Middle East

Hilal KARAHAN: Turkish poetess, writer, translator, mother and medical doctor (1977, Gaziantep/Turkey). She has been writing since 2000. She has 6 poem, 3 prose books and many selected poem books published in different languages. She has joined to many international collective books, bilingual poetry almanacs. Since she is intercontinental director of World Festival of Poetry (WFP) organisation, she takes part in organisation comittee of many international poetry festivals. She is recently a member of Turkish PEN, Turkish Authors Association and Turkish Language Society. She is General Secretary of  Writers Capital Foundation (WCP) and Turkish Ambassodor of World Institute of Peace (WIP) which are linked to UNESCO. She organizes Feminİstanbul and Mediterranean Poetry Festival every year. She has many national and international poetry awards. Since 2017, she is a member of publishing council of international bilingual poetry magazines of  Absent,Rosetta Word Literatura and Sahitya Anand. 

 

Middle East

- Dr. Hilal KARAHAN

 

 

1/

 It lulls the history on its feet since it gave birth to it,

 it combs louse from its hair with human ribs

 

2/

Skirts of the cities are scattered by desert winds

over stone courtyards, mosques, ancient squares,

vaulted streets which always lead to one another

Smell of ground coffee, spice and gunpowder

roasts on same coals

 

: Sands cover the blood, but cannot wash…

 

3/

Names of God written to the desert

are savagery, ignorance

Children are born and die

famine is their destiny, diarrhea is their fate

 

: Grudge does not make a wish…

 

4/

In the desert night

cold, belief and family consensus

warm up backing in one another

 

: Even if they are killed,

Bedouin felt does not penetrate blood...

 

5/

The women are bought and sold

in exchange for camel

They are circumcised from life

 

: Their faces are tattooed to men,

hearts are harvester…

কবি পরিচিতিঃ নিলস হাভ কোপেনহেগেন অধিবাসী  কবি ও ছোট গল্প রচয়িতা। তিনি ইতিমধ্যেই নিজেকে সমসাময়িক দৃঢ় কন্ঠের কবি ও সাহিত্যিক রূপে পরিচিত করেছেন। তার কবিতা ও গল্প অসংখ্য পত্রিকা ও সাহিত্য সঙ্কলনে প্রকাশিত হয়েছে। তার ইংরেজি কাব্য সংকলন “God’s Blue Morris, প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৩ এ ক্রেন সম্পাদনায়। দ্বিতীয় সংকলন  “ উই আর হেয়ার” নামে ২০০৬ এ বুক থাগ অফ টরন্ট থেকে বের হয়। সম্প্রতি নীল হাবের নির্বাচিত কবিতা U Odbranu Pesnika, সার্বিয়ান ভাষায় অনুদিত হয়েছে যা প্রকাশিত হয়েছে রাড বেলগ্রেড ২০০৮ থেকে। পশ্চিম ডেনমার্কের খামার বাড়িতে বড় হয়ে এখন তিনি ডানিশ রাজধানীর সবচেয়ে রঙিন ও বহু বর্নের অংশে থাকেন। তিনি ইউরোপ এশিয়া উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকা ভ্রমন করেছেন। ডেনিশ অধিবাসী থাকাকালিন তিনি তিনটি ছোট গল্প ও পাঁচটি কাব্য সংকলন রচনা করেন যা ২০০৪ এ গাউন্ডস্টপ গিলগেন্ডাল থেকে বের হয়। তিনি ডানিশ আর্ট কাউন্সিল থেকে অসংখ্য সম্মানিত পুরস্কার লাভ করেন ।

 

কোপেনহেগেনের নারীরা

-নিলস হাভ। 

 অনুবাদ: নীলাঞ্জনা অদিতি

 

আমি আবার প্রেমে পরলাম 

এবার ভিন ভিন্ন পাঁচ জন নারীর 

৪০ নম্বর বাসে ভ্রমনের সময় 

যা নজলসগড থেকে অস্টারব্র এর দিকে যায়। 

এই অবস্থায় কেউ কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? 

একজন পরেছিল পশমের কোট, 

অন্যজন লাল বুট জুতো 

তাদের মধ্যে একজন সংবাদপত্র পড়ছিল 

আরেকজন হাইডেগার। 

আর রাস্তা গুলো বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছিল। 

প্রশস্ত পথ ধরে ভিজে যাওয়া রাজকুম্আরী প্রবেশ করলেন 

শ্রুতিমধুর এবং সন্ত্রস্ত, 

আমি পুরাপুরি তার প্রেমে পরলাম 

কিন্তু সে লাফ দিয়ে পুলিশ স্টেশনে চলে গেল 

এবং উত্তপ্ত রুমাল সহযোগে 

দুটে সাইরেনের জায়গায় প্রতিস্থাপিত হল। 

তারা পাকিস্তানি ভাষায় কথা বলচ্ছিল 

পৌর হাসপাতালের দিকে যেতে যেতে সারা পথে, 

য়খন বাস কবিতার উত্তাপে পুড়ছিল। 

তারা দুজন বোন ছিল এবং ছিল সমান সুন্দরী 

কাজেই দুজনকেই আমি আমার হৃদয় দিয়ে দিলাম 

আর সাথে সাথেই রাওয়ালপিন্ডির কাছের গ্রামে 

নতুন জীবন শুরুর কথা ভাবলাম। 

যেখানে শিশুরা গোলাপের সুগন্ধের মত বাড়ে 

যেখানে তাদের অস্থির মায়েরা মন ভাঙ্গার গান গায় 

যেন সন্ধ্যার কোন সাধারন গুপ্তচর।

 

কিন্তু তারা আমাকে দেখতে পায়নি 

পশমের পোশাক পরা মেয়েটা 

দস্তানার নীচে কান্না লুকাচ্ছিল, 

যখন সে ফারিমাগগেড এ নামল 

যে মেয়েটি হাইডেগার পড়ছিল 

হঠাৎ বন্ধ করে ফেলল সেটি। 

তারপর, আমার দিকে অবজ্ঞার হাসি নিয়ে তাকাল 

যেন সে হঠাৎ অস্তিত্বহীন কাউকে দেখেছে 

তার স্বীয় মর্যাদায়। 

এভাবেই আমার মন পঞ্চমবারের মত 

ভেঙ্গে গেল! 

যখন সে বাস থেকে নেমে সবার সাথে চলে গেল 

জীবনকে নিষ্ঠুর মনে হল, 

থামার আগে, আমি আরো দুটো জায়গায় গেলাম 

সব সময় শেষটা এমন হয় 

যেন আমি বাধার মুখে একা 

সিগারেট ফুঁকতে থাকা 

ব্যথিত এবং হাল্কা বিষন্ন।।

 

© Niels Hav  

 

 

Women of Copenhagen

 -Niels Hav

 

I have once again fallen in love

this time with five different women during a ride

on the number 40 bus from Njalsgade to Østerbro.

How is one to gain control of one’s life under such conditions?

One wore a fur coat, another red wellingtons.

One of them was reading a newspaper, the other Heidegger

--and the streets were flooded with rain.

At Amager Boulevard a drenched princess entered,

euphoric and furious, and I fell for her utterly.

But she jumped off at the police station

and was replaced by two sirens with flaming kerchiefs,

who spoke shrilly with each other in Pakistani

all the way to the Municipal Hospital while the bus boiled

in poetry.  They were sisters and equally beautiful,

so I lost my heart to both of them and immediately planned

a new life in a village near Rawalpindi

where children grow up in the scent of hibiscus

while their desperate mothers sing heartbreaking songs

as dusk settles over the Pakistani plains.

 

But they didn’t see me!

And the one wearing a fur coat cried beneath

her glove when she got off at Farimagsgade.

The girl reading Heidegger suddenly shut her book

and looked directly at me with a scornfully smile,

as if she’d suddenly caught a glimpse of Mr. Nobody

in his very own insignificance.

And that’s how my heart broke for the fifth time,

when she got up and left the bus with all the others.

                                           Life is so brutal!

I continued for two more stops before giving up.

It always ends like that:  You stand alone

on the kerb, sucking on a cigarette,

wound up and mildly unhappy.

 

© Niels Hav  - Translated by P.K. Brask & Patrick Friesen

|| তারিক সামিন ||

 

এই গল্পের চরিত্র ও ঘটনা প্রবাহ কাল্পনিক। নির্দিষ্ট কোন দলের পক্ষে বা বিপক্ষে আমার কোন বক্তব্য নেই। কারণ বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের হাতেই লেগে রয়েছে সাধারণ মানুষের রক্ত। এটি এদেশের নিপীড়িত ও লাঞ্ছিত মানুষের সকরুণ আর্তনাদের একটি গল্প। - লেখক।

 

বার্ন ইউনিটে স্বামীর লাশের পাশে বসে আছে মিতু। লাশের সারা শরীর এখনো ব্যান্ডেজ মোড়ানো। মুখটা রক্তশূন্য, ফ্যাকাসে।  গত একুশটা দিন তীব্র কষ্টে, অমানুষিক যন্ত্রণা পোহাতে পোহাতে আজ ভোরে মৃত্যু হয়েছে তার স্বামী শাহরিয়ার হকের।

মিতু বসে আছে। নিঃশব্দে কেঁদে চলছে সে। তার গর্ভবতী ভারী শরীর কেঁপে উঠছে একটু পর পর।  একটা ছোট ডায়েরী, তাতে জীবনের শেষ কথাগুলো অলৈাকিক ভাবে লিখে গিয়েছে শাহরিয়ার। মিতু পড়ে চলছে, সমস্ত শোক ভুলে, যেন চিঠির মধ্যে হারিয়ে গেছে সে। শাহরিয়ার লিখেছে...

 

১০ই ডিসেম্বর ২০১৩ ইং

 

প্রিয় মিতু,

আমার মনে হয় সময় ঘনিয়ে আসছে। আগামীকাল হয়তো আমাদের আর দেখা হবেনা। মৃত্যুকে এত কাছাকাছি  দেখবো কখনো ভাবিনি। গত বিশটা দিন হাসপাতালে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলোর তীব্র আর্তনাদ, ফিনাইল আর ডেটলের গন্ধ, স্বাদহ্নীন তরল খাবার, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চিকিৎসায় প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা খরচের দুঃচিন্তা, এসবের মধ্যেও; এখানে এসে বুঝলাম মানুষ মানুষের কত আপন। একজন অসুস্থ, রোগাক্রান্ত আর অসহায় মানুষের দুঃখ অপর একজন অসহায় মানুষই ভাল বোঝে। তাই মনেহয় মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ হাসপাতালেই বেশী।

এখানে আমাদের ওয়ার্ডের নার্স রিক্তা আপা। ভারী মিষ্টি তার ব্যবহার। অত্যন্ত নিবেদিত ভাবে প্রত্যেক রোগীর সেবা করে সে ।  তার শ্যামবর্ণ, অতি সাধারণ মুখমণ্ডল, দেখতেও খুব সাদাসিধে। তবুও এই মানুষটির মধ্যে আমি একজন দেবীর দেখা পেয়েছি। নার্সরা আমাদের সমাজের সবচাইতে মহান পেশার মানুষ। রিক্তা আপা বিবাহিত, ওনার চার বছরের একটি ছেলে আছে। স্বামী-সন্তান ছেড়ে মাঝে-মাঝেই নাইট ডিউটি করতে হয় ওনাকে।

গত পরশু আমার প্রচণ্ড জ্বর ছিল। আমার পাশের বেডের দেলোয়ার ভাইয়ের ড্রেসিং পড়ানো হচ্ছিল। তার কাতরানো আর গোঙ্গানির শব্দে দর্শনার্থী দুইজন সুস্থ-স্বাস্থ্যবান যুবক জ্ঞান হারিয়ে ধপাস করে পড়ে গেল। এমনিতে ডাক্তাররা কাউকে বার্ন ইউনিটে ঢুকতে দেয়না। এখন লোকে-লোকারণ্য। দেলোয়ার ভাইয়েরও আমার মত শরীরের ৪০% এর বেশী পুড়ে গেছে। প্রথম যখন এসেছিল, সারা শরীর কালো পোড়া; ফোস্কার ভেতর পানি জমতে শুরু করেছে। ওনার শরীরে স্যালাইন দেবার জন্য রগ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা।  ডাক্তার আর নার্সরা অনেক ধৈর্য ধরে ঔষধ দিল, মলম দিল, তারপর ব্যান্ডেজ করলো। আমার ঘা-গুলো শুকিয়ে আসছে, কোথাও কোথাও হলুদ পদার্থ জমেছে, গভীর ক্ষত গুলো থেকে রক্ত বের হয় মাঝে মাঝে।

হায়! আমরাতো কত কিছুই চোখের সামনে পুড়তে দেখি। কারো ঘর পুড়ে, কারো কপাল পুড়ে কিন্তু যাত্রীবাহী বাসের ভেতর দগ্ধ মানুষগুলোর পোড়া শরীর যেন আমাদের কারো দেখতে না হয়!

দেখ-দেখি কি বলতে কি বলছি। কোথায় সিস্টার রিক্তা আপার কথা বলাবো, তা-না-বলে বারবার তোমার মন খারাপ করে দিচ্ছি। আমার হাতদুটো অলৈাকিকভাবে খুব সামান্য পুড়েছে, তাই সারাদিন এসব হাবিজাবি লিখি। আগুনের প্রচণ্ড তাপ নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করার কারণে আমার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, কথা বলাতে কষ্ট হয়, তবুও বলি। যতক্ষন ব্যথা কম থাকে, মাঝে মাঝে আলাপ জুড়ে দেই সিস্টার রিক্তার সাথে। সেদিন আমাকে তোমার কথা জিজ্ঞাসা করলো। আমি বললাম আর কয়েক সপ্তাহ পরই আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। শুনে উনি খুব খুশি হল। আবার একটু  পর মনে হল, চোখের কোনে সামান্য পানি। সিস্টারকে আমার জীবনের স্বপ্নের কথা, তোমার কথা, আমার ব্যবসা আর জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতার কথা বলি। শুনে সিস্টার  দুঃখ করে বলে, ইস্ আপনার মত এত বুদ্ধিমান, এত ভাল আর সৎ মানুষের জীবনে এমন কেন হলো!

চলন্ত বাসে যারা পেট্রোল বোমা মারে, ওরাতো মানুষকে মারে না; ওরা মারে ঘুণে ধরা, পচে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থার উপর। যে রাষ্ট্র, সমাজ ব্যবস্থা ওদের অমানুষ বানিয়েছে, হয়তো তাদের লক্ষ করে। কপাল দোষে পুড়ে মরে কর্মঠ মানুষ। সন্তানের চিকিৎসা করতে আসা মা আর তার দুই বছরের অবুঝ শিশু, এমন আরো কত নিরীহ মানুষ।

আমি প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাই, দয়াময় আমাকে আবার সুস্থ-সবল করে দাও।  আমি যেন আমার স্ত্রী-সন্তানের সাথে আর ক’টা বছর সুখে জীবন-যাপন করতে পারি। আমার অনাগত সন্তান, যে এখনো তোমার গর্ভে, তার জন্যও খুব কষ্ট হয়। হায়! এই দেশে তাকেও জন্মাতে হবে। অনাচার আর অবিচারের স্বর্গরাজ্যে এই দেশে,  পদে পদে দুঃখ-কষ্টে কাটবে তার জীবন্।

এই যা! ফের দুঃখের কথা বলছি। শোন, তুমি আগামীকাল যখন হাসপাতালে আসবে, সুন্দর করে সেজে আসবে।  আমার মনটা ভীষণ খুশি হয় তোমাকে দেখলে। আমার বাবুটা কেমন আছে? দুষ্টুমি করে? এখনো কি হঠাৎ পেটের ভেতর থেকে লাথি মারে? দেখে নিও অনেক দুষ্ট হবে। তোমার বমিটা কমেছে?  মা কি এখনো অনেক কান্না-কাটি করে?

শিমুলকে বলো, ও যেন মাঝে মাঝে ব্যবসাটার দেখাশোনা করে। বাজারে অনেক টাকা বাকি পড়ে আছে। টাকাগুলো তুলতে হবে। এদিকে আমার পেছনে-তো লক্ষ-লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। একবারে মরে গেলেও বেঁচে যেতাম।  এই আট-দশ লক্ষ টাকা দিয়ে আমাদের সন্তানটির ভবিষ্যৎ খরচ চলতো। হাসপাতালের সবাই রিক্তা আপার মত নিবেদিতপ্রাণ মানুষ নয়। এখানে সবাই পরিশ্রম করে, তবে টাকাটাই মুখ্য অনেকের কাছে।  মানুষের কষ্ট আর যন্ত্রণা থেকে লাভবান হবার একটা লালসা দেখি এদের মধ্যে। ঠিক আমাদের রাজনীতিবিদের মতো।  

ইদানীং তোমার কথা খুব মনে পড়ে। তোমার সুন্দর মুখ, স্নিগ্ধ হাসি, সিল্কের মত মসৃণ চুল, চোখের সামনে ভেসে উঠে। শোনো তুমি ভাল থেক, নিজের প্রতি যত্ন নিও। বেশি করে খাওয়া-দাওয়া কর। আমাদের সন্তানটা যেন সুস্থ-সবল হয়। এই নরক রাজ্যে, যেখানে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি, সীমাহ্নীন অসৎ প্রতিযোগিতা। জেনে রেখো, সেখানে দুর্বলের কোন স্থান নেই।  এদেশে মানুষের দুঃসময়ে সবাই বাড়তি কিছু আয়ের চিন্তা করে।

বাবা যেভাবে আমার সেবা করছে, তাতে আমার শৈশব স্মৃতি মনে পড়ছে। তুমিতো জানো, বাবা বরাবরই রাগী মানুষ। কিন্তু ছোটবেলায় আমাকে খুব আদর করতো। বাজারে গেলে আমি সবচেয়ে বড় মাছটা পছন্দ করতাম। মাঝে মাঝে টাকা থাকতো না। তবুও বাবা আমার জন্য সবচেয়ে বড় মাছটা কিনতো। শুধু মাছ নিয়ে বাসায় ফিরলে মা খুব রাগারাগি করতো। বলতো, চাল-ডাল, তরু-তরকারী কোথায়? শুধু বড় মাছ খেয়েই কি পেট ভরবে? কিন্তু বাবা  আমার আনন্দটাকেই বড় মনে করতো। আমি বড়ই স্মৃতি-ভোলা মানুষ। বাবার ভাল গুন গুলো মনে না রেখে; শুধু রাগ গুলোই মনে রাখতাম।

আজ রিক্তা আপার মেজাজ একটু খিটখিটে। বাসায় ছেলেটার জ্বর। কিছু দিন হলো ওনার স্বামীর চাকুরী চলে গেছে। বাসায় বসে থাকে, তবুও নাকি ছেলেটার যত্ন নেয় না। আয়াকে বকা দিল, আমার প্রস্রাবের থলেটা পাল্টে দেয়নি বলে। তারপর আমাকে ঔষধ খাইয়ে দিল। সাক্ষাত যেন কোন মায়াময়ী দেবী। একটু আগেও ডাক্তার এসেছিল। বললো, আমার পায়ে গ্যাং-গ্রিন হচ্ছে, সেই জন্যই প্রচণ্ড  দুর্গন্ধ।

এই ইন্টারনেটের যুগে কেউ কি আর চিঠি লেখে বলো?  তবুও আমার লিখতে ভীষণ ভাল-লাগে। আমি মরে গেলে তুমি পড়ো, তারপর রেখে দিও আমার অনাগত সন্তানের জন্য। তাকে বলো, আমাকে নির্মম পাশবিক রাজনীতির বলি হতে হয়েছে। এমন দুঃসময়ে তাকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার জন্য; বাবা হিসাবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

আমার সকল ভুলের জন্য আমি তোমার মাধ্যমে সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়াকরো আমার মত হতভাগ্য, এ পৃথিবীতে আর যেন জন্ম না নেয়। তুমিও  আমার ভুল-ক্রটি গুলো ভুলে যেও।

 

ইতি,

তোমার স্বামী

শাহরিয়ার।  

ফাহরেদিন শেহু একজন কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক এবং বিশ্ব আধ্যাত্মিক রীতি ও ঐতিহ্য বিষয়ে স্বাধীন বৈজ্ঞানিক গবেষক। ১৯৭২ সালে কসোভোর দক্ষিণ পূর্ব রাহেভেকে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রিস্টিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্য গবেষণা বিষয়ে স্নাতক।

শন্খের মালা ফাহরেদিন শেহু একটি জনপ্রিয় কবিতা। একে বাংলায় রূপান্তর করেছেন কবি তারিক সামিন।

 

শন্খের মালা

মূল: ফাহরেদিন শেহু

অনুবাদ: তারিক সামিন

 

আমাদের সকল ব্যাপ্তি সত্ত্বেও

অভিশপ্ত  ফোটাগুলো পতিত হচ্ছে

কোমল ত্বকের উপর।

পুরাতন কবরস্থান যাবার পথে

একপাল পায়রা এক একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে

যাত্রীদের দিকে।

আমরাই ছিলাম সেই যাত্রী

মাটিতে অনধিকার

প্রবেশকারী।

 

আমরা ততক্ষন গলধরন করি

যতক্ষণ না এটি ধনীদের পেটের মতন পূর্ণ হয়,

আমরা তো ধনী নই

তারপরও আমরা পূর্ণ;

পার্থিব জিনিস আমাদের বোধ সংকীর্ণ করেছে

এবং আমাদের সিদ্ধান্তগুলোকে ।

 

একটি বয়সের জন্য আমারা ভাবপ্রবণ

যখন আমরা পুরুষরা ভালবাসতে সক্ষম।

সেটা না বললে অথবা

উচ্চারণ না করে বললে

অনেক বেশী কামনাপূর্ণ

দৈনিদিন একটি জৈবিক গ্রাস।

 

পর্যটক ও দর্শক হিসেবে

আমরা প্রাচীন ঐতিহ্যর উপর দাম্ভিকভবে দাঁড়িয়ে।

নারী ও শিশু এবং

তাদের সঙ্গে বলপূর্বক অধিকারগুলো

তাহারা স্বয়ং ঈর্ষানিত্ভাবে রক্ষাকরে

তাদের মৃত সংস্কারকে।

আমরা এই সম্পর্কে সচেতন

কিন্তু কার্যকর কোন শব্দ উচ্চারন করি না

আঘাত ও বিস্ফোরিত  করতে।

 

আমাদের ফেরার পথে

আমার প্রিয়তমা হারিয়েছে

ভারত মহাসাগরের শন্খ দিয়ে তৈরি একটি মালা

আমি জেরুজালেমের বাজার থেকে সেটি কিনেছিলাম

একজন আর্মেনীয় বণিক থেকে

এবং আমরা কখনোই দু:খ প্রকাশ করিনি সেজন্য।

 

Necklace of Shells

-Fahredin Shehu

 

 

Despite all our radiation

drops of curse have fallen

upon a gentle skin.

 

On our way to the old cemetery

a flock of doves were gazing

the passengers.

 

We were the passengers

encroaching on the soil

we shall nearly fill

until it gets full as the stomach

   of the rich        

 

The rich we were not

yet we were full of

earthly things narrowing our space

and our settlements

 

Our sentiments for an age

when Men were able to love

without saying it or

speak without uttering it

are far more a longing for

the morsel of a daily bread.

 

As wanderers and bystanders

we stood lofty above the graves of old

women and children and

some of them taking with

themselves- jealously protecting

their Lithopedion

 

We were aware of this

but no word may have such potency

to burst and bang.

 

On our way back

my love lost a necklace made

of shells from Indian Ocean

I bought in Jerusalem’s bazaar

from an Armenian merchant and

we never regret.

 

 

 

লেখক পরিচিতি:
শরাফত হোসেন মূলত কবি। প্রকাশিত কবিতার বই ‘ঘাসঢুল তোমার সাথে’ ও ‘ফিরে আসি কাচের শহরে’। জন্ম ১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বাবা জয়দুল হোসেন, মা হাসনেয়ারা বেগম। স্কুল জীবন থেকেই নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। লেখালেখির শুরু ওই সময়েই।  একাধিক জাতীয় দৈনিকের বিশেষ সংখ্যা সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে ‘সাহিত্য একাডেমি পত্রিকা’র নির্বাহী সম্পাদক। সম্পাদনা করছেন ‘বুক রিভিউ’। বর্তমানে কাজ করছেন সংবাদ মাধ্যমে। পড়াশুনা ব্যবসায় প্রশাসনে। জাতীয় কবিতা পরিষদ, পেন বাংলাদেশ, সাহিত্য একাডেমিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত করে আনন্দ পান।


অখণ্ড 

শরাফত হোসেন

এক.
শৈশবের শ্লেটে সাজিয়ে রাখি সারি সারি দুঃখ
চায়ের ধোঁয়ায় শিশির জমে কাচঘেরা পাতাগাছে
চোরাস্বপ্নেরা ডুবে থাকে গানে-কবিতায়

দুই.
অবিরত ঝরে পড়া বৃষ্টির জলে জেনেছি
দুঃখ বলে কিছু নেই; আছে হাহাকার
অতৃপ্তি- না পাওয়া!

তিন.
হলুদ শার্টে তোমার আকাশ ফিকে হয়ে আসে
কালো চুলে ওপরে ওঠার সিঁড়ি
একটু হাসো- তোমার নিঃশ্বাসে গেয়ে উঠবে পাখি
বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে জল খুঁজে পাবে আশ্রয়

যেমন আমি- ভরদুপুরে, বৃষ্টিতে, রোদ্দুরে
এমনকি অন্ধকারে খুঁজে বেড়ায় শব্দমালা
তোমার নূপুরে, গলার লকেট, কানের দুলে-
অথবা দীর্ঘশ্বাসে।



সীমানা 
শরাফত হোসেন

আকাশে গুচ্ছ মেঘের দল আনমনে পেরিয়ে যায় সীমারেখা
নিজের অজান্তেই শালিক পাখিটি ওপার ঘুরে আসে।

তোমাদের সীমানা প্রাচীর হয়ে বৃষ্টির জল
নেমে আসে এ তল্লাটে- অনায়াসে
ঝড়ো হাওয়ার সাথে শুকনো পাতার দল।
সাগরের স্বচ্ছ জলে মুখ লুকাতে হাপিয়ে উঠি
আলিঙ্গনের দূরত্ব রাইফেলের নল
এপারে আসতে মানা, ওপারে যেতে
এই পথ আমার নয়; ওই পথ তোমার
হৃদয়ে রক্ত ঝরে, শীতল হয়-
এপারে জল ছুঁয়ে দিলে তোমার উঞ্চতা অনুভব করি
বাতাসে সুগন্ধী
এপারে আসতে মানা, ওপারে যেতে
অন্ধকার ডুবে থাকে কাঁটাতার জুড়ে।



ফলন
শরাফত হোসেন

স্মৃতিরা ছবি হয়ে ভাসে; ছবি কেবলই স্মৃতি।
পাতাদের মজ্জাগত দোষ, কথা বলে বাতাসে
এই গরমে নাড়িস না কেউ জল
ভাতের হাড়ি ভাঙিস না কেউ।
উঠোন ভরতি মানুষ ছিল- হারিয়ে গেছে
সোনালি দিন মিলিয়ে গেল জলের দেশে
নাড়িস না কেউ জল।

মাটির চুলা একই আছে; ধুপধোঁয়া মন
ধানের ডগায় বসছে শিশির; শর্ষে ফুলে মৌ।

 -তারিক সামিন 

কি আর্শ্চায এক গভীরতা

প্রশান্তি আছে তোমার মাঝে,

আর-

কি আশ্চর্য এক অস্থিরতা

বিরাজ করে আমার মাঝে।

তুমি কত শান্ত-প্রেমময়ী-বাস্তববাদী

আর-

আমি কী ভাববাদী রুপকময়ী!

তুমি যখন আকাশের মত বিস্তৃত হও

তখন আমি সাগরের গভীরতা খুঁজি,

বিপ্লব-বিদ্রোহ আর বাধভাঙা আমার নীতি

বাঁধন-বশীকরণ আর সম্মোহন তোমার রীতি।

আমি ভেঙে গড়তে চাই

মরে চাই বাঁচতে;

তুমি নিশ্চয়তা চাও

আর চাও ভালোবাসতে।

Page 6 of 6

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree