The Latest

জন্মান্ধ নদী

- ফেরদৌস নাহার

 

এজন্মে নয় আরেক জন্মে, যখন আপনি ছিলেন উড়ন্ত ঈগল আর 

আমি ছিলাম জন্মান্ধ খরস্রোতা নদী 

আপনাকে সঙ্গী করে উড়ে যেতে চেয়েছিলাম বিষুবরেখার আকাশে

এসব স্বপ্ন এখন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত, গত জন্মের স্মৃতি বলেই কি

বিজন রোদ্দুর ভেঙে একা একা হেঁটে চলি অজানা পথে  

গ্রামের মতো দেখতে, ঠিক গ্রাম নয়, বাড়ির সামনে পুকুরের ছায়া    

মাঝরাতের ছায়া, মায়া মায়া। ভুলে গেছি কবে যেন দেখেছি এসব 

 

জন্মান্ধ নদী হয়ে আর জনমে জন্মেছিলাম, পাশে ছিল শাদাছড়ি 

জলের উপরে ছড়ি ফেলে যেতে যেতে ঈগলের পাখা ধরে ফেলি  

তখন আকাশে ছিল ঘুড়িদের প্রবল ওড়াউড়ি, সবছিল, কিছু ছিল না    

অন্ধত্ব দূরে বসে দেখেছিল চোখের বিষণ্ন কারসাজি 

 

এখন কিছুই দেখি না।                                                                                                                                                                 

 

 

বৃষ্টি ও পরম্পরা

-কৌশিক চক্রবর্ত্তী

 

যে বৃষ্টি সোজাসুজি ঝরার কথা ছিল

সে কোনমতে আজ আমার গা ভেজাচ্ছে

 

আজকাল খুব সহজে যেসব কবিতা হারিয়ে যায়

তাদের অক্ষরেও অনায়াসে খুলে পড়ছে সান্নিধ্য

 

এদিকে তাকাও...

ফিরে দ্যাখো আমার সমস্ত বাতিল হিসাবের খাত্

চাঁদ ডুবে যাবার পর

আর নবীকরণ করা হয় নি সেসকল বৈধতা

 

আজ সমস্ত বৃষ্টির ফোটা শুধুমাত্র প্রতিবেশীর বাড়ি ভেজায় বলে

আমি অন্ধত্ব চেয়ে নিয়েছি স্বেচ্ছায়

 

যে বৃষ্টি সোজাসুজি ঝরার কথা ছিল

তারা যেকোনো উপায়ে আজ বন্ধ রঙমহলে পড়ছে...

 

নাড়ি ছেঁড়া স্বপ্ন 

- অমিতাভ মিত্র

 

নাড়ি ছিঁড়ে গেলেই 

জন্ম নেয় এক নতুন স্বপ্ন , 

শুরু হয়ে যায় লালন পালনের উৎসব , 

খেলনাবাটির তৈজসপত্ররা আবার মাতে সংসারে , 

মৃত্যুর আগে .....

শব্দেরা ধিক্কার জানিয়ে মিছিল করে যায় I 

 

বৃদ্ধ-বট আবার দেখে যায় বানোয়াট স্বপ্নের ব্যালে , 

না চাইলেও শুনে ফেলে খুনসুটির খেউড় , 

অবশেষে ......

ক্লান্ত চোখে ভেসে বেড়ায় 

ঘুঙ্গুর পায়ে কত্থকের মুজরা I 

 

নসিবে লেখা নিস্ক্রমনের তারিখ মেনে ....

থামতে হয়ই কোনো একদিন , 

কেউ কেউ ঠুকরে দেয় 

ভাগ্যবশত পাওয়া দ্বিতীয় সুযোগ , 

কেউ কেউ নির্দিধায় 

পরে নেয় অকৃতজ্ঞতার কালো-কোট , 

বেশিরভাগ মনই জানেনা ......

কেমন করে দেখতে হয় স্বপ্ন কিম্বা 

কোন ঋতুতে বাগান আলো করে ফুল I 

 

তবু , 

নিয়তি আবার গেঁথে দেয় নতুন স্বপ্নের দহেজ , 

আবার শুরু হয় শেষ থেকে শুরুর নাটক , 

ফাঁকা কলসের আবার ভাড়াটিয়া হয়  দীর্ঘশ্বাস , 

 

নাড়ি ছিঁড়ে জন্ম নেয় আবার কোনো নতুন স্বপ্ন , 

নৈবেদ্য সাজিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় ....

অন্য কোনও নারী I

 

 

স্বর্ণচাঁপা

-চাণক্য বাড়ৈ

 

কিশোরবেলার উচ্ছলতা নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বর্ণচাঁপা
আমার এমন দুরন্ত দিন ছিল
শেষ জোয়ারে নদীর স্রোতে মাপা।

অন্ধকারের দেয়াল ভাঙা সকাল
পুব আকাশে রক্ত-আগুন মাখা
তেমনি আমার অপার আকাশ জুড়ে
রঙধনুটা সাতটি রঙে আঁকা।

সেই সুদিনে এমন ছিল দিন
ছিন্ন ছিল সকল পিছুটান
এগিয়ে চলার মন্ত্র ছিল বুকে
হৃদয় মধ্যে প্রভাতফেরির গান।

রক্তে ছিল উন্মত্ত লাল ঘোড়া
টগবগিয়ে লাফিয়ে চলার খুর
বিশ্বজয়ের তীব্র নেশা চোখে
সাঁতরে যাওয়ার সপ্ত সমুদ্দুর।

আজকে এমন উদাস করা ভোর
শিশির মাখা শীতল হাওয়ায় কাঁপা
কিশোরকালের উচ্ছলতা নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বর্ণচাঁপা।

 

সবাই বেঁচে থাকে কেন?

-খালিদ মোশারফ

 

এত ছোট গাছ, এত বার ডাল ভাঙ্গা হয়েছে
এত ছোট গাছ, এত বার পাতা ছেড়া হয়েছে
এত ছোট গাছ, এত তৃষ্ণা পেয়েছে
এত ছোট গাছ, এভাবে বাঁচতে শিখেছে।
এত ছোট গাছ, এভাবে তাকাতে শিখেছে
এত ছোট গাছ, বুক উঁচু করে দাড়িয়ে
এত ছোট গাছ, বেঁচে থাকার কি যেন অর্থ খোঁজে
এত ছোট গাছ, সহ্য করে কিভাবে?
এত ছোট গাছ ,শীত লাগে শীত রাতে
এত ছোট গাছ, ফের কুশি গজাবে
এত ছোট গাছ, কাঠ হয়ে দাড়িয়ে
এত ছোট গাছ আবার ছাগলে পাতা ছিড়ে খাবে।
এত ছোট গাছ, সূর্য পানে তাকিয়ে
এত ছোট গাছ সূর্য তোমার পানে তাকিয়ে
এত ছোট গাছ কি যেন নিয়ে দাড়িয়ে
এত ছোট গাছ ছোট জীবনে সীমাহীন কষ্ট ছাপিয়ে
কষ্টকে কি ডেকে নেই দুহাত বাড়িয়ে?

|| সালমা তালুকদার ||

 

সকালটা ভারী মিষ্টি,

বেলকনির হাওয়ায় খোলা চুলগুলো যেমন বাতাসে দোল খাচ্ছে,

তেমনি অবাধ্য মনটাও কোথায় কোথায় উড়ে বেড়াচ্ছে!

ভাবনার রাজ্যে আমিই তো একমাত্র সম্রাজ্ঞী।

 

ভাবছি, ভেবেই চলেছি,

কালো চুলে আজকাল সাদা প্রলেপ পরেছে

মগজটাও কেমন ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে!

ভাবনা গুলো আর ডাল পালা ছড়াচ্ছে না।

 

দুঃসহ স্মৃতিগুলো আপনজনের মতো, আশে-পাশে ঘুরে বেড়ায়

চোখের সামনে অতীত দৃশ্যমান হয়ে,  সামনের রাস্তাটাকে শ্মশান-ঘাট সাদৃশ্য মনে হয়।

মনে হয়, সুনসান শ্মশান ঘাটে আমি নগ্ন, বিধ্বস্ত

ভাবলেশহীন চাহনীতে শুধুই শূন্যতা।

 

ব্যাস্ত রাস্তার সব মানুষ গুলো তখন

হিংস্র শকুন রুপে আমার নগ্ন শরীরটাকে খুবলে নিতে ব্যাস্ত।

উৎসব করছে ওরা,

কেউ হাত ধরে টানছে, কেউ পা ধরে, কারো মুখ স্তনে, কারো যোনীতে।

 

কেউ চুষে খেয়ে ফেলছে ঠোঁট,  কেউ রক্তাক্ত করছে কান

প্রতিটা অঙ্গ, প্রতিটা মুহুর্ত; কামনার আগুনে দগ্ধ প্রতিনিয়ত।

আমি কি মানুষ ওদের কাছে?

নাকি শুধুই এক খন্ড মাংস!

 

প্রকৃতির অভিশপ্ত নারী দেহ!

পুরুষের তীব্র, লোলুপ দৃষ্টি থেকে যার মুক্তি মেলেনি কখনো

বেঁচে থেকেও প্রতি মুহূর্তে যার মৃত্যু ঘটছে ?

হায় নারীর জীবন! হায় দীর্ঘশ্বাস! 

 

যে দিন গেছে, তাই-ই কেবল ফিরে ফিরে আসে।

আর যন্ত্রণা কাতর হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ ঘটে।

কি করেছি আমি?

কি অন্যায় ছিলো আমার?

 

নারী দেহের ভাঁজ গুলোতে পুরুষের নির্মম চাহনী

পাশবিক অত্যাচারের ইতিহাসে বিপর্যস্ত আমি, আজ বেলকনিকে মনে করি কারাগার,

ব্যাস্ত রাস্তাকে মনে হয় ধূ ধূ শ্মশান ঘাট।

আর পুরুষ গুলোকে মনে হয় নেকড়ে, হায়না, শকুনের দল।

 

আজ আমি চিৎকার করে বলতে চাই, আমি মানুষ, মাংসপিন্ড নই!

আমি মানুষ, ভোগ্য বস্তু নই!

আমি মানুষ ,বলির পাঠা নই!

আমি মানুষ, আমি নারী,  শুধু একখানা মাংসপিন্ড নই!

 

|| সপ্তবর্ণা সোমা ||

 

 

এই দিনে আজ, দুটি মনে দুটি অনুভূতির আয়োজন।
একজনের সর্বনাশে
অপরজনের ফাগুন আসে!
অঝরে ঝরে বর্ষণ বারী আঁখি কোণ বেয়ে, 
ভালোবাসার স্বপ্নে বিভোর সে নতুন কাছে পেয়ে!
আহ্লাদে ভরা সে প্রেম, সেকেন্ডহ্যান্ডের মতো
নতুন মাঝে খোঁজে সুখ আছে তার যত!
একটি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে দেখে সর্বনাশ
ফাগুন আমেজ তৃপ্ততা দেয় প্রিয়র প্রেম ফাঁস!

 

লেখক পরিচিতি:
শরাফত হোসেন মূলত কবি। প্রকাশিত কবিতার বই ‘ঘাসঢুল তোমার সাথে’ ও ‘ফিরে আসি কাচের শহরে’। জন্ম ১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বাবা জয়দুল হোসেন, মা হাসনেয়ারা বেগম। স্কুল জীবন থেকেই নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। লেখালেখির শুরু ওই সময়েই।  একাধিক জাতীয় দৈনিকের বিশেষ সংখ্যা সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে ‘সাহিত্য একাডেমি পত্রিকা’র নির্বাহী সম্পাদক। সম্পাদনা করছেন ‘বুক রিভিউ’। বর্তমানে কাজ করছেন সংবাদ মাধ্যমে। পড়াশুনা ব্যবসায় প্রশাসনে। জাতীয় কবিতা পরিষদ, পেন বাংলাদেশ, সাহিত্য একাডেমিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত করে আনন্দ পান।


অখণ্ড 

শরাফত হোসেন

এক.
শৈশবের শ্লেটে সাজিয়ে রাখি সারি সারি দুঃখ
চায়ের ধোঁয়ায় শিশির জমে কাচঘেরা পাতাগাছে
চোরাস্বপ্নেরা ডুবে থাকে গানে-কবিতায়

দুই.
অবিরত ঝরে পড়া বৃষ্টির জলে জেনেছি
দুঃখ বলে কিছু নেই; আছে হাহাকার
অতৃপ্তি- না পাওয়া!

তিন.
হলুদ শার্টে তোমার আকাশ ফিকে হয়ে আসে
কালো চুলে ওপরে ওঠার সিঁড়ি
একটু হাসো- তোমার নিঃশ্বাসে গেয়ে উঠবে পাখি
বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে জল খুঁজে পাবে আশ্রয়

যেমন আমি- ভরদুপুরে, বৃষ্টিতে, রোদ্দুরে
এমনকি অন্ধকারে খুঁজে বেড়ায় শব্দমালা
তোমার নূপুরে, গলার লকেট, কানের দুলে-
অথবা দীর্ঘশ্বাসে।



সীমানা 
শরাফত হোসেন

আকাশে গুচ্ছ মেঘের দল আনমনে পেরিয়ে যায় সীমারেখা
নিজের অজান্তেই শালিক পাখিটি ওপার ঘুরে আসে।

তোমাদের সীমানা প্রাচীর হয়ে বৃষ্টির জল
নেমে আসে এ তল্লাটে- অনায়াসে
ঝড়ো হাওয়ার সাথে শুকনো পাতার দল।
সাগরের স্বচ্ছ জলে মুখ লুকাতে হাপিয়ে উঠি
আলিঙ্গনের দূরত্ব রাইফেলের নল
এপারে আসতে মানা, ওপারে যেতে
এই পথ আমার নয়; ওই পথ তোমার
হৃদয়ে রক্ত ঝরে, শীতল হয়-
এপারে জল ছুঁয়ে দিলে তোমার উঞ্চতা অনুভব করি
বাতাসে সুগন্ধী
এপারে আসতে মানা, ওপারে যেতে
অন্ধকার ডুবে থাকে কাঁটাতার জুড়ে।



ফলন
শরাফত হোসেন

স্মৃতিরা ছবি হয়ে ভাসে; ছবি কেবলই স্মৃতি।
পাতাদের মজ্জাগত দোষ, কথা বলে বাতাসে
এই গরমে নাড়িস না কেউ জল
ভাতের হাড়ি ভাঙিস না কেউ।
উঠোন ভরতি মানুষ ছিল- হারিয়ে গেছে
সোনালি দিন মিলিয়ে গেল জলের দেশে
নাড়িস না কেউ জল।

মাটির চুলা একই আছে; ধুপধোঁয়া মন
ধানের ডগায় বসছে শিশির; শর্ষে ফুলে মৌ।

 -তারিক সামিন 

কি আর্শ্চায এক গভীরতা

প্রশান্তি আছে তোমার মাঝে,

আর-

কি আশ্চর্য এক অস্থিরতা

বিরাজ করে আমার মাঝে।

তুমি কত শান্ত-প্রেমময়ী-বাস্তববাদী

আর-

আমি কী ভাববাদী রুপকময়ী!

তুমি যখন আকাশের মত বিস্তৃত হও

তখন আমি সাগরের গভীরতা খুঁজি,

বিপ্লব-বিদ্রোহ আর বাধভাঙা আমার নীতি

বাঁধন-বশীকরণ আর সম্মোহন তোমার রীতি।

আমি ভেঙে গড়তে চাই

মরে চাই বাঁচতে;

তুমি নিশ্চয়তা চাও

আর চাও ভালোবাসতে।

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree