কখনো রাজহংস কখনো শকুন
-মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

একটি উচ্চাভিলাষের দিকে মুখ করে হেঁটে যাই বলে
জীবন যাপন হয়ে যাচ্ছে।
নাহলে, আজ হয়তো আরেকটি শ্মশানে
শিশুরা হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকত
আরেকটি সন্দেশের জন্য।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
তরুণ পাটগাছগুলো মাথা নাড়ছে—
বাতাস এসেছে আজ 
রোদের গল্প নিয়ে।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
একটি কাঠবিড়ালি
আমডাল থেকে লাফ দিয়ে পড়ছে জামডালে,
জামডাল থেকে ভেরেন্ডা ডালে
ভেরেন্ডা ডাল থেকে আকন্দ ঝোঁপে।
আর অমনি আকন্দ ফুলের কাঁচা গন্ধে
তৈরি হচ্ছে
রোদের হাওয়াই মিঠাই।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
টাউনহলের বাজারে
দুটো বিরক্ত গজার মাছ
লেজ ঝাঁপটে
রস ছিটিয়ে দিচ্ছে
হরিপদ কেরানির গায়ে—
অতিরিক্ত দরকষাকষি
ওর আবাল্য স্বভাব।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
দিঘির কালো জলে
সাতপাক ঘুরে
উঠে আসছে
রাজহংস রাজহংসী
আমলকি-জলপাই ছায়ায়।

তখন একটি চুলোয় বলক এল
মিহি মসুরের ডালে,
অন্য চুলোয় চড়চড় করে পুড়ছে
কুচি পেঁয়াজ
কাটা মরিচ
খুনতি হাতে গিন্নির বিষোদগার
তৃতীয় চুলোয়।

তখন এমোনিয়ামেঘের ভেতর দিয়ে
বৃহস্পতিকে চুমু খেতে
আছড়ে পড়ছে
শুমেকার লেভি-৯,
দেয়ালজোড়া স্ক্রিনে মাথা তুলে
তাকিয়ে আছে
নাসা।

কখনো রাজহংসের মতো 
কখনো শকুনের মতো
আর সব মানুষের মতো
অবিরত
আমারও আয়োজন চলে।
যদিও তখন
এক কুলো সজনে ফুল
ভেসে যায় 
নর্দমার জলে।

ইলা মিত্র স্মরণে

-তারিক সামিন।

 

রাজশাহীর নাচোলে ১৯৫০ এর সাঁওতাল বিদ্রোহ

মনে পড়ে বন্ধু ইলা মিত্র,

মানুষের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে বারবার

তাই তোমাকে স্মরণ করি আবার।

৪৭’ এ জন্ম নিল দুই সাম্প্রদায়িক দেশ,

শোষণের হানাদারি শাসন নিয়ে এল দুঃশাসন।

গর্জে উঠলে তুমি,

প্রতিবাদী নগ্ন হাতগুলো উঠে আসলো

মিছিলের সারিতে,

অধিকারের আন্দোলনে মহিয়সী নারীতে।

নাচোলে বিদ্রোহ,

শাসকের ভিত কেঁপে উঠল শোষিতের রোষে

তুমি বন্ধু, মানুষকে জাগালে তাদের শ্বাশত অধিকারে।

আন্দোলনের রক্তাক্ত পথ বেয়ে

উঠে দাঁড়ালো জাতি এবার;

ইলা মিত্র তোমায় মনে পড়ে বারবার।

রাইফেলের বাট, গণধর্ষণ, যোনিতে উত্তপ্ত ডিম,

শরীরে যন্ত্রণা কাতর হাহাকার

তবুও তুমি এক মহিয়সী বীরাঙ্গনা বাঙালি

নির্বিকার শক্রর অত্যাচারে!

এ মাটির প্রতি মহৎ ভালবাসা ছিল বলে

শোষিতের রক্তে তুমি উত্তাপ জন্মিয়েছিলে

সে উত্তাপ ছড়িয়ে গেল

দেশে দেশে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে,

তাই মনে পড়ে ইলা মিত্র কে।

৬৯’ এর গণ-অভ্যুত্থানে

যে নারী হারিয়েছে স্বামী,

৭০’ এর বন্যায়

যার ঘর বাড়ি ভেসে গেছে,

৭১’ এ পশুরা যাকে ধর্ষণ করেছে

সকল সংগ্রামী নারীতে তুমি শ্বাশত;

বন্ধু ইলা মিত্র।

তাই তোমাকে মনে পড়ে।

জন্মান্ধ নদী

- ফেরদৌস নাহার

 

এজন্মে নয় আরেক জন্মে, যখন আপনি ছিলেন উড়ন্ত ঈগল আর 

আমি ছিলাম জন্মান্ধ খরস্রোতা নদী 

আপনাকে সঙ্গী করে উড়ে যেতে চেয়েছিলাম বিষুবরেখার আকাশে

এসব স্বপ্ন এখন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত, গত জন্মের স্মৃতি বলেই কি

বিজন রোদ্দুর ভেঙে একা একা হেঁটে চলি অজানা পথে  

গ্রামের মতো দেখতে, ঠিক গ্রাম নয়, বাড়ির সামনে পুকুরের ছায়া    

মাঝরাতের ছায়া, মায়া মায়া। ভুলে গেছি কবে যেন দেখেছি এসব 

 

জন্মান্ধ নদী হয়ে আর জনমে জন্মেছিলাম, পাশে ছিল শাদাছড়ি 

জলের উপরে ছড়ি ফেলে যেতে যেতে ঈগলের পাখা ধরে ফেলি  

তখন আকাশে ছিল ঘুড়িদের প্রবল ওড়াউড়ি, সবছিল, কিছু ছিল না    

অন্ধত্ব দূরে বসে দেখেছিল চোখের বিষণ্ন কারসাজি 

 

এখন কিছুই দেখি না।                                                                                                                                                                 

 

 

স্বর্ণচাঁপা

-চাণক্য বাড়ৈ

 

কিশোরবেলার উচ্ছলতা নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বর্ণচাঁপা
আমার এমন দুরন্ত দিন ছিল
শেষ জোয়ারে নদীর স্রোতে মাপা।

অন্ধকারের দেয়াল ভাঙা সকাল
পুব আকাশে রক্ত-আগুন মাখা
তেমনি আমার অপার আকাশ জুড়ে
রঙধনুটা সাতটি রঙে আঁকা।

সেই সুদিনে এমন ছিল দিন
ছিন্ন ছিল সকল পিছুটান
এগিয়ে চলার মন্ত্র ছিল বুকে
হৃদয় মধ্যে প্রভাতফেরির গান।

রক্তে ছিল উন্মত্ত লাল ঘোড়া
টগবগিয়ে লাফিয়ে চলার খুর
বিশ্বজয়ের তীব্র নেশা চোখে
সাঁতরে যাওয়ার সপ্ত সমুদ্দুর।

আজকে এমন উদাস করা ভোর
শিশির মাখা শীতল হাওয়ায় কাঁপা
কিশোরকালের উচ্ছলতা নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বর্ণচাঁপা।

 

নাড়ি ছেঁড়া স্বপ্ন 

- অমিতাভ মিত্র

 

নাড়ি ছিঁড়ে গেলেই 

জন্ম নেয় এক নতুন স্বপ্ন , 

শুরু হয়ে যায় লালন পালনের উৎসব , 

খেলনাবাটির তৈজসপত্ররা আবার মাতে সংসারে , 

মৃত্যুর আগে .....

শব্দেরা ধিক্কার জানিয়ে মিছিল করে যায় I 

 

বৃদ্ধ-বট আবার দেখে যায় বানোয়াট স্বপ্নের ব্যালে , 

না চাইলেও শুনে ফেলে খুনসুটির খেউড় , 

অবশেষে ......

ক্লান্ত চোখে ভেসে বেড়ায় 

ঘুঙ্গুর পায়ে কত্থকের মুজরা I 

 

নসিবে লেখা নিস্ক্রমনের তারিখ মেনে ....

থামতে হয়ই কোনো একদিন , 

কেউ কেউ ঠুকরে দেয় 

ভাগ্যবশত পাওয়া দ্বিতীয় সুযোগ , 

কেউ কেউ নির্দিধায় 

পরে নেয় অকৃতজ্ঞতার কালো-কোট , 

বেশিরভাগ মনই জানেনা ......

কেমন করে দেখতে হয় স্বপ্ন কিম্বা 

কোন ঋতুতে বাগান আলো করে ফুল I 

 

তবু , 

নিয়তি আবার গেঁথে দেয় নতুন স্বপ্নের দহেজ , 

আবার শুরু হয় শেষ থেকে শুরুর নাটক , 

ফাঁকা কলসের আবার ভাড়াটিয়া হয়  দীর্ঘশ্বাস , 

 

নাড়ি ছিঁড়ে জন্ম নেয় আবার কোনো নতুন স্বপ্ন , 

নৈবেদ্য সাজিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় ....

অন্য কোনও নারী I

 

 

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree