হুমায়ূন আহমেদ এর ছোটগল্প ও আরো কিছু কথা।

07 June 2018
Author :  

হুমায়ূন আহমেদ এর ছোটগল্প ও আরো কিছু কথা।

-তারিক সামিন।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। লেখক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ এর সবচাইতে বড় সাফল্য বাংলাদেশের মানুষকে তিনি বই পড়া, বই কেনার অভ্যাস তৈরি করিয়ে ছিলেন। এমন বহু পাঠক আছে যারা তার প্রায় সব বই পড়েছেন, সেই সাথে কিনেছেনও বিস্তর। তার উপন্যাসের লিখন ভঙ্গি অসাধারণ। অল্প কথায় এমন হাস্যরস তৈরীর অপূর্ব ভঙ্গিমা বাংলাদেশের অন্য লেখকদের মাধে অনুপস্থিত। তার টেলিভিশন নাটক গুলোর জনপ্রিয়তা প্রবাদতুল্য। তবে এ সময়ের অনেক পাঠক বোধ করি হুমায়ূন আহমেদ এর ছোটগল্প সমন্ধে জানেন না। আমার মতে, হুমায়ূন আহমেদের ছোট গল্প গুলো বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তার অনেক উপন্যাস হালকা মেজাজে লেখা হলেও, তার অনেক গল্প রাশভারী মেজাজের । গল্পে তিনি প্রতিবাদী, সমাজের বহু অনিয়ম দেখিয়েছেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে। 

তার ছোটগল্প ‘খাদক’ রূপক অর্থে একনায়কতান্ত্রিক শোষন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লেখা। যেখানে গল্পের নায়ক মতি মিয়া একজন খাদক। আস্ত গরু, খাসি বা আধ মন জিলাপী খায় বাজি ধরে। গল্পের নায়ক মতি মিয়া বলছে, ‘আল্লাহতালা একটা বিদ্যা দিছে খাওনের বিদ্যা, অন্য কোন বিদ্যা দেয় নাই’। হুমাযূন আহমেদ লিখেছেন, ‘পেট বের হওয়া হাড় জিড়জিরে কয়েকটি শিশু। চোখ বড় বড় করে বাবার খাবার দেখছে। শিশুগুলো ক্ষুর্ধাত। হয়তো রাতেও কিছু খায়নি। বাবা একবারও তার বাচ্চাগুলোর দিকে তাকাচ্ছে না’। একনায়কতান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে কাল উত্তীর্ণ একটি গল্প। তার রচিত গল্প ‘ভয়’ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ উচ্চারণ।

তার অপর গল্প ‘কবি’। যেখানে নায়ক একজন পেশাদার প্রুফ রিডার ও কবি। ঘরে তার অসুস্থ কন্যা। তবুও প্রুফ দেখে দিচ্ছেন। প্রকাশক তাকে শোষণ করেছে সামান্য টাকার বিনিময়ে। তার আরো একটি গল্প ‘আনন্দ বেদনার কাব্য’তে তিনি লিখেছেন গরিব স্কুল মাষ্টার কবিতা লিখেন, হঠাৎ ইচ্ছে হলো একটা কবিতার বই বের করবেন, তার দশম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়ে তার কবিতার বই এর প্রচ্ছদ এর জন্য একটা ছবি একে দিল। তারপর কিছুদিন পর মেয়েটি অসুখে মারা যায়। কোনো প্রকাশক বিনা পয়সায় কবিতার বই ছাপবেনা। তাই গরিব পিতা পাচঁ বছর ধরে তিলে তিলে বই ছাপার টাকা সঞ্চয় করলেন মেয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে। তারপর সেই বই বের হলে তা উপহার দিলেন লেখক হুমাযূন আহমেদকে। লেখকদের প্রতি হুমায়ূন আহমেদের ছিল অপরিসীম মায়া।

আমাদের দেশের প্রকাশকদের দূনীর্তি ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করেছিলেন তিনি। তার জাদুকরি লেখার ভঙ্গি ও জনপ্রিয়তার কাছে হার মেনেছে এদেশের প্রকাশকেরা। শোনা যায়, যদি একটি বই পাওয়া যায় সেই আশায় টাকার বস্তা নিয়ে হুমায়ুন আহমেদের ফ্লাটে বসে থাকতেন অনেক প্রকাশক। বই পড়ুয়া জাতি যে কত অনিয়ম, অনাচার নিজের অজান্তেই প্রতিরোধ করতে পারে। তার উদাহরন সে সময়ের প্রকাশনা শিল্প।

সরল প্রাণ এই লেখক তার ‘শাহ্ মকবুল’গল্পে তিনি নিজের কথা লিখেছেন, ‘আমি ধরেই নিলাম প্রুফ রিডার মতির দেখা আর পাওয়া যাবে না। সে প্রুফ ভালো দেখতো তাতে সন্দেহ নেই। আমার মতো বানানে দুর্বল লেখকের জন্য এটা দুঃসংবাদ’। একজন লেখক কত উদার মনের হলে নিজের এমন দুর্বলতার কথা অকপটে জানাতে পারেন, তা একমাত্র লেখকরাই বুঝবেন। 

তার রচিত আরো অসাধারণ কিছু গল্প উনিশ শ’ একাত্তর, জুয়া, জীবনযাপন, জলিল সাহেবের পিটিশন, শিকার, ফেরা, একজন ক্রীতদাস, অয়োময়, অচিনবৃক্ষ, সৌরভ, লিপি, গন্ধ, অতিথি, ইত্যাদি।     

মহান এই লেখকের কর্মমুখর জীবনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

 

Leave your comment

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree