Literary Editor

ছবি : ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত আই.এস.আই.এস. এর বর্বরতার বাস্তব চিত্র।

 

-তারিক সামিন

 

জন অ্যাডামস। বয়স ৩০ বৎসর। দীর্ঘকায় শরীর । হালকা পাতলা গড়ন। মাথা ভরা সোনালী চুল। লম্বাটে মুখমণ্ডল। লালচে-সাদা গায়ের রং।  সবুজ রং এর চোখ । তীক্ষ্ণ চোখা নাক।  হাফ হাতা জামা, জিন্স প্যান্ট, আর বুট জুতা পরে থাকে বেশির ভাগ সময়।

কারো সাথে দেখা হলেই ‘আসসালামু-আলাইকুম’ বলে মিষ্টি হেসে করমর্দন এর জন্য হাত বাড়ায় সে। অদ্ভত শিশুসুলভ তার বাংলা বলার ধরন। জন এদেশে এসেছে আট মাস। এরই মধ্যে এই দেশটিকে আর এদেশের মানুষগুলোকে দারুণ ভাল লাগতে শুরু করেছে তার।

কখনো কখনো তাকে দেখা যায় গ্রামের পথে আম-কাঁঠালের ডাল ভেঙ্গে গরু-ছাগলের বাচ্চাগুলোকে খাওয়াচ্ছে। সাইকেল চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছে। কখনো অসুস্থ শিশুদের পাশে দাড়িয়ে তাদের মাথায় হাত বুলায়। পরিবার পরিজন কে সান্ত্বনা দেয়। গামছা কাঁধে পুকুরে গোসল করতে যায়।

এদেশের ইলিশ মাছ ভাজা, ভুনা খিচুরি আর দেশী মুরগীর মাংসের ঝোল তার দারুণ পছন্দ। এরই মধ্য সে শিখে ফেলেছে চামচ ছাড়াও, হাত দিয়ে, সুন্দর পরিচ্ছন্ন ভাবে খাবার খাওয়া যায়।

জন একটি আন্তর্জাতিক এন.জি.ও অফিসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার।  স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যার উপর গবেষণা ও আর্থিক সাহায্য দেয় তাদের প্রতিষ্ঠান। প্রায়শই দেশের বিভিন্ন  প্রান্তের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ঘুরে বেড়ায় সে।

দেড় মাস হলো, বগুড়া সরকারী হেলথ  কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজ করছে লিজা। ওর পুরো নামক সালেহা পারভিন লিজা। মাঝারী উচ্চতা, গায়ের রং শ্যামলা। খুব হাসি-খুশি আর সপ্রতিভ মেয়েটি। একটা কালো আর সবুজ রং এর ঢাকাই জামদানী; তার উপর সাদা অ্যাপ্রোন পড়ে রোগী দেখছিল লিজা। এদেশের শ্যামল বরন মেয়েদের চোখে-মুখে সবুজ ফসলের মাঠের মত স্নিগ্ধতা থাকে। এদের হাসি নদীর ঢেউয়ের মত আন্দোলিত করে জীবনকে। লিজার মত একটি মেয়েকে বিয়ে করে এদেশে থেকে যাবার ইচ্ছে জনের।

গণতান্ত্রিক সুশাসন, ন্যায় বিচার, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি রোধ এবং সমাজ ধর্মীয় কুসংস্কার মুক্ত হলে, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ জাতি হয়ে উঠবে ...... এসব ভাবতে ভাবতে গ্রামের পথ ধরে অফিসে যাচ্ছিলো জন।

হঠাৎ একটা মটর সাইকেল থেকে তিনজন যুবক খুব দ্রুত নেমে আসলো জনের দিকে। প্রথম আগুন্তক যুবকে দেখে হাস্যজ্জল মুখে জন বললো, ‘আসসালামু-আলাইকুম, কেমন আছেন?’

’আল্লাহু আকবর’ বলে, নির্মম নির্দয় ভাবে জনের মাথা, হাত আর কাঁধে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেল যুবক-ত্রয়।

 

[ এই গল্পটি বাংলাদেশে উগ্রপন্থীদের দ্বারা নিহত সকল বিদেশী নাগরিকদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত। ]

 

হিলাল কারাহান: তুর্কি কবি, লেখক, অনুবাদক, মা ও চিকিৎসক। জন্ম: ১৯৭৭ সাল গাজ়িয়ান্তেপ, তুরস্ক। তিনি ২০০০ সাল থেকে লিখছেন। তার ছয়টি  কবিতা ও তিনটি গদ্য বই আছে এবং তার অনেক নির্বাচিত কবিতার বই বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক যৌথ বই, ও দ্বিভাষিক কবিতা বর্ষপঞ্জি প্রকাশনায় তিনি যোগদান করেছেন। বিশ্ব কবিতা উৎসব সংগঠনের আন্তঃ মহাদেশীয় পরিচালক হিসেবে তিনি অনেক আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের সংগঠন কমিটিতে অংশ নেন। সম্প্রতি তিনি তুর্কি পেন, তুর্কি লেখক সমিতি ও তুর্কি ভাষা সমিতির সদস্য হয়েছেন। তিনি রাইটার্স ক্যাপিটাল ফাউন্ডেশন  এর সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ব শান্তি ইনস্টিটিউট এর  তুর্কি রাষ্ট্রদূত, এ গুলো ইউনেস্কোর সাথে যুক্ত। প্রতি বছর তিনি ফেমেনি ইস্তাম্বুল ও  ভূমধ্যসাগরীয় কবিতা উৎসব এর আয়োজন করেন। তিনি অনেক গুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কবিতা পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক দ্বিভাষিক কবিতা পত্রিকা এ্যাবসেন্ট, রোসেত্তা ওয়ার্ড লিটেরাতুরা ও সাহিত্য আনন্দ (সাহিত্যা আনান্দ) এর প্রকাশনা পরিষদের একজন সদস্য।

 

 

মধ্যপ্রাচ্য

 

এখানে ইতিহাস নিজের পায়ের কাছে নতজানু হয় যেহেতু  সে তার জন্ম দিয়েছিলো,

এখানে চুল থেকে উকুন মারা হয় মানুষের হাড়ের তৈরী চিরুনি দিয়ে

 

 

২/

শহরগুলির  আব্রু মরুভূমির বাতাসে অসংহত হয়ে উঠে

পাথরের আঙ্গিনায় উপর, মসজিদ, প্রাচীন খোলা মাঠ,

খিলানযুক্ত রাস্তাগুলো যারা সবসময় একে অপরের পথ দেখায়

মাটিতে কফি, মসলা এবং বারূদের গন্ধ

ঝলসানো হচ্ছে একই কয়লার উপর

 

: বালি রক্ত ঢেকে দেয়,  কিন্তু  ধুতে পারে না...

 

 

৩/

ঈশ্বরের নাম গুলো মরুভূমিতে লেখা

হয় বর্বরতা, অজ্ঞতায়

শিশুগুলো জন্মায় এবং মরে যায়

দুর্ভিক্ষ তাদের ভবিতব্য, ডায়রিয়া তাদের পরিণতি

 

: হিংসা একটি অভিলাষও  অবশিষ্ট রাখে না

 

৪/

মরুভূমির রাতে

ঠান্ডা, ধর্মমত ও পারিবারিক ঐক্য

উষ্ণ করে  পরস্পরের সর্মথন

 

:এমনকি যদি তাদের হত্যা করা হয়, বেদুইনের পুরু পোষাকে

রক্ত প্রবেশ করে না

 

৫/

নারী কেনা-বেচা হয়

উটের বিনিময়ে

জীবনের থেকে তারা লিঙ্গাগ্রচর্মছেদন করে

 

: তাদের মুখমন্ডলে পুরুষদের জন্য উল্কি  আঁকা  হয়,

হৃদয়গুলো ফসল কাটার যন্ত্র...

 

 

 

 

Middle East

 

1/

It lulls the history on its feet since it gave birth to it,

it combs louse from its hair with human ribs

 

 

 

2/

Skirts of the cities are scattered by desert winds

over stone courtyards, mosques, ancient squares,

vaulted streets which always lead to one another

Smell of ground coffee, spice and gunpowder

roasts on same coals

 

: Sands cover the blood, but cannot wash…

 

 

 

3/

Names of God written to the desert

are savagery, ignorance

Children are born and die

famine is their destiny, diarrhea is their fate

 

: Grudge does not make a wish…

 

 

 

4/

In the desert night

cold, belief and family consensus

warm up backing in one another

 

:Even if they are killed, Bedouin felt

does not penetrate blood ...

 

 

5/

The women are bought and sold

in exchange for camel

They are circumcised from life

 

: Their faces are tattooed to men,

hearts are harvester…

 

 

 

যোনির যন্ত্রণাদায়ক  আকস্মিক সংকোচন চিকিৎসা

 

বাসর রাত্রে,

দরজার পিছনে অপেক্ষারত মানুষেরা যখন

রক্ত মাখা চাদরটি  নিতে পারিনি,

পরিবারের কর্তা একটি সিন্ধান্ত নিলেন:

” নববধূ  এখনো যৌন উপযুক্ত নয়...”

তারা মেয়েটিকে একজন পীরের কাছে নিয়ে গেল

তার পেটের উপর তাবিজ লিখতে,

নববধূকে যৌন উপযুক্ত করতে

তিন দিন ও   তিন রাতের জন্য ...

 

চতুর্থ  দিন সকালে,

তারা মেয়েটিকে নিতে এসেছিল

এবং তাবিজের দাম দিতে

সাথে একটি মোরগ

 

অসহায় মেয়েটি পুরো জীবনেও বলতে পারে নি

তাবিজ লেখার পরিবর্তে,

সেই ভন্ড পীর কি   করেছিল (তার সাথে)

তিন দিন এবং তিন রাত ধরে...

 

 

Vaginismus Treatment

 

At nuptial night,

When people waiting behind the door

 

could not take the bloody sheet,

the consul of family made a decision:

 “Bride is locked…”

They took the girl to a sorcerer

to write amulet on her belly,

to unlock the bride

for three days and night…

 

In the fourth morning,

they came to take the girl

and pay the money

of amulet with a cock.

 

The helpless girl could not say whole life

instead of writing amulet,

what that faithless man did 

for three days and nights…

 

 

।।প্রেম।।

 

দিক নেই।

তোমার কাছেপিঠে একটা বক বসে থাকে।

তার উড়ে যাওয়ার ডানা নেই।

সেও আমারই মতো তোমাকে দেখার ভেতর বেঁচে আছে।

বেঁচে থাকবে আরো কতো কাল!

তার সাদা রং, ভুলে গেছে,

মাস্তুল বেয়ে উঠে আসে যে সকাল,

সেখানে মাছেদের খেলা।

সীমান্ত ডিঙিয়ে আসে উদবাস্তুর শব।

 

আমি বসে আছি তোমার ঘরের ভিতরে,

তোমার মনের ভিতরে।

 

কম্পাস দিকভ্রান্ত, 

ভুল বার্তা ভুলভাবে ছড়াতে ছড়াতে আজ,

সে বড়ো ক্লান্ত!

ভুল পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণে বারবার ফিরে আসি।

আমার পৃথিবী ছেড়ে কী মোহে

পড়ে থাকি তোমার উঠোনে! বোঝো না!

আমিও বুঝি না।

-- আমি প্রেমিক না'কি পাখি!

কে মহান? 

---ভালোবাসা না'কি শুভ্র দুটি ডানা!

 

 

।।ধর্ম।।

 

আলোটা ছিলো না, এই যা।

নচেৎ তোমাকে ঠিক আলোতেই ভালোবাসতাম।

শরীরে পুঙ্খানুপুঙ্খ যে খরা ও বাদলের রূপটান খেলে যায়

তাকে নিয়ে চলে যেতাম লম্বা ছুটিতে।

 

আলোটা ছিলো না।তাই রোজ শরীরে খুঁজেছি আলো,

শরীরে খুঁজেছি মেঘ।

আলোটার খোঁজে তোমাকে কী নিবিড় ভালোবাসি আমি!

 

 

।।দাসত্ব।।

 

পশুখাদ্যের জন্যে এখানে আলাদা কোনো ঘাসের চাষ হয়না।

কেবল পশুরা পায়ের কাছে ঘুরঘুর করে।উচ্ছিষ্ট খায়।পশুর সাথে সঙ্গম করে পশু।

 

গ্রামের অনতিদূরে ট্রেড ইউনিয়নের ভাঙাচোরা বর্ণমালা, 

ছাই রঙা আকাশ থেকে কার যেন আর্ত চিৎকার ভেসে আসে।

 

খামারবাড়ির পাখিরা নিয়মিত ঘুম থেকে ওঠে,

নিয়মিত ঘুমোতে যায়।

 

গ্রামের নিউক্লিয়াসে একটা শহরকে ইনজেক্ট করছে রাষ্ট্র

 

পশুদের বাচ্চারাও পশু, 

মাথা তুলতে পারে না, পায়ে পায়ে ঘুরঘুর করে।

উচ্ছিষ্ট খায়।

চালাকি

নওরোজ নিশাত

 

শরীরের একটা অঙ্গ 

বিকল করে দিল 

বেঁচে থাকার কোন সম্ভাবনা থাকলো না আর জীবনে।

হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন আর ইচ্ছে খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম যার মধ্যেই।

 

গহন মনের  অন্তরালে বিরাজ করছিলো

কে জানতো আগে ।

সে ছিল বিকৃত অসুস্থ মস্তিষ্কের।

বুদ্ধির বিচার করে যখন

আমি করি আবেগের।

 

ভিন্ন ধারার বই নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সাহিত্যসভা

সম্মানিত অভীক গঙ্গোপাধ্যায়

 

২৬শে অগাস্ট, ২০১৮, রবিবার, সকাল ১১টা থেকে ২টো, কলকাতা প্রেস ক্লাবে চেতলা অঙ্কুর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল ব্যতিক্রমী লেখক অভীক গঙ্গোপাধ্যায়ের চারটি ভিন্নধারার বই নিয়ে একটি আলোচনাচক্র। অনুষ্ঠানটিকে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সাহিত্যসভা বললেও অত্যুক্তি হবে না―কারণ, সভার চারজন বক্তার মধ্যে দু’জন ছিলেন ভারতের এবং দু’জন বাংলাদেশের।

 

এখানে উল্লেখ্য অভীকবাবু ৩০টি বইয়ের লেখক এবং সম্পাদক―যে বইগুলির বিষয়বৈচিত্র্য, কৃষ্টিভাবনা, শিল্পতত্ত্ব, সাহিত্যতত্ত্ব থেকে শুরু করে ভাষা, সমালোচনা সাহিত্য, এমনকি ভারততত্ত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিরাট পরিসরে এই পরিমাণ কাজের স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন সারা বিশ্ব থেকে। ২০০২-তে অভীক গঙ্গোপাধ্যায়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “লাইব্রেরি অফ পোয়েট্রি” থেকে, কবিতা নিয়ে তাঁর কাজের জন্য দেওয়া হয় “এডিটরস চয়েস অ্যাওয়ার্ড।” ভাষার মৃত্যু, ডায়াস্পোরা ও অভিঘাত সাহিত্য, ভারততত্ত্ব প্রভৃতি স্বকীয় বিষয়ে তাঁর গবেষণালব্ধ কাজের জন্য তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন, স্কটল্যান্ডের “এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়”, জার্মানির “হেনরিখ হাইনে বিশ্ববিদ্যালয়”, ফ্রান্সের “সরবয়েঁ বিশ্ববিদ্যালয়”, কানাডার “ইন্দো কানাডিয়ান ডায়াস্পোরা কনফেডারেশন”, “সেন্টার ফর রিভাইটালাইজেশন অফ এনডেঞ্জারড ল্যাঙ্গুয়েজেস”, বাংলাদেশের “রাঢ় ও বরেন্দ্র ভাষা সংস্কৃতি চর্চা পরিষদ”, “বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি”, ভারতের “বরদা সিদ্ধি পীঠম” প্রমুখ প্রথিতযশা প্রতিষ্ঠান থেকে।

 

এছাড়াও অভীকবাবুর বই এবং তাঁর লেখকসত্তা নিয়ে “দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া”, “দ্য হিন্দুস্তান টাইমস”, “দ্য স্টেটসম্যান”, “আনন্দবাজার পত্রিকা”, “বইয়ের দেশ”, “সাপ্তাহিক বর্তমান”, “এই সময়”, “একদিন”, “ডেইলি অবসার্ভার” (বাংলাদেশ ও ফ্রান্স), “বাংলাদেশ পোস্ট”, “ঢাকা রিভিউ” ও অন্যান্য প্রথম সারির পত্রপত্রিকা, ই-জার্নালে অনেক আলোচনা, সাক্ষাৎকার, নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

এই মাপের একজন লেখকের রত্নসমৃদ্ধ পুস্তক-সায়র থেকে চারটি নির্বাচিত গ্রন্থ নিয়ে প্রেসক্লাবের উক্ত অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল। বইগুলি হল―“ভাষার মৃত্যু”, “ডায়াস্পোরা অ্যান্ড ট্রমা লিটারেচার”, “সং অফারিংস অ্যান্ড গীতাঞ্জলী” এবং “সরস্বতী”। অনুষ্ঠানের বিগদ্ধ আলোচকবৃন্দ ছিলেন বাংলাদেশের নতর্দ্যম  বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরাজি ভাষার অধ্যাপক আহমেদ তাহসিন শামস, ভারতীয় শিল্প এবং সঙ্গীতের স্বতন্ত্র গবেষক ডঃ অভিজিৎ মজুমদার, তুলনামূলক সাহিত্য এবং ভারততত্ত্বের স্বতন্ত্র গবেষক শ্রী জয়দীপ মুখার্জি এবং বাংলাদেশের সাংবাদিক ও সাহিত্য সমালোচক নাজমুন নাহের শিশির। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন মৌলানা আবুল কালাম ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির অধীনস্থ জর্জ কলেজের মিডিয়া সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপিকা সোমা দত্ত।                  

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম বক্তা আহমেদ তাহসিন শামস অভীকবাবুর দু’টি গ্রন্থ―“ভাষার মৃত্যুঃ লুপ্ত ও বিপন্ন ভাষার খোঁজ” এবং “ডায়াস্পোরা অ্যান্ড ট্রমা লিটারেচার” নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য মূলতঃ ছিল অপেক্ষাকৃতভাবে স্বল্পালোচিত বা অনালোচিত কিছু আন্তর্বিভাগীয় বিষয় সম্পর্কে অভীক গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশেষ গুরুত্ববহ কাজ নিয়ে। এই ধরণের গবেষণায় অভীকবাবু ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব, সাহিত্যের নৃতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়কে নিখুঁত নৈপুণ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর স্বকীয় ভাবনায়। এই সূত্র ধরেই বক্তা অভীকবাবুর উক্ত গ্রন্থদ্বয়ে ভাষার মৃত্যু, যে ভাষাগুলি হারিয়ে গিয়েছে তাঁর প্রমাণ এবং লিপি, ভাষার পুনরুজ্জীবন এবং সারা বিশ্বজুড়ে বাস্তুহারা, ছিন্নমূল মানুষের অভিঘাতের তথ্যসমৃদ্ধ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখের কথা আলোচনা করেন।

এই গম্ভীর এবং মর্মস্পর্শী বিষয়ের অনন্যসাধারণ আলোচনার পর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় বক্তা ডঃ অভিজিৎ মজুমদার, অভীকবাবুর সম্পূর্ণ ভিন্নধারার একটি কাজ নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাখেন―“সং অফারিংস অ্যান্ড গীতাঞ্জলী”। বক্তা নিজে একজন সঙ্গীত গবেষক হওয়ার দরুণ সাঙ্গিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি এই কাজের বিশ্লেষণ করেন এবং দেখিয়ে দেন কীভাবে অভীকবাবু রবীন্দ্রনাথের এই যুগান্তকারী সৃষ্টিকে, স্থানান্তর-সৃষ্টিতত্ত্বের ধারণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে রবীন্দ্রগবেষণায় এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছেন। অভীকবাবু পরে এই প্রসঙ্গে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধুমাত্র বাংলা থেকে ইংরাজিতে তাঁর কাজের অনুবাদই করেন নি, সাথে নতুন ভাষায় তাঁর সৃষ্টির পুনর্জন্ম ঘটিয়ে সেগুলিকে স্বকীয় মর্যাদা দিয়েছেন।”

 

 

অনুষ্ঠানের তৃতীয় বক্তা শ্রী জয়দীপ মুখার্জি, অভীকবাবুর আরেকটি ভিন্নধারার বই নিয়ে আলোচনা করেন “সরস্বতীঃ প্রত্নতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক, নান্দনিক প্রেক্ষিত”। ভারততত্ত্ব গবেষক জয়দীপবাবু তাঁর এই আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “সরস্বতী”-র দ্বিতীয় সংস্করণে দু’টি নতুন তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে অভীকবাবু প্রচুর তথ্যপ্রমাণ সহ “আর্য আক্রমণ তত্ত্ব” নামক এক বহুল প্রচলিত মিথ্যা তত্ত্বকে সফলভাবে খণ্ডন করে আলোতে নিয়ে এসেছেন বহুবছর ধরে অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা এক ঐতিহাসিক সত্যকে। প্রাচীনকালে কোন বিদেশী জাতি আক্রমণ আর গণহত্যা করে ভারতের সভ্যতা-সংস্কৃতি সৃষ্টি করেনি। নদীর জন্যই ভারতে প্রস্তর যুগ থেকে সভ্যতার যুগে উত্তরণ। প্রাকৃতিক কারণে অধুনা হারিয়ে যাওয়া সেই নদীই সরস্বতী, যাকে কেন্দ্র করে একসময় গড়ে উঠেছিল “সরস্বতী সভ্যতা”।

অনুষ্ঠানের অন্তিম বক্তা সাংবাদিক ও সাহিত্য সমালোচক নাজমুন নাহের শিশির, সাম্প্রতিককালে অভীকবাবু বিভিন্ন ই-জার্নাল এবং পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন ধ্রুপদী সাহিত্য গ্রন্থ নিয়ে যে বিদগ্ধ আলোচনা করছেন, সেই নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি দেখিয়ে দেন কীভাবে এতো পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা হওয়ার সত্ত্বেও, শুধুমাত্র অভীকবাবুর স্বকীয় উপস্থাপনার গুণে, সেগুলি শুধু অ্যাকাডেমিক মহলেই নয়, সাথে সাধারণ পাঠকের মধ্যেও উৎসাহ সৃষ্টি করে জনপ্রিয় হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে, অভীক গঙ্গোপাধ্যায় স্মৃতির সরণী বেয়ে, তাঁর এই সাহিত্য চর্চা, গবেষণা এবং এত স্বকীয় কাজের দীর্ঘ যাত্রাপথের কথা স্মরণ করে সবাইকে সমৃদ্ধ করেন। বক্তাদের স্মারক দেবার পাশাপাশি অভীকবাবুর হাতে International Language Preservation & Endangered Language Alliance প্রদত্ত “Certificate of Honor” তুলে দেন আহমেদ তাহসিন শামস।

  

আলোচক : দীপ চ্যাটার্জী 

রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ এবং ভারতীয় সংস্কৃতি বিষয়ে

উৎসাহী আলোচক। অধ্যাত্ম দর্শন ও সমাজবীক্ষার     

পাশাপাশি বঙ্কিমী-শৈলীর যথার্থ প্রয়োগে বুদ্ধিদীপ্ত

সরস ব্যঙ্গরচনায় সুলেখক পাঠকমহলে এক পরিচিত নাম।

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

আয়োজনে : চেতলা অঙ্কুর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল ইন্সটিটিউট, কলকাতা

।।।।

 

‘Sleep, that deptorable curtailment of the joy of life.’

ওল্‌ফের পারিবারিক ইতিহাসে মানসিক প্রতিবন্ধকতার উদাহরণ থাকলেও আত্মহত্যার উদাহরণ নেই। এক সৎ প্রতিবন্ধী বোন কিছুদিন তাঁদের সঙ্গে থাকলেও স্থায়ীভাবে তার সঙ্গে অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু ১৩ বছর বয়সে মার মৃত্যু ও তার দুবছর পরে সৎ বোন স্টেলার মৃত্যু এবং ২২ বছর বয়সে বাবার মৃত্যু তাঁকে মাঝে মাঝেই বিষাদগ্রস্ত করে রাখত। এই সময় এবং এর কিছুদিন আগে থেকেই ওল্‌ফ এবং তার বোন ভানেসা তাদের সৎ ভাই জর্জ ও জেরাল ডাকওয়ার্থের যৌন নিগ্রহের স্বীকার হতেন। আধুনিক জীবনীকারদের পাশাপাশি ওল্‌ফ নিজেই তাঁর আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধ ‘আ স্কেচ অফ দ্য পাস্ট’-এ নিজেই জানিয়েছেন। ব্যবহারের পরিবর্তন তাঁর সামাজিকতা ও সামাজিক সম্পর্কগুলোকে যে কতটা বিঘ্নিত করে সে সম্পর্ক তিনি সচেতন। ‘ব্লুমস বেরী গ্রুপ’-এর দিকপাল চিন্তাবিদদের সান্নিধ্যে তিনি আসেন--লিটন স্ট্র্যাচি, ক্লাইভ বেল, রুপার্ড ব্রক-এঁদের সঙ্গে intellectual repertoire-এ তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই গ্রুপেরই লিওনার্দ ওল্‌ফকে তিনি বিয়ে করেন, দুজনে মিলে হগার্থ প্রেস প্রতিষ্ঠা করেন, এবং নিজেরাই উপন্যাস প্রকাশের দায়িত্ব নেন। তবে একজন ইহুদিকে বিয়ে করার জন্য মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তার ও উৎকন্ঠার জায়গা প্রশস্ত হত। ১৯১২ সালে বিয়ের ২৫ বছর পর ডায়েরিতে ওল্‌ফ লিখছেন : ‘আমাদের দাম্পত্য জীবন এত সম্পূর্ণ যে কোনো মুহূর্তে একজনকে আলাদা করে ভাবা যায় না--সবচেয়ে বড়ো কথা হল, স্ত্রী হিসেবে কেউ আমাকে চায় এই আনন্দ।‘ স্বামী স্ত্রী দুজনেই জানতেন তাঁরা হিটলারের ব্ল্যাক লিস্টে রয়েছেন। তবে ইহুদিদের সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল মিশ্র। ইহুদিদের সহনশক্তির প্রতি যেমন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন আবার উন্নাসিকতার সমালোচকও ছিলেন। একটা চাপা ফ্যাসিবাদের ভয় তাঁদের মধ্যে প্রবাহিত ছিল। কিন্তু তার লেখার মধ্যে সর্বপ্রথম স্থান পেয়েছে যা, তা হল ঘটনা ও চরিত্রের বৈশিষ্ট্যহীনতা, দৃশ্য ও শব্দের প্রাচুর্য, এক গীতিকাব্যিক মাধুর্য, অস্বাভাবিক চরিত্রের বিরলতা। অনেক সমালোচক ওল্‌ফের লেখার মধ্যে উচ্চমধ্যবিত্ত ইংরেজ বুদ্ধিজীবী সমাজের অতিরিক্ত প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু খুঁজে পান না। তার ‘আ রুম অফ অয়ান্স’ (১৯২৯) ও ‘থ্রি গিনিস’( ১৯৩৮) প্রবন্ধগুচ্ছ যুদ্ধ, আক্রান্ত হবার যন্ত্রণা, শ্রেণীগত চেতনা, মহিলা লেখকদের ও বুদ্ধিজীবীদের আইনগত ও অর্থনৈতিক সমস্যা, শিক্ষা ও সমাজ, মেয়েদের ভবিষ্যত দীর্ঘ আলোচনার ক্ষেত্র জুড়ে রয়েছে। 

মনোবিজ্ঞানীরা ও মনস্তাত্ত্বিক সমালোচকদের কয়েকটি বক্তব্য লক্ষ্য করার মতো:

প্রথমত আত্মহত্যা সম্পর্কে ওল্‌ফের মন্তব্য, দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন আলাপচারিতায় আত্মহত্যার গুরুত্ব নিয়ে ওল্‌ফের প্রতিফলন, তৃতীয়ত, সমস্যার সমাধানের বা পরিত্রাণের ভাবনায় আত্মহত্যার স্থান ও গুরুত্ব। এ কথা সঠিক যে ওল্‌ফ তিরিশের দশকে বন্ধু সুরকার ও গীতিকার এথেল স্মিথকে লিখেছিলেন,

“আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কি কি যুক্তি আছে, জানিও তো।...আমি জানতে চাই--‘এখানে সবকিছু শেষ করে দিই’-এই বোধটার বিরুদ্ধে যুক্তিটা কি?’’ (৩০ অক্টোবর,১৯৩০)। এর ছয় মাস পরে ২৯ মার্চ, ১৯৩১-এ আবার ওই প্রসঙ্গে লিখতে দেখা যায়। কোনো এক আয়োজনের শেষে, বাড়ি ফিরে, লিওনার্দের উদ্দেশ্যে লিখছেন : ‘If you weren’t here, I should kill myself-so much do I suffer.’’। দশদিন পরে ৮ এপ্রিল বিয়াত্রিচ্‌ ওয়েবকে আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা করতে শুনে তাঁকে লেখেন : ‘I wanted to tell you but was too shy, how much I was pleased by your views upon the possible justification of suicide. Having made the attempt myself, from the best of motives as I thought--not to be a burden on my husband--the conventional accusation of cowardice and sin has always rather rankled.’

আত্মহত্যা ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের এক চির আকর্ষণের বিষয় ছিল। খুব নৈর্ব্যক্তিকভাবে সুস্থ অবস্থায় আত্মহত্যা নিয়ে ভাবতেন। অতীতের আত্মহত্যার সুপ্ত ইচ্ছাকে যুক্তি দিয়ে সমর্থনের প্রয়াস করে যেতেন। আত্মহত্যার হিতবাদী ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের সান্ত্বনা খুঁজতেন। মৃত্যু তার বড়ো হওয়ার মধ্যে যেভাবে উপস্থিত,আর শিল্পীর তীক্ষ্ণতায় তা এতই ভাস্বর যে তার বর্তমান সব সময় অতীতের বাস্তবে বিঘ্নিত হতই, যা কাছের মানুষের অধরা থেকে যেত : ‘Each has his past shut in him shut in him like the leaves of a book known to him by his heart, and his friends can only read the title.’

 

 

 

।। ।।

 

‘Life is not a series of gig lamps symmetrically arranged; life is a luminous halo, a semitransparent envelop surrounding us from the beginning of consciousness to the end.’

তাহলে ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের আত্মহত্যার রহস্যময়তা জীবন ও সৃজনের অতিরিক্ত কোনো দিকে আমাদের কি নিয়ে যায় না?

আত্মহত্যা মূলত দু ধরণের-একটি প্রথাগত, অপরটি ব্যক্তিগত।

সাধারণভাবে জীবনকে একাকীত্ব, ঘৃণা, প্রতিশোধ, ভয়, শারীরিক যন্ত্রণা, অপরাধবোধ, অর্থনৈতিক অবনমন, জীবনবিমুখতা বা এই ধরণের তীব্র মানসিক সংবেদনশীল অনুভূতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে মানুষ আত্মঘাতী হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে আত্মহত্যা করে, সে মানসিক রোগী হয়,যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সে বিব্রত ও বিচলিত। এ সবের পরেও বলা যায়, শিল্পীর সংবেদনশীলতা অনেক সময় কি তাদের psychic censor-কে দুর্বল করে দেয়? কিন্তু ওল্‌ফের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যাও প্রযোজ্য নয়।

এ কথা বলে শেষ করা যায় যে ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের মতো বিদুষী, বুদ্ধিমতী, যুক্তিবাদী, রোমান্টিক, তীক্ষ্ণ আত্মসচেতন অভিজাত নারী, প্রথম সারির কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক, মনস্তত্ত্বে গভীর জ্ঞান, উনষাট বছর বয়সে অনুভব করেছিলেন তাঁর শিল্পীসত্তার মুছে যেতে থাকা উদ্দীপক--যাকে বাদ দিয়ে তাঁর thinking, feeling, willing, অস্তিত্ব, চেতন-সত্তা আর তিনি চিনতে পারছিলেন না। মনস্তত্ত্বে যাকে নিরবচ্ছিন্ন আত্মউদ্দীপন বা continuous self-stimulation of an artist বলে, সেই স্বতোৎসারিত উদ্দীপন ও তার থেকে নিঃসৃত কল্পনার স্রোত যখন স্তব্ধ হতে শুরু করে, তখন সেই identity crisis বা সত্তার সঙ্কটকে কেউ কেউ মেনে নিয়ে বেঁচে থাকতে চান না। যেমন ধরা পড়েছে ইংরেজ কবি স্যামুয়েল টেলার কোলরিজের কবিতায় তাঁর ‘ডিজেকশন : অ্যান ওড’ কবিতায়, হয়তো ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের অব্যক্ত যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি শোনার চেষ্টা করা যেতে পারে, ‘unroused’ মুহূর্তের প্রকৃতি ধরা পড়ে-

This night, so tranquil now, will not go hence unroused by winds

কোলরিজের ‘dull pain’ ওল্‌ফের ভেঙ্গে পড়া ‘বিটুইন দ্য অ্যাক্টস’-এর অসংলগ্ন ‘বেদনাহীন তড়িতাহত’ শোকের মতো; চেষ্টা করেও বুঝতে পারছেন, কিন্তু অনুভবে কথনকে সিক্ত করতে পারছেন না। একেই কোলরিজ ভাষা দিয়েছিলেন :

 

My genial parts fail;

And what can these avail

To lift smothering weight from off my breast?

It were a vain endeavour…

 

তাই ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ তাঁর শেষ লেখাকে ‘silly and trivial’ বলে চিহ্নিত করে বলেছিলেন ‘must be scrapped’। একসময় এই জগতের সব সমস্যাকে সৃষ্টির অন্তরমহলে জায়গা দেওয়া যেত :

 

       There was a time when though my path was rough,

       This joy within me dallied with distress,

       And all misfortunes were but as the stuff

       Whence Fancy made me dream of happiness:

       For hope grew round me, like the twining vire

       And fruits and foliage, not my own, seemed mine.

       But now afflictions bow me down to earth…

                                     (Dejection: An Ode)

সৃষ্টিশক্তি হারাবার শূন্যতা, ‘Reality’s dark dream’ ওল্‌ফ সহ্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর এই মনে হওয়াটা কতটা সঠিক, তা ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করবে। তিনি মানসিক রোগী ছিলেন না। মনরোগ বিশেষজ্ঞরা হতাশা, বেদনা, বিষাদকে মানসিক রোগ অন্তত বলেন না। ভেঙ্গে পড়া একটি মানসিক লক্ষণমাত্র। কিন্তু আত্মহননকে অনেক ক্ষেত্রে নিজের পরম শত্রুকে হত্যার এক পদক্ষেপ হিসাবে মনস্তাত্ত্বিক চিহ্নিত করেন। ওল্‌ফের শত্রু কে ছিলেন? তবে কি সৃষ্টির শেষ আলোতে দেখা নিজের নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার শূন্য সত্তাকে হত্যা করতেই তাঁর আত্মহত্যা ?

 

তথ্য ও উদ্ধৃতি সূত্র :

   

        দ্য ডায়েরি অফ ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ(১০৫ খন্ড,১৯১৫-১৯৪১)

        প্যাশানেট অ্যাপ্রেনটিস : দ্য আরলি জার্নালস (১৮৯৭-১৯৪১)

        দ্য লেটারস অফ ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ,১৮৪৪-১৯৪১(১-৬ খন্ড,১৯১৫-১৯৪০)

        দ্য প্ল্যাটফর্ম অফ টাইমঃ মেমোয়ার্স অফ ফ্যামিলি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস : এডিটেড বাই   এস.পি.রোসেনবস্‌ কালেকটেড এসেজ (১-৪ খন্ড)

        দ্য কমপ্লিট মরটার ফিকশন (১৯৮৫)

        দ্য অয়ার্কস অফ স্যামুয়েল টেলার কোলরিজ

        সুইসাইড, ক্যাভান রুথ

        সুইসাইড অ্যান্ড মাস সুইসাইড, এ.এম.বুস্ট

        ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ-এর উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ প্রাথমিকভাবে সবই তাঁদের প্রতিষ্ঠিত হগার্থ প্রেস থেকেই প্রকাশিত হয়।

 

দ্বিতীয় পর্ব :

‘নিরর্থক প্রহসনের ইতি’ : ভারজিনিয়া ওল্ফ - ২

 

প্রথম পর্ব:

‘নিরর্থক প্রহসনের ইতি’ : ভারজিনিয়া ওল্ফ - ১

 

Page 1 of 12

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree