Each has his past shut in him shut in him like the leaves of a book known to him by his heart, and his friends can only read the title.’

 

 

 

।। ।।

 

‘Life is not a series of gig lamps symmetrically arranged; life is a luminous halo, a semitransparent envelop surrounding us from the beginning of consciousness to the end.’

তাহলে ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের আত্মহত্যার রহস্যময়তা জীবন ও সৃজনের অতিরিক্ত কোনো দিকে আমাদের কি নিয়ে যায় না?

আত্মহত্যা মূলত দু ধরণের-একটি প্রথাগত, অপরটি ব্যক্তিগত।

সাধারণভাবে জীবনকে একাকীত্ব, ঘৃণা, প্রতিশোধ, ভয়, শারীরিক যন্ত্রণা, অপরাধবোধ, অর্থনৈতিক অবনমন, জীবনবিমুখতা বা এই ধরণের তীব্র মানসিক সংবেদনশীল অনুভূতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে মানুষ আত্মঘাতী হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে আত্মহত্যা করে, সে মানসিক রোগী হয়,যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সে বিব্রত ও বিচলিত। এ সবের পরেও বলা যায়, শিল্পীর সংবেদনশীলতা অনেক সময় কি তাদের psychic censor-কে দুর্বল করে দেয়? কিন্তু ওল্‌ফের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যাও প্রযোজ্য নয়।

এ কথা বলে শেষ করা যায় যে ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের মতো বিদুষী, বুদ্ধিমতী, যুক্তিবাদী, রোমান্টিক, তীক্ষ্ণ আত্মসচেতন অভিজাত নারী, প্রথম সারির কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক, মনস্তত্ত্বে গভীর জ্ঞান, উনষাট বছর বয়সে অনুভব করেছিলেন তাঁর শিল্পীসত্তার মুছে যেতে থাকা উদ্দীপক--যাকে বাদ দিয়ে তাঁর thinking, feeling, willing, অস্তিত্ব, চেতন-সত্তা আর তিনি চিনতে পারছিলেন না। মনস্তত্ত্বে যাকে নিরবচ্ছিন্ন আত্মউদ্দীপন বা continuous self-stimulation of an artist বলে, সেই স্বতোৎসারিত উদ্দীপন ও তার থেকে নিঃসৃত কল্পনার স্রোত যখন স্তব্ধ হতে শুরু করে, তখন সেই identity crisis বা সত্তার সঙ্কটকে কেউ কেউ মেনে নিয়ে বেঁচে থাকতে চান না। যেমন ধরা পড়েছে ইংরেজ কবি স্যামুয়েল টেলার কোলরিজের কবিতায় তাঁর ‘ডিজেকশন : অ্যান ওড’ কবিতায়, হয়তো ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের অব্যক্ত যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি শোনার চেষ্টা করা যেতে পারে, ‘unroused’ মুহূর্তের প্রকৃতি ধরা পড়ে-

This night, so tranquil now, will not go hence unroused by winds

কোলরিজের ‘dull pain’ ওল্‌ফের ভেঙ্গে পড়া ‘বিটুইন দ্য অ্যাক্টস’-এর অসংলগ্ন ‘বেদনাহীন তড়িতাহত’ শোকের মতো; চেষ্টা করেও বুঝতে পারছেন, কিন্তু অনুভবে কথনকে সিক্ত করতে পারছেন না। একেই কোলরিজ ভাষা দিয়েছিলেন :

 

My genial parts fail;

And what can these avail

To lift smothering weight from off my breast?

It were a vain endeavour…

 

তাই ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ তাঁর শেষ লেখাকে ‘silly and trivial’ বলে চিহ্নিত করে বলেছিলেন ‘must be scrapped’। একসময় এই জগতের সব সমস্যাকে সৃষ্টির অন্তরমহলে জায়গা দেওয়া যেত :

 

       There was a time when though my path was rough,

       This joy within me dallied with distress,

       And all misfortunes were but as the stuff

       Whence Fancy made me dream of happiness:

       For hope grew round me, like the twining vire

       And fruits and foliage, not my own, seemed mine.

       But now afflictions bow me down to earth…

                                     (Dejection: An Ode)

সৃষ্টিশক্তি হারাবার শূন্যতা, ‘Reality’s dark dream’ ওল্‌ফ সহ্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর এই মনে হওয়াটা কতটা সঠিক, তা ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করবে। তিনি মানসিক রোগী ছিলেন না। মনরোগ বিশেষজ্ঞরা হতাশা, বেদনা, বিষাদকে মানসিক রোগ অন্তত বলেন না। ভেঙ্গে পড়া একটি মানসিক লক্ষণমাত্র। কিন্তু আত্মহননকে অনেক ক্ষেত্রে নিজের পরম শত্রুকে হত্যার এক পদক্ষেপ হিসাবে মনস্তাত্ত্বিক চিহ্নিত করেন। ওল্‌ফের শত্রু কে ছিলেন? তবে কি সৃষ্টির শেষ আলোতে দেখা নিজের নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার শূন্য সত্তাকে হত্যা করতেই তাঁর আত্মহত্যা ?

 

তথ্য ও উদ্ধৃতি সূত্র :

   

        দ্য ডায়েরি অফ ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ(১০৫ খন্ড,১৯১৫-১৯৪১)

        প্যাশানেট অ্যাপ্রেনটিস : দ্য আরলি জার্নালস (১৮৯৭-১৯৪১)

        দ্য লেটারস অফ ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ,১৮৪৪-১৯৪১(১-৬ খন্ড,১৯১৫-১৯৪০)

        দ্য প্ল্যাটফর্ম অফ টাইমঃ মেমোয়ার্স অফ ফ্যামিলি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস : এডিটেড বাই   এস.পি.রোসেনবস্‌ কালেকটেড এসেজ (১-৪ খন্ড)

        দ্য কমপ্লিট মরটার ফিকশন (১৯৮৫)

        দ্য অয়ার্কস অফ স্যামুয়েল টেলার কোলরিজ

        সুইসাইড, ক্যাভান রুথ

        সুইসাইড অ্যান্ড মাস সুইসাইড, এ.এম.বুস্ট

        ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ-এর উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ প্রাথমিকভাবে সবই তাঁদের প্রতিষ্ঠিত হগার্থ প্রেস থেকেই প্রকাশিত হয়।

 

দ্বিতীয় পর্ব :

‘নিরর্থক প্রহসনের ইতি’ : ভারজিনিয়া ওল্ফ - ২

 

প্রথম পর্ব:

‘নিরর্থক প্রহসনের ইতি’ : ভারজিনিয়া ওল্ফ - ১

 

Swedish Literature Week

Poems from Sweden

 

 

 

 

 

 

 

BENGT BERG was born in 1946 in Torsby, Värmland, Sweden. He studied German and Nordic languages & Literary and Art studies at Uppsala University. He worked as a freelance writer and translator since 1975. Berg was a Member of the Swedish Parliament from 2010 to 2014.

Since 1990, Bengt has operated the publishing house, Heidruns Förlag, and an Art Café in his home village Fensbol near Torsby in the Province of Värmland.

Bengt Berg’s debut poetry collection, Where the Dream Ends, appeared in1974; and since then he has written more than thirty books, mostly poetry. His poems have been translated into Nordic languages, as well as Arabian, Hebrew, English, German, Dutch, Greek, Romanian, Spanish, Turkish, Polish, Russian, Latvian, Vietnamese, Bangla, Hindi and Malayalam. In 2014, he published his Collected Poems, Dikter genom 40 år.

He has participated in many poetry festivals, including Medellín (Colombia), Granada (Nicaragua), Struga (Macedonia), and Druskininkai (Litauania), Nisan (Israel), Jan Smrek Festival (Slovakia), Kritya (India), Târgul Festival de Poezie (Romania), Poetry on the Road (Bremen, Germany), Kathak International Poets Summit (Bangladesh), FIP-LIMA(Peru) among others. Berg has won several Swedish Literary prizes, among them some from The Swedish Academy.

   

Characteristics:

Bengt Berg’s poems ”are full of humor and warmth, and characterized by sharp insights into the oddities of people and situations. With time he has become more and more aware of form —without sacrificing other merits — and his poems appear at times to have been written by an Eastern master.” In his poetry the author offers experiences learned in life blended with curious observations of daily realities. Humour is woven into the poems but Berg has also explored themes that are unusual for this genre. In his programs before live audiences, Bengt Berg is a humorist with a serious side, a performer who gladly stretches the boundaries between different art forms and traditions in poetry. These public appearances contribute to the fact that his books enjoy unusually high sales on the Swedish market.

 

 

 

Too Many Poems Are not

 

There are so many poems

to discover, poems not

yet written. They hide themselves

here and there: in toolboxes

among screws and nails, screwdriver

and hammers – an oily poem

has curled up in here like an iron caterpillar

or in the linen closet,

among all the sheets and pillowcases

that smell white, there lies

– almost invisible to the naked eye –

a white feather for writing

about peace on earth and freedom

for the imprisoned.

 

Yes, even the freshly baked

bread that you are eating

is a hiding place for small poems

that go unnoticed, unsung;

they sing quietly for themselves

when they finally reach the stomach

 

Too many poems

have nowhere to live

no one who wants to care for them,

give them words to eat, rhymes to sleep in,

lovely vowels to play with

when the evening comes.

too many poems

have to live in wastepaper baskets,

abondoned like wilted wildflowers

they want to lie in your pocket,

feel your warmth,

listen to your voice

when you speak, laugh and cry

They want to be written by your pen,

they want to be read by your eyes

and when it rains

they want to get as wet

as you.

 

(Translation Tim Phillips)

 

 

 

  

Bengt O Björklund

The artist, journalist, photographer, poet, musician and editor Bengt O Björklund was born in Stockholm 1949. In 1968 he landed in jail in Istanbul for $ 20 worth of hash and met a bunch of international artists, poets and musicians. It was then he embarked on his artistic voyage as well as learning to cook, do yoga and generally get a life.

The source of his inspiration in Turkey was his Japanese friend, the artist Koji Morrishita and the Italian artist, poet, and Dadaist Antonio Rasile.

The character Erich in the movie Midnight Express is based on Bengt.

Bengt has published 8 books of poetry, three are written in English. 

Bengt was recently awarded a Sweden Beat Poet Laureate by the National Beat Poetry Foundation Inc.

 

 

I, You and Me.

 

Down sized by moon and light fading

I the memory of all I am

recede in green beckons of turmoil

never looking back nor grieving

the sadness of this world

 

ruminating hollering yet still

I the proof of nothing more than passing

hanker with the best of our time

just to make sure I matter

at the close of any day

 

redeemed so many times

uncounted for by the illustrious

the ones squeezing

all they can from the sweat

of the unfortunate ones

 

I am the shining orange

at the abysmal border control

the bright light in a look

cast across a confused universe

where I will never concede

 

streams of solicited dare

and a different kind of courage

that I will not grant nor care for

roll like a cockerel flood

in times of no better judgement   

 

read me not in times of no hope

dream me not when death is a bell

tolling above the silent surf

know I was here and I knew

this was it

 

even I

 

 

 

 

 

The Swedish poet Kristian Carlsson was born in 1978 and lives in Malmö. He writes both in Swedish and English. Since his debut in 1996, he has published more than 40 books, mainly poetry and conceptual writings. In addition to that Carlsson has translated about 30 books, such as Swedish selections of Etel Adnan, Anne Waldman, Valerie Solanas and Rabindranath Tagore, as well as the English anthology “Swedish Poetry Nowadays; An Anthology of 6 Poets in the 21st Century.” In 2018 Journeyman Books in Dhaka is publishing “A Languishing Chain of Presence” and “Covering for Language”, two English volumes of new and selected poems from his entire career. The Journeyman Books has also published a volume of poems by Kristian Carlsson in Bengal translation by Muhammad Samad. Carlsson is also filmmaker, literary curator and publisher.

 

PUBLIC DISCLAIMER

”The Batumi Poem” is not to be interpreted in relation to religion. It is a travel poem from Georgia, and relates to the widespread tradition of free range roadside cows in that country alone, where it is a custom within the culture of agriculture; in addition, the poem relates to the well known opening line of Allen Ginsberg's poem ”Footnote to Howl”: ”Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy! Holy!” – Kristian Carlsson.

 

The Batumi Poem

Kristian Carlsson, 2018

 

 

Unholy unholy unholy

roadside cows,

I agree

that I will agree.

Turning forty I have

wasted my talent

on early poems.

All this time

navigating by heart

to infiltrate the flipside

of language—

all the time put in densely

flowering fields

by the Poetry Dictator,

I need to chew my way down

to recover any soil.

At this state of mind

I run the Autonomous Republic

of Unfolding Language,

ruminate all beauty to its ruin.

 

Unholy unholy unholy

European highway cows,

all along the countryside mountainsides

of square tea-cozy houses.

Should I have had retired as early

as a ballet dancer, or dropped out

as if it were a school.

I am being detained

by the alphabet

in the cage of interpunctuation.

All the time bearded by

the same letters—

my old poems are expired passports

I can still travel on

only inside this cage.

 

Unholy unholy unholy

poet, your nothing but a

roadside cow.

At the end of poetry

there's nothing but

the beginning of language.

At the end of language

there's nothing but

the beginning of poetry.

 

The wall of heat—

a busy cloud

outsourced to

the transparency—

tweets in my face,

tweaks the back

of my head—

with the same cottony beak:

Write, write, write.

Confess to poetry,

tell your lewd thoughts,

may the letters break

every bone in your body

and bare them to this heat

unholy unholy unholy.

 

Poetry is the auctioning of new space

by sealed bids

where the reader spending most time

will build dreams.

So each morning I have to

be a full-fledged monologist again,

go find what dumpster

the alphabet lies in

wrapped as a stillborn child,

scrape the vernix out of

it’s unholy eyes and ears,

look at its grim features

until it speaks

in my own voice:

unholy the misery—

unholy the smile—

unholy the predicament—

unholy the holy—

unholy unholy unholy

roadside cow.

 

I furnish this poem

with the open grave

of my past decades

where I am to lie

only if I'm ready to spit on it.

I sit patiently

practicing my moo,

participating in my moo,

swallowing everything

but my moo.

I write my moo down

to tell it to myself.

There’s no poetry

where limitations set the limits,

there’s no poetry

where the expectations set the limits—

if a poem scares you

it becomes your god,

if you reject or refuse it

it becomes your god

unholy unholy unholy.

 

The stillborn child

has arisen

ravaging my memory

for the placentas

of my two children

being brought to life.

Poetry is all what is seldom seen

of the body.

The poem lends its body

to a white sheet of paper

so that the splints of forgone trees

turn unholy again.

Unholy unholy unholy

roadside cows,

I agree

that I will agree.

Less than poetry

was expected of life

and even less remains.

To the young I am old,

to the old I am young—

I have nothing to hide behind.

I sit patiently

paraphrasing my own moo.

 

 

 

 

 

Peter Nyberg (born 1974) is a poet and editor in chief for Populär Poesi, a magazine on poetry. The poems are from Palliative Care (2016). 

 

A social champion

 By Peter NYBERG

 

During the trip, he appears to be curious

asking about fellow passengers backgrounds,

reasoning about things they find interesting

and knows things about their hometowns,

favourite writers and athletes.

He does not become a fly around their eyeballs

like I do.

 

His morals are impeccable says someone.

On principle, he has no frame schedule at school.

He runs the municipality´s football team and its youths.

He writes articles about politician´s laziness in the local newspaper,

and knows everything about literature but without being an eccentric

like I become.

 

One summer, he helps me move house,

consoles when the dust under the sofa swirls up

and climbs into the cabinet when a lamp falls.

The second load and we are sweating when he

says he is driven by fear and

must control his environment and

therefore perceived as social but

deep in, he is antisocial

like I am

 

 

 

 

Karin Brygger is a poet and translator, a cultural journalist with her hometown Gothenburg as her base. She released her first book of poetry 2006 and 2018 she released a book of essays on the Jewish history of Gothenburg. During the fall 2018 her first translation of a novel will be on the market. Karin Brygger is specificly interested in Jewish history and identity. She is the mother of 3. The presented three poems are from a forthcoming book. The translations by Freke Räihä have been revised by the author.

 

*

All too rough edges is solace like Russian, a soft calling. Something to cry out for at night when expensive feathers fall from the Danish designer lamp and down onto the bedlinen. A wound can spread horizontally or vertically, or heal, or cease using willpower, medicinal intervention. If I really thought the truth would set me free I would be talking to you about my doubts.

If I believed in solace it would really interest me.

And if night entered my house without pardoning I would place its scornful faces beneath the lamp, so that clearer they would be.

 

What about the willow trees, you would surely object, are you not going to use them? The birches?

Will you not –

If I knew for what, yes.

If I only knew which bridges broke –

 

   Met once a bridge, laid its pillars on a paper

   folded the river. A stretch remained.

   Paced it back and forth, kilometre after kilometre.

   What can I say?

   Relations are just that difficult to fathom.

 

*

 

Two summers in a row she took her mother to Moldavia where roses flaunts. They walked the narrow path. The green gave way. A custodian showed up rake in hand. The twelve foot high monument, where her great grandfather and great grandmother and their sisters and brothers who all disappeared during the war all had their names inscribed, was carved out like a branch-less tree, in limestone. The custodian hummed gently: I painted it green…

It turned out that he had wanted to protect it against vandals, anti-Semitism and the young addicts.

During the second visit they made an attempt to transfer the stone’s pattern onto a piece of muslin and now the stone’s surface will be embroidered on a veil before the turn of the year.

It is she that introduced me to a certain kind of glass buttons. Precision blanc. All of hers are black and green but mine will be black and red. I have no burial-ground to visit, no roses, nowhere to lay my stones. In lieu I show them to you. That is all.

 

*

 

If I think about it I break. You could almost hear the creaking of the branches, like during thunder. But when I lay my brow against the floor the night is silent.

 

That is my shame.

 

It is immense and I carry it badly. It is my constitution, that is weak. A Loon shrieked. The scream ceased. There are still people who still choose the Loon. I lay awake thinking of them, of the letter from Natalie, the one I received last spring. She wrote so sadly about being unlovable. Why did she write that?

I think about my letter to you: “My best sport is hope!”

You are asleep now. I failed my mission. I try: you had a blue sweater around noon. You showed me everything you have done. We drank carbonated water straight from the tap. I stood still behind your back and watched your neck. I did it again. Stood there. The neck had a sunburn. You gave me a pen. I have placed it beneath the mattress. What are you dreaming about?

Your days are not like mine. Of course you sweat like I sweat. But I am frantic and absent-minded, I day-dream, look everywhere for things to give to you. Chestnuts, acorns, apples. One day we will sit beneath the Redwoods, whose rounded tops never dies. Their age counted in rings, their flesh named as heartwood, I know this. I have read up on this. We are eating apples.

 

But that silent night I sat quiet and watched the rain falling over the tin roofs. I never learn that inside me there is always something that is falling. It hurts.

 

 

From Stillness (Stillhetens sträckta halsar, 2002) by Mats Söderlund as translated by Olivia Olsen.

 

 

 

 

Mats Söderlund made ​​his debut as a poet in 1992 and was awarded The Swedish Writers’ Union’s prestigious Catapult Award for best literary debut. He has won numerous literary awards and scholarships as a poet and is regarded as an unrivalled nature poet. Söderlund often describes himself as “a forester from the north” with roots deeply entrenched in the Nordic folklore and the Northern narrative tradition where not everything can be explained. Since the debut, he has released nine more collections of poetry, most recently Årorna i Flocktjärn (The Oars in Flocktjärn) 2016. Göra Kärlek (Performing Love) a long essay on masculinity, gender equality and sex was published in 2012. Söderlund’s first novel, Observatoriet (The Observatory), was published in May 2013. It’s a story about a vulnerable boy growing up in a small village in north of Sweden. In 2018 Mats published the first two parts in a fantasy trilogy on climate change, Ättlingarna (The Descendents). Mats Söderlund was Chairman of the Swedish Writers’ Union between 2005 and 2012 and he holds a degree of Bachelor of Science in Social Work.

 

 

 

 

 

 

Olivia Olsen is a writer, translator and teacher based in Stockholm, Sweden. She holds a BA in Literary Translation and an MFA in Literary Arts from Brown University, where she taught fiction to undergraduates. Her translation from the Swedish of poetry collection Homullus Absconditus by Magnus William-Olsson was published by O'Clock Press in 2015, and her latest writing can be found in Black Warrior Review. She is currently at work on The Acrobats, a novella.

 

*

 

 

with life, with voice and life, with silver and cold, these

bodies that enter me and are me and are the forest

and the very breaths and are the sounds that rise from

me and the smells I emit and are the taste

of silver and iron in my mouth, a voice from the forest deep

 

 

my body, a voice that plays

over stems and roots

and sheds its longing

over the leaves’ desire, my movement

a distance built into the strength

 

 

to go outside a morning like this

when the church bells ring

out over the district

as a warning

as a guide

 

 

a solace for those who wander

in its sound you are a stream

the full chime

of courage to forge

ahead a day like this

 

 

out a morning like this

when the songs of the dead

echo through the land

the still, redtrembling

land of berries

 

 

land of moss

and moor

where you have learned to bear

where you have learned to follow paths

between homes and cabins

 

 

between cabins and nothing

paths that seem to lead into nothing

but gather from out there

the roaming souls of the dead

between nothing and

 

 

when you are here

you’re one of them and

when you listen

to my story

it's their words you hear

 

 

the mist, the leaves, the bristle of mosses and patterns of stars

in one another in me and in you and we are these voices

this running water and five swans that

bound tight drag their wings in red sinking skies

and in spite of all this a gaze a recollection and you turn

 

 

and you turn again and it’s me and it’s you

and we turn and the swans rise onto their feet

and beat their sails like ships they rise

and stretch across constellations their tongues their throats

their roars of jealousy of devotion and return here

 

 

to the pondwater, the mistenveloped land,

the scenes of pineslopes, marshes and birchwoods,

how you become still how you listen to their broken throats

when they call your name, when they return

and you listen to the writings of their wings when

 

 

you see their beaks wide open and their tongues how they

work they circle the land and return

and their eyes shine and you step out onto

the veranda and you call here they come and want

someone to confirm your memory and your child and the

 

 

movements in you that are the climbing shadows of the dead

that you sing and hear the white wingbeats

that you cannot help but sing

their wounds and memory's

 

 

 

From When it happens it is already done

(Venaröd förlag, 2017), by Cecilia Persson, as translated by Freke Räihä.

 

  

 

 

 

 

Cecilia Persson (born 1967) is an author, poet and literary critic residing in Lund. Debuted in 2003 and has since been published with seven books and two translations of Syrian poets. She holds a five-year writer’s scholarship from the Swedish Writer’s Fund.

 

*

 

The Reconciliations

 

I

 

I am writing to you about who I was:

3788 hours on the phone

575 e-mails

93 articles

4 books

476 bags of groceries

132 boxes of groceries

340 tins of Swedish snus

160 packets of cigarettes

27 bouquets of flowers

14 infections

2 heart attacks

102 proclamations of love

43 broken promises

37 dreams of travelling

77 cancelled travel plans

and then I am grateful

for the seven others

who knows who I was

when you deny

who I was

 

IV

 

And now we have not talked to each other for a month

I have left fifty-two messages on your

answering machine

written hundreds of letters

out into the void

about what a cruel human being you are

and that I regret every second

I spent with you

When a good friend considerately emphasises

that anger could be a suppressed sorrow

I tell her to go fuck herself as well

 

V

 

I drove the bed to the city dump

and threw all the memories of you into the container

among all the other used furniture

people got sick off

and exchanged for new ones

 

I stood there spitting and hissing and screaming:

“You, you son of a bitch, you stupid mother fucker!”

and all turned quiet

except the women applauding and squalling:

“Get that bastard. He got it coming.”

The short revenge of women

their disposable lives

in black plastic

 

 

 

 

 

 

 

Ms Jenny Wrangborg (born 1984) is a cook and a poet. She lives in Stockholm and have for the last 14 years been working in kitchens in Sweden, Canada and Norway. Her poetry and prose concerns working conditions in the restaurant industry, solidarity and shortcomings of the struggle to unionize a sector of the economy where few of the workers are organized and the employers are ruthless. The collection Kallskänken (The kitchen) released in 2010, was a huge success, praised by readers and critics alike. 2015-2017 she was the chairman of the Association of Working-Class Writers.

 

Works:

Kallskänken (The kitchen), 2010

Vad ska vi göra med varandra (What should we do about each other), 2014

 

 

 

War alarm

have you heard coffee cups bang against coffee cups
the murmur of an attacking army
standing with your stomach leaned against the bench
with hands building shrimp sandwiches and feet
aching from the weight
pulled between
the roar of freezers
and the screams of the cash-line
in today’s
race against the clock
inexorably ticking past the lunch break
beneath the sizzle from the coffee machine
the pop music from the speakers
families, children screaming on the terrace
to the tweet from the microwave ovens
the machine gun clatter of the order frequency
and the juice presser that presses the last few drops
out of us

 

The black eye

She was the strongest of women; mother of two, waitress,
won everyone’s respect with her skills with the drunks in the bar.

She filled in the extra hours when others left the apron on the counter and
asked the manager to go to hell. Was there when people were hospitalized,
attended funerals, fled the authorities.

She was divorced and struggled with pick ups, exchanges, day shift, night shift,
overtime and restraining orders.

When she came to work with a black eye and the manager got to see
her battered face, he said that she should not bring her problems to work.

He could not have her working when she looked like that and if it happened again
she was not welcome back.

 

I am a human being

I am also human
I need food on the table
a job to go to
dignity
I am not invisible

I am also human
I will break if you send me to war
I will rot if you leave me in a trench
I am fragile goods

I am human
my legs ache after eleven hours between cashier and
kitchen
the headache screams after a whole day in a steep-hot kitchen

the human in me says that it is unreasonable
to earn money for someone else
I am not a machine

I am not invisible
I am the one who takes your money at the gas station
building the car you drive, the being that you send off to war
who rots away in your trenches

I am not invisible
I cook for you and your fine dining
clean your houses
take care of your parents
I am so close

I am fragile goods
it hurts when I fall from scaffolds
slip on the greasy floor
lift the old
my body has no spare parts
because I am not a machine
you can not buy a new one, because you can not buy me

the human in me says that you can not claim my surplus value
because nothing is more valuable than humanity
you can not call me to the office and exchange me for a
faster model
because I am not a machine

I am a human being
I am so close

 

 

Three poems from Överlevorna (Schildts & Söderströms, 2018) by Matilda Södergran, as translated by Freke Räihä.

 

  

 

 

 

Matilda Södergran (born 1987) is a Finland Swedish poet and translator living in Sweden. Överlevorna (2018) is her fifth book.

 

 

p. 29

 

There was blood and it gathered around the heart.

Boundless comprehension, what do you want?

 

The curse of compliance.

The wreath of pain around the conversation.

 

The aversion will come here disguised as reason.

 

p. 73

 

Marbled cut surface. Pork-white bliss.

Cut it, and it shall slip from the knife.

Are we this way?

 

We are a-coming and a-coming and advocate each other,

able to each others well being

 

Sometimes I am close to bare, minced,

kindred the courage standing in growth in me.

 

p. 107

 

Remember the mouth, as left behind with me.

Clear, sweet rind.

 

There will be a scorn inscribed in the word assured.

To be inside what was fought for. To settle in that this, in short,

 

shall be seen as the truth.

 

Obviously carried, carried here by a friend.

 

 

 

 

 

Freke Räihä is a poet, translator, literary critic and essayist living in Sweden. This poem is from the 2012 book Nomos (Smockadoll förlag). Two books of poetry are available in English and 15 in Swedish.

 

 

THE SEA AND THE WIND.

In tall grass against the bicycle wheel and falling high and falling low. It could have been a drop handlebar racer, a bmx; towards the sea. Towards walks along the sea. God threw everything I owned in the Baltic; I, but I had help. Sometimes help helped, sometimes it was just Öland; like music, ruins, the circus, trailer homes and the sand that hid anything of value: the I was absolved from all of its value. It was not summer, not at all. Most often it was hardened stones, purified from its sharpness by the sea. We were there, all. All. The sea does not hold any secrets any more, fear and obstacle alone; not in and not out of. The sea summarizes all relation, all weight; paper alone, permits.

।। ২ ।।


‘The eyes of others our prisons; their thoughts our cages.’
উপন্যাসের মধ্যে লেখককে অন্বেষণ করা, যাকে পরিভাষায় textual-biographical interpretation বলে চিহ্নিত করা হয়, আত্মহত্যার সূত্র খোঁজা যেমন অনেকটাই নিয়মমাফিক, তেমনই উপন্যাসে, গল্পে ও প্রবন্ধে আত্মহননের সূক্ষ্মভাবে প্রথিত বীজের অন্বেষণও নিয়মানুগ। ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ নিজেই লিখছেন : ‘Every secret of a writer’s soul, every experience of his life, every quality of his mind is written large in his works.’। মৃত্যুর ২০ বছর পর তাঁর স্বামী লিওনার্দ তাঁর ৫ খন্ড আত্মজীবনীতে (১৯৬০-১৯৬৯) ওল্‌ফের জীবনের শেষ বছরটির একটি পরিচয় দেন, যদিও নারীবাদী সমালোচকদের যে স্বভাবসিদ্ধ সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে ছিল, লিওনার্দের তথ্যভিত্তিক অনুপুঙ্খ বিবরণ সমালোচকদের প্রশ্রয় দেয়নি। স্ত্রীর ডায়েরি ও জার্নাল থেকে তথ্য উদ্ধৃত করে ওল্‌ফের শেষ ৩১৯ দিনের (১৩ মে ১৯৪০ থেকে ২৮ মার্চ ১৯৪১) একটি চিত্র তিনি তুলে ধরেন।১৩ মে ১৯৪০ তারিখে ওল্‌ফ নিজে তার জীবনীকার রজার ফ্রাইয়ের কাছে প্রকাশের জন্য প্রুফগুলি পাঠিয়ে দেন এবং লিওনার্দের মতে এই সময় থেকেই ‘slow-moving catastrophe’ শুরু হয়ে যায়। তবে নিজের মনের ওপর অধিকার আত্মহত্যার মাস দুয়েক আগে পর্যন্ত চোখে পড়ত। শুধু এপ্রিল ১৯৪০ থেকে জানুয়ারি ১৯৪১, যেসময় দক্ষিণ ইংল্যান্ডে যুদ্ধ বিমানের হানা ক্রমশ বাড়ছে, তখন অন্যদের মতো ওল্‌ফকেও খুবই উদ্বিগ্ন দেখাত। মে-জুন ১৯৪০-এ ওল্‌ফ তখন পরিচিত ও বন্ধুদের সঙ্গে জার্মান আক্রমণের পরিণতি ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনারত, কিন্তু উদ্বিঘ্ন। ওল্‌ফের উৎকন্ঠার একটা স্পষ্ট কারণ ছিলই। লিওনার্দ ইহুদি ছিলেন। নাৎসীদের হাতে পড়লে লিওনার্দের মতো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও বুদ্ধিজীবী ইহুদি ও তার স্ত্রীর কি দশা হবে তা অনুমানই করা যায়। ওলফ্‌ বলেই ফেলেছিলেন ‘We agreed that if the time came we would shut the garage door and commit suicide.’। তবে এই কথাটা ওল্‌ফের বলা বা লিওনার্দের উক্তি এ নিয়ে জীবনীকারদের মধ্যে দ্বিমত থাকলেও একটি ঘটনা থেকে অনুমান করা হয় যে হয়তো সিদ্ধান্তটি ওল্‌ফের : ১৯৪০ সালের জুন মাসে ওল্‌ফের মনোবিজ্ঞানী ভাই এড্‌রিয়ান স্টিফেন ওদের বাড়িতে মারণ ক্ষমতা সম্পন্ন পরিমাণের মরফিয়া দিয়ে যান, যাতে জার্মান আক্রমণ হলে এর ব্যবহার হতে পারে। জীবনীকারদের একটি ভাষ্য যে এই সিদ্ধান্ত এক দম্পতির যৌথ সিদ্ধান্ত, এবং তা প্রত্যক্ষভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন জার্মান আক্রমণের প্রেক্ষিতে নেওয়া, কখনোই ওল্‌ফের বিষাদগ্রস্ত আত্মহত্যার ভাবনার কোনো সূত্র নির্দেশক নয়। ওল্‌ফ কোনোদিনও সেই মরফিয়া ব্যবহার করেননি এবং নিজের জীবনও সেই মরফিয়া দিয়ে শেষ করেননি।
বাকি বছরটা কর্মময় ও সৃষ্টিশীল থাকলেও মাঝে মাঝে ইনফ্লুয়েঞ্জা, ব্রংকাইটিস ও অত্যধিক মাথার যন্ত্রণা তার স্বভাবের স্বাভাবিক স্থৈর্যকে মাঝে মাঝেই চুরমার করে দিত। নভেম্বর ১৯৪০-এ তিনি তিনটি লেখা একসঙ্গে লিখছেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর শেষ উপন্যাস ‘বিটুইন দ্য অ্যাক্টস’-এর খসড়াও শেষ করেন। কিন্তু এই সময় তাঁর লেখা বেশ কিছু চিঠির মধ্যে এক বন্ধু ডাক্তার অক্টোভিয়া উইলবার-ফোর্সকে তাঁর হতাশা ও আত্মসমালোচনার উল্লেখ করেন : ‘I have lost all power over words, can’t do a thing with them.’। এইসময় তাঁদের লন্ডনের বাড়ি এবং ব্যবসায়িক কেন্দ্র বিমান হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সেখান থেকে রড্‌মেলমঙ্ক হাউসে তাদের আসবাব, দরকারি কাগজপত্র এবং ছাপাখানার জিনিসপত্র নিয়ে আসা হয়। লেখক এলিজাবেথ বাওয়েন যখন ফেব্রুয়ারিতে ওল্‌ফের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তখন পুনরায় ইংরেজি সাহিত্যের একটা নতুন রূপরেখা পরে তৈরি করার ইচ্ছার কথা শোনেন। তখনও, বাওয়েনের মতে, অসুস্থতার চিহ্ন তার চোখে পড়েনি বরং ওল্‌ফের সরব হাসি তিনি স্মরণ করেন। লিওনার্দ ২৫ জানুয়ারি ১৯৪০ মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ চিহ্নিত করেন। সেদিন ওল্‌ফের জন্মদিন ছিল, উপন্যাসের খসড়াটি তিনি পড়েছিলেন কিন্তু নভেম্বরে শেষ করার পর যা বলেছিলেন, ‘I am a little triumphant about the book…I’ve enjoyed writing almost every page….’--একদম বিপরীত হয়ে উঠল সেই প্রতিক্রিয়া, তাঁর দৃঢ় ধারণা বইটি ব্যর্থতার একটি চূড়ান্ত নিদর্শন। জন্মদিনের দিন পড়বার সময় উপন্যাসটি নিয়ে তাঁর ভয় আরও বাড়তে থাকে, যে ভয় দশ বারোদিন পরে আবার মিলিয়ে যায়। লিওনার্দ সবসময়েই ওল্‌ফের কিছু ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেন। আত্মজীবনীতে লিখছেন, ‘বহুবছর ধরেই ভি’র(ভার্জিনিয়া) মনের গতিপ্রকৃতি ও অসুস্থতা-এর লক্ষণ ও বিপদে আমি অভ্যস্ত; আশঙ্কার লক্ষণগুলো সবসময়েই খুব ধীরে কিন্তু অবশ্যম্ভাবী হয়ে আসত--মাথাধরা ও যন্ত্রণা, ঘুম না হওয়া ও মনোযোগের চূড়ান্ত অভাব হওয়া।আমরা জানতাম যে এই ধরণের মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা যায় যদি ভি সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়ে নির্জীব হয়ে যায়। কিন্তু এবার কোনো লক্ষণ ছাড়াই অস্বস্তির সূত্রপাত।‘ যদিও ১৯১৫ সালে তার দীর্ঘতম অসুস্থতার সময় এরকম যে একবার হয়নি তা নয়।
ওল্‌ফের প্রতিষ্ঠিত ‘হগার্থ প্রেস’-এ তখন প্রতিষ্ঠিত লেখক জন লেহমেন কর্মরত। ওল্‌ফের লেখা শেষ কয়েকটি চিঠির একটি তিনি পেয়েছিলেন এবং মৃত্যুর তিন সপ্তাহ আগে তাদের দেখা হয়। ‘বিটুইন দ্য অ্যাক্টস’ উপন্যাসটির চূড়ান্ত খসড়াটি তাঁকে পড়তে দিলেও ওল্‌ফ তখন মোটামুটি নিশ্চিত যে কাজটা নিরর্থক হয়েছে। লেহমেন তাঁর রিকালেকশন বইতে লেখেন মার্চ ১৯৪১-এর সেই সাক্ষাৎকারের কথা : ‘একটা ব্যাপারে আমি খুব সচেতন হয়ে উঠেছিলাম যে ভার্জিনিয়া অস্বাভাবিক রকমের উদ্বিগ্ন ও ভীত, মাঝে মাঝেই হাত কাঁপছে যদিও কথা বলছেন স্পষ্ট ও গুছিয়ে। উপন্যাসটা হাতে নিয়ে তারপর একটু দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে বলে উঠেছিলেন, যে ওটা কিছুই হয়নি, ছাপার অযোগ্য, ছিঁড়ে ফেলাই ভালো। যদিও খুব ভদ্রভাবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে লিওনার্দ ওর কথার প্রতিবাদ করেছিলেন এবং এভাবে বলার জন্য সামান্য বকেওছিলেন...।‘ পড়তে গিয়ে লেহমেন পরে লক্ষ্য করেন যে এই প্রথম ওল্‌ফের নিজের টাইপ করা অদ্ভুত সব বানান বৈচিত্র্য। আগের যে কোনো লেখার চেয়ে অনেক বেশি অসংলগ্ন, বাক্য ও বানানে এক উৎকেন্দ্রিক সম্পর্ক--প্রতি পাতায় প্রচুর কারেকশন করতে করতে লেহমেনের মনে হয়েছিল যে, যে হাত এই লেখা লিখেছে তা ‘govern by high voltage electric current.’। আত্মহত্যার ঠিক আগের দিন আবার ওল্‌ফ উপন্যাসটি ছাপার অযোগ্য বলে যে চিঠি লেখেন তার সঙ্গে লিওনার্দের ছোট্ট একটি চিরকুট যুক্ত ছিল। ওল্‌ফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত, সুতরাং ওর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার ইঙ্গিত খুব স্পষ্ট ছিল। কিন্তু চিঠিটি লেহমেন যখন পান তখন সব শেষ। বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস, সাহিত্যের বিষয় ও প্রকরণগত দিক নিয়ে সক্রিয় আন্দোলনকারী ততক্ষণে বেদনা, বিষাদ ও এক অব্যক্ত ভয়ে নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলেছেন।

 

 

।। ৩ ।।


‘It is the nature of the artist to mind excessively what is said about him. Literature is strewn with the wreckage of men who have minded beyond reason the opinions of others.’
কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে লেখকের সৃজনশীল সত্তার পাশাপাশি,সূক্ষ্ম শিল্পবোধের প্রকাশের সঙ্গে আত্মহননের বুনোট চোখ এড়ায় না। ১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘মিসেস ড্যালোওয়ে’ উপন্যাস তাঁকে ঔপন্যাসিক হিসেবে যে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল তা মূলত তার interior monologue বা stream of consciousness শৈলিতে সফল পরীক্ষার জন্য। নিঃসঙ্গতা ও প্রেম এই দুইয়ের সমস্যাকে একান্ন বছরের এক নারীচরিত্র ক্ল্যারিসা ড্যালোওয়ের চরিত্রের চিন্তার প্রবাহ ধরে এগিয়ে পরিণতিতে দিনের শেষে এই চরিত্রের জানলা দিয়ে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যার মধ্যে দিয়ে শেষ। আসলে ক্ল্যারিসা ও তার স্বামী রিচার্ড ড্যালওয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে আয়োজনের জন্য ফুল ও অন্যান্য কেনাকাটায় লন্ডন শহরে বেরিয়ে, ক্ল্যারিসার চেতনার প্রবাহ অনুসরণ করে, তার অতীত, বর্তমানের ভেদরেখা মুছে, তৎকালীন সমাজের প্রাচুর্যের শৌখিনতায় বন্দী মহিলাদের ঝলমলে জীবনকে একটুকরো অন্ধকার কি করে গ্রাস করে নেয়, তার ব্যঞ্জনায় মুখর। পার্টি চলাকালীন ক্ল্যারিসার আত্মহত্যার সংবাদ, সকাল থেকে সন্ধ্যার এই একদিনের চরিত্রের চেতনার প্রবাহের মধ্যে দিয়ে জীবনের অর্থহীনতা, রহস্যময়তা, মানব সম্পর্কের জটিলতাকে যেভাবে বিবস্ত্র করে ফেলে, তখন আত্মহত্যা শিল্পগতভাবে আরোপিত হয় না, aesthetic compulsion মনে হয় না।
আবার ‘টু দ্য লাইট হাউস’ উপন্যাসেও (১৯২৭) একদল চরিত্রকে হেব্রিডিস দ্বীপপুঞ্জে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আপাত সহজ অথচ নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা জর্জরিত এক জটিল মানবিক সম্পর্কের আবর্তে ছেড়ে দেন। সচেতনভাবে এই উপন্যাসে, সাংকেতিক শব্দচিত্র, চরিত্রের চেতনার প্রবাহের সংলগ্ন অসংলগ্ন ভাষার ব্যবহার একদিকে সৃষ্টি ও স্রষ্টার যন্ত্রণা ও আনন্দকে যেমন প্রকাশ করে, অন্যদিকে ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ যে প্রথাগত উপন্যাসের সবকিছু ভেঙ্গে এগোচ্ছেন তা বুঝতে অসুবিধে হয় না। উপন্যাসের তিনটি পর্বের একটিতে একজন বয়স্ক কবি ও চিত্রকরের সৃষ্টির ব্যথা ও আনন্দ, দ্বিতীয়টিতে মানুষের মনে মৃত্যুর প্রভাবের ক্ষণিকত্ব, এবং তৃতীয় অংশে জীবনের নিঃশেষ না হয়ে যাওয়া উদ্যমের এক অদ্ভুত বৈপরীত্য উপন্যাসটিকে পঙ্‌ক্তিভুক্ত হতে দেয় না। এই দুটো উপন্যাস থেকেই ব্যক্তিজীবনের উপাদানের চেয়েও, অভিজ্ঞতার চেয়েও, সৃষ্টির স্বয়ংসম্পূর্ণতা অনেক বেশি লক্ষণীয়। আরও লক্ষণীয় ওল্‌ফের লেখক হিসেবে উদ্দেশ্যের একমুখীনতাঃ ‘If a writer were a free man and not a slave, if he could write what he chooses, not what he must...there would be no plot, no comedy and tragedy, no love interest and catastrophe in the accepted style.’
ব্যক্তিজীবনের স্থায়ী ক্ষত বা পরিবারের সকলের সাথে গ্রীষ্মকালের অবকাশের অভিজ্ঞতার পুঁজি দিয়ে ওল্‌ফের উপন্যাসের আলোচনাকে বিস্তৃত করা গেলে আত্মহত্যার ময়নাতদন্ত সম্ভব নয়। ১৯২৮ সালের ‘অরল্যান্ডো’ উপন্যাস প্রকৃতিতে জীবনীমূলক, তীব্র বিদ্রূপের আঘাতে প্রচলিত জীবনীকারদের ব্যঙ্গচিত্র, আবার ‘দ্য ওয়েভস’ (১৯৩১) আত্মকথন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ছয় বন্ধুর আবৃত্তিধর্মী আত্মপ্রতিফলন, গদ্য কবিতার আঙ্গিকে লিখিত। শেষ উপন্যাস ‘বিটুইন দ্য অ্যাক্টস’ (১৯৪১) তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হলেও লেখকের মূল ভাবনাগুলো যা সব উপন্যাসেই উপস্থিত তা পরিবর্ধিত আকারে প্রক্ষিপ্ত : শিল্পের মধ্যে দিয়ে জীবনের রূপান্তর, নরনারীর সামাজিক, ব্যক্তিক ও যৌন সম্পর্কের বৈপরীত্য,সময় ও জীবনের ক্ষণিকত্ব ও পরিবর্তনশীলতা-এ বিষয়গুলোর মধ্যে সংঘাত থেকে ধংসাত্মক পরিণতি, কখনো বা সৃষ্টির সামান্য স্ফুলিঙ্গ--যে কল্পনা কথনে সাংকেতিকতার সর্বোচ্চ প্রকাশ, তা সমালোচকদের মতে ইংরেজি সাহিত্যে দুর্লভ।

 

(চলবে) …

 

 

তৃতীয় পর্ব:

 

‘নিরর্থক প্রহসনের ইতি’ : ভারজিনিয়া ওল্ফ -৩

 

 

প্রথম পর্ব:

‘নিরর্থক প্রহসনের ইতি’ : ভারজিনিয়া ওল্‌ফ -১

 

 

Page 1 of 11

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree