Literary Editor

 

‘নিরর্থক প্রহসনের ইতি’ :  ভারজিনিয়া ওল্‌ফ

 

 প্রাবন্ধিক :অভীক গঙ্গোপাধ্যায়

 

 

লেখক পরিচিতি:

অভীক গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। লেখার পাশাপাশি সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মান সাহিত্য ও ভাষার প্রতি বিশেষ আগ্রহী। ইংরেজি ও বাংলায় প্রবন্ধ ও সৃজনশীল রচনায় সমান কৃতী। নন্দনতত্ত্ব, সাহিত্যতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, বিশ্লেষণধর্মী সাহিত্য সমালোচনা, বিতর্কিত ঐতিহাসিক বিষয়, দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় মতবাদ প্রভৃতি বিষয়ের ওপর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৩০। এছাড়া ইংরেজি ও বাংলায় সম্পাদিত ছয়টি কাব্যগ্রন্থ ও গল্পসংকলন দেশে ও বিদেশে পর্যালোচিত। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইব্রেরি অফ পোয়েট্রি’ থেকে ‘এডিটরস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন ২০০২ সালে।

‘ভাষার মৃত্যু, লুপ্ত ও বিপন্ন ভাষার খোঁজ’  এবং ‘ডায়াস্পোরা : তত্বে ও অভিঘাত সাহিত্যে’ বই দুটির জন্য একাধিক সম্মান পেয়েছেন। বিশ্বের ৯০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ প্রচলিত ভাষায় কথা বলেনা। ভাষাতো শব্দের সংকলনমাত্র নয়, ভাষা এমন এক চাবি যার সাহায্যে জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রকৃ্তিচেতনা, জগতের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশের পন্থা, রসিকতা, ভালোবাসা, জীবন দর্শন জানার এক প্রামাণিক সাক্ষ্যের মুখোমুখি হতে পারি। এই জীবিত হৃৎযন্ত্র থেমে গেলে, ভাষা-মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, মানুষের নিজের আত্মপরিচয় অবচেতনে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে,  অবষাদ ও আসক্তির জালে ব্যক্তি ও সেই সমাজ জড়িয়ে যায়।

সারা পৃথিবী জুড়ে উদ্বাস্তু, শরণার্থী, প্রত্যাবর্তক, মানসিকভাবে স্থানচ্যুত এবং রাজ্যহীন মানুষদের সত্যকে তুলে ধরতে এই ‘ডায়াস্পোরা' গ্রন্থ । ‘ছেড়ে আসা’, ‘ফেলে আসা’, ‘ছেড়ে চলে যাওয়া’ অনুভূতির পাশাপাশি উদ্বাস্তু মানুষের মানসিক অভিঘাত, অযাচিত পরিযায়ী, অনাহূত দেশান্তরীয় চেতনা ধরা থাকে ডায়াস্পোরীয় সাহিত্যের আখ্যানের মধ্যে।

ভাষাচর্চা ও ডায়াস্পোরা বা স্থানচ্যুত মানুষের মানসিক অভিঘাতে ভাষার পরিণতি নিয়ে লেখা ও কাজের জন্য জার্মানির Heinrich-Heine-Universität Düsseldorf , ফ্রান্সের Université Paris-Sorbonne , স্কটল্যান্ডের The University of Edinburgh, কানাডার  Canadian Diaspora Communities, Cultural Confederation   ও বাংলাদেশের রাঢ় ও বরেন্দ্র ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা পরিষদ থেকে সম্মানিত ।

এছাড়া  গ্রন্থকার কয়েকটি দেশী-বিদেশী দৈনিকে উত্তর-সম্পাদকীয় ও শিল্প-সাহিত্য পৃষ্ঠায় নিয়মিত লেখক। কাজ-অকাজের আরও খোঁজ www.avikauthorindia.com  ও facebook.com/avik.gangopadhyay

 

  

                                                                                                                                                                                                                                                                       

 

“If you do not tell the truth about yourself you cannot tell it about other people.”

বেলা সাড়ে এগারোটার সময় সাসেক্স-এর বাড়ির গা ঘেঁষে যাওয়া আউসে নদীর পথে ঊনষাট বছরের স্থির ব্যক্তিত্বের দৃপ্ত ভঙ্গিতে একটি লাঠি হাতে এক মহিলার হেঁটে যাওয়া চোখে পড়ছিল অনেকেরই। চেনা মুখ, হাতে সেই পরিচিত লাঠি, দিনটা ১৯৪১-এর ২৮ মার্চ। বাড়ি ছেড়ে বেরোবার সময় রেখে গেছেন একই বয়ানের দুটি চিঠি। একটি দশদিন আগের লেখা বোন ভানেসা-কে। আর একটি একটু আগেই শেষ করা, স্বামী লেওনার্দকে। চিঠিতে লেখা :

‘প্রিয়, আমি নিশ্চি ত, আবার আমি ভারসাম্য হারাচ্ছি। আমি অনুভব করি যে আর একবার ওইরকম বীভৎস সময়ের মধ্যে দিয়ে আর আমাদের চলা সম্ভব নয়। আর এবার আর আমি সেরে উঠবো না ।আমি মনঃসংযোগ করতে পারছিনা । নানারকম কথা শুনতে শুরু করেছি। তাই যা সব থেকে গ্রহণযোগ্য তাই আমি করছি। সব সম্ভাব্য সুখ তুমি আমায় দিয়েছ। একজনের যা হওয়া উচিত সব দিক থেকেই তুমি তাই। এই বীভৎস রোগ আসার আগে আমার মনে হয় না দুজন মানুষের জীবনে সুখের কোনও অভাব ছিল। আমি আর লড়াই করতে পারছিনা। আমি জানি যে আমি তোমার জীবনটাই নষ্ট করেছি, এও জানি যে আমার অবর্তমানে তুমি কাজ করে যেতে পারবে। আমি জানি তুমি পারবে। দেখছ, আমি এটাও গুছিয়ে লিখতে  পারছিনা। আমি পড়তে পারিনা। আমি এইটুকুই বলতে চাই যে আমার জীবনের সব সুখের ঋণ তোমার কাছে। তুমি যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছ এবং আমার প্রতি এত বেশি ভাল ছিলে....। সবাই এটা জানে তাও আমি বলতে চাই। যদি কেউ আমাকে বাঁচাতে পারত, সে তুমি। সবকিছু আজ আমাকে ছেড়ে গেলেও তোমার ভালবাসার নিশ্চয়তা অটুট। এভাবে আমি তোমার জীবন নষ্ট করতে পারিনা। আমার মনে হয়না আমাদের দুজনের মতো এতো সুখী কোনও দুজন মানুষ দেখি’।  

কুড়ি দিন পরে ১৮ই এপ্রিল একদল বাচ্চা আউসে নদীতে নিখোঁজ এই বিশ্বখ্যাত মহিলার মৃতদেহের খোঁজ দেয়। ভারী বড়ো কোট, প্রতিটা পকেটেই ভারী পাথর-- স্বামী লিওনার্দ দেহটি শনাক্ত করেন--তার স্ত্রী ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ। ইংরেজ ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, পত্রসাহিত্যিক, প্রকাশক, গল্পকার ও বুদ্ধিজীবী, নারীবাদী, বিংশ শতাব্দীর আধুনিক সাহিত্যের আধুনিকতার প্রবক্তাদের অগ্রজ ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের জীবনের শেষটাও স্বরচিত।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তর্বর্তী সময়ের লন্ডনের সাহিত্য সমাজের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব, ‘ব্লুমস বেরি গ্রুপ’-এর অন্যতম সদস্যা ভার্জিনিয়া ওল্‌ফকে নিয়ে একদিকে সাহিত্য সমালোচকদের মধ্যে যেমন অস্বস্তি ছিল, অন্যদিকে মৌলিক প্রতিভাধর ঔপন্যাসিক কবি ও নাট্যকারদের কাছে এরকম আঙ্গিকের পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিল্পীর বুদ্ধিদীপ্ত সান্নিধ্য ও উপস্থিতি অনুসরণীয় ছিল। টি.এস.এলিয়ট উৎসাহ দিয়ে লিখেছিলেন তাঁর এই বান্ধবীকে, ...you have freed yourself from any compromise between the traditional novel and your original gift…..’

 

 

প্রথম নজরে মৌলিকতাকে চিনতে পারার অক্ষমতা সর্বজনীন, তীক্ষ্ণ সমালোচনায় প্রথাবহির্ভূত বিষয় বা রচনাশৈলির সীমা লঙ্ঘন করা যে চিরকালই প্রশ্রয় পায় না,  ১৯২২ সালে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক জন মিডিলটন মারে’র আক্রমণাত্মক প্রবন্ধ তারই নিদর্শন ছিল। তবে বিরূপ সমালোচনা বা স্বীকৃতির অভাবে যেভাবে বহু স্রষ্টার সত্তাকে ও জীবনকে আত্মহননের দিকে নিয়ে গেছে, ভার্জিনিয়া ওল্‌ফ সেই শ্রেণীভুক্ত নন। প্রায় ১৮টি প্রকাশিত গ্রন্থের লেখক (‘লেখিকা’ শব্দটি ইচ্ছাকৃত ভাবেই বাদ দিলাম), সমাজসংস্কারক লেখক ও ফেবিয়ান স্বামী লিওনার্দ ওল্‌ফের স্ত্রী, প্রি-র‍্যাফায়লাইট চিত্রকরদের পছন্দের মডেল অসাধারণ রূপসী জুলিয়া প্রিন্সেপ স্টিফেন-(১৮৪৬-১৮৯৫) এরও প্রতিষ্ঠিত লেখক, সমালোচক, জীবনীকার ও পর্বতারোহী স্যার লেসলি স্টিফেন এর কন্যা--সাধারণ মনোরোগের স্বীকার হবার কোনো উপাদান নিয়ে জন্মগ্রহণ করেননি ও বড়ো হয়ে ওঠেননি। ভিক্টোরিয় সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে বড়ো হয়ে ওঠা ভার্জিনিয়া ওলফ্‌-এর অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর যে সামাজিক ভিত্তির ওপর ইংরেজি উপন্যাস প্রতিষ্ঠিত ছিল তার ভিত্তিকে আঘাত করার ক্ষমতা ছিল। তাই ভাগ্য, বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে মানুষের অবস্থান, সামাজিক সম্পর্কের সাফল্য-অসাফল্য যে ভিক্টোরিয় উপন্যাসের বৃত্ত ছিল, তার থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক উপন্যাসের নামে যে উপন্যাস রচিত হচ্ছিল, তা যে যথার্থ আধুনিক নয়, লিখিত প্রবন্ধের মধ্যে দিয়েই এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করে খ্যাতির স্বীকৃতি তাঁর জীবনে প্রথম ঘটে। ১৯২৩ সালে লিখিত ও ১৯২৪-এ প্রকাশিত এই প্রবন্ধে-‘মিস্টার বেনেট অ্যান্ড মিসেস ব্রাউন’-এ ওল্‌ফ লেখেন যে ১৯১০ সালে সপ্তম এডওয়ার্ডের মৃত্যুর পর একটা পরিবর্তন এসেছে সাহিত্যিক বাস্তবতার দিকে, কিন্তু সেই বাস্তবতা বা বস্তুমুখীনতা এডওয়ার্ডীয় ঔপন্যাসিক আরনল্ড বেনেট (১৮৬৭-১৯৩১), জন গল্‌সওয়ার্দি (১৮৬৭-১৯৩৩) ও এইচ.জি.ওয়েলস (১৮৬৬-১৯৪৬) এদের মতো ‘materialists’-দের বাহ্যিক বাস্তবতার অনুপুঙ্খ চিত্রণ নয়। ১৯১৯ সালে লিখিত ‘মডার্ন ফিকশন’ প্রবন্ধের উপাদানও এই প্রবন্ধে ফিরে আসে, যেখানে তিনি নিজেকে আরেকজন সমমনোভাবাপন্ন আধুনিক লেখক, জেমস জয়েস (১৮৮২-১৯৪২) এর সঙ্গে তুলনা করেন--দুজনেরই একই সাধারণ প্রকরণগত বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে বলেন যে উভয়েই ভাবনা ও অনুভূতির চড়াই উৎরাই ধরে চলেছেন, যা পড়তে গেলে এক মনস্তাত্ত্বিক স্বরলিপির প্রয়োজন, আর যা লিখতে গেলে পুরনো ঔপন্যাসিকদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এক নতুন কথন প্রকরণ বা বাক্য বিনির্মাণের প্রয়োজন। ভার্জিনিয়া ওল্‌ফের ভাষায় এই  অন্তর্বাস্তবতা, ‘a look within the life’। তাই তার লেখা উপন্যাসে বাদ পড়ল প্রথাগত প্লট, কথক ও কথন, কেন্দ্রীয় চরিত্র, নিয়মিত ভাবে আসা নৈর্ব্যক্তিক বর্ণনা। সেই জায়গায় এলো মানব চেতনা-প্রবাহের ব্যক্তিগত অনুভূত মুহূর্তের ভাষ্য, যাকে মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতার শেষ কথা বলে সমকালীন বুদ্ধিদীপ্ত ও আধুনিক মননধর্মী রসিক পাঠক চিহ্নিত করতেন।

(চলবে) …

 

  

Advertisement:

Better World Books Good Reading

 

 
     

 

 

Four Poems by Ludwig Steinherr, Bengali translated by Tareq Samin

 

লুডভিগ স্টিনার  ১৯৬২ সালে জার্মানির মিউনিখে জন্মগ্রহণ করেন, এখনও তিনি যেখানেই বসবাস করছেন। তিনি মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় হতে দর্শন অধ্যয়ন করেছেন। তিনি এখন একজন ফ্রি-ল্যান্স লেখক ও ইচস্তেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন শাস্ত্রের লেকচারার হিসেব কর্মরত আছেন। তিনি প্রাবন্ধিক, সমালোচক, জুরি, অনুবাদক ও একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসাবে, প্রভাবশালী পত্রিকা দস গিডিক্টে কাজ করেছেন। একজন কবি হিসেবে তিনি সমসাময়িক জার্মান লেখকদের সামনের সারিতে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

স্টিনারের কবিতাগুলি জার্মানি ও বহির্বিশ্বের পত্রিকায় এবং সংকলন হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন, তার মধ্যে লোনস এবং লেনা পুরস্কার (১৯৯৩), প্রোটেস্ট্যান্ট লাইব্রেরির অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার (১৯৯৯), হারমান হেস পুরস্কার (১৯৯৯) উল্লেখ যোগ্য। তার কবিতা ইংরেজি, ফরাসি এবং চেক ও বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৩ সালে তিনি বাভারিয়ান অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের একজন ফেলো নির্বাচিত হন।

 

বাংলা অনুবাদ: তারিক সামিন। Bengali translated by Tareq Samin 

English Translated by Richard Dove. [Copyright by ARC PUBLICATIOS, Todmorden, UK, 2010.]

 

 

 বাংলা |  Bengali  ইংরেজী | English     জার্মান | Duitse  

 

 

একজন পারে না

 

একজন পারে না

আলোর ভাবনায় নিমজ্জিত হতে

এবং একই সাথে মৃত্যুর

ধূমায়িত চায়ের কাপের

ত্রিত্ব এর গঠন

দাঁতের ডাক্তারের বিল

এবং কারো প্রথম চুম্বন

একটি ফোঁড়া

এবং আঁকাবাঁকা লোয়ার নদী

একজন পারে না চিন্তা নিয়ে হতাশ হতে

এবং সেইসাথে

চিন্তা করতে

 

 

One can’t

 

One can’t

think of light

and simultaneously of Death

of the steaming tea-cup

the structure of the Trinity

the dentist’s bill

and of one’s first kiss

of a tumour

and the meandering Loire

One can’t despair about thinking

and simultaneously

think

 

 

MAN KANN NICHT

 

Man kann nicht

an das Licht denken

und gleichzeitig an den Tod

an die dampfende Teetasse

und an die Struktur der Trinität

an die Zahnarztrechnung

und an den ersten Kuß

an den Tumor

und an die Windungen der Loire –

Man kann nicht am Denken verzweifeln

und gleichzeitig

denken

 

 

শব্দ

 

শব্দের ভিতরের ক্লান্তি-

শব্দের ভিতরের অমিতাচারীতা-

শব্দের ভিতরের শূন্যতা-

আমার পিতামহের পিতা

এই সম্পর্কে  কিছুই জানতো না

তার ছিল মাত্র দুটি বই

গুনগুন শ্লোকে

চাষ করা জমির মাঝ হতে এবং গোয়াল ঘর পর্যন্ত

একটি পংক্তি পারতো

তাকে আরও বিস্মিত করতে

একটি সকালের

শ্রুতিকটু শব্দে

তুষার কণার পতনের চেয়ে

 

 WORDS

 

The weariness at the heart of words –

The surfeit at the heart of words –

The emptiness at the heart of words –

My grandfather’s father

knew nothing of this

Had only two books

Murmured verses

between ploughed field and cattle-shed

A line could

surprise him more

than a morning

jangling

with hoar-frost

 

WORTE

 

Müdigkeit der Worte –

 Überdruß der Worte –

 Leere der Worte –

 Mein Urgroßvater

 wußte nichts davon

 Er besaß nur zwei Bücher

 Zwischen Pflug und Stall

 murmelte er Verse

 Eine Zeile konnte ihn

 mehr überraschen

 als ein Morgen

 klirrend

 von Rauhreif

 

 

 

 বারবার...

 

বারবার

সেখানে আছে

আপেলটি

হাত সে রাখে

কাছে পৌঁছানোর

সেখানে আছে

সেই চেহারা

সেই কামড়

সেই নগ্নতা

জ্ঞান

বারবার

আমরা বহিষ্কৃত

করছি নিজেকে

একটি বাগান থেকে

যার অস্তিত্ব

কখনো ছিল না।

 

 AGAIN AND AGAIN…

 

Again and again

there’s the

apple the

hand that keeps

reaching out

there’s the

look

the bite

the naked

knowledge

Again and again

we’re

expelled

from a garden

that never

existed.

 

 

 

IMMER WIEDER…

 

Immer wieder

ist da der

Apfel und

die Hand die

sich ausstreckt

ist da der

Blick

der Biß

die nackte

Erkenntnis

Immer wieder

werden wir

vertrieben

aus einem Garten

den es nie

gegeben hat

 

 

 

 

 

পাথরটির নিরীহতা

 

পাথরের মধ্যেও

একটি উৎস প্রবাহিত হয়

একটি ঘুমন্ত কুড়ি

যে জীবন সম্ভাবনা স্পন্দিত করবে

ইতিমধ্যে সে লক্ষ্যে ওত পেতে আছে 

যে আঘাত পাথরের আকৃতি দেয়

সেই উৎস খুঁজে বেরায়

উপড়িয়ে ফেলে গাছপালা

জীবনকে বসবাসের

অযোগ্য করে তোলে

 

THE INNOCENCE OF STONE

 

In stone too

a source is flowing

a tree is sleeping

the possibility of life throbs

already the thought is lurking

which knocks stones into shape

which seeks out sources

uproots trees

makes life

impossible to live.

 

 

UNSCHULD DES STEINES

 

Auch im Stein

fließt eine Quelle

schläft ein Baum

pulsiert die Möglichkeit des Lebens

lauert schon der Gedanke

der Steine zurechtschlägt

Quellen aufspürt

Bäume entwurzelt

das Leben zur

Unmöglichkeit macht

 

 

Boel Schenlaer  Swedsih Poet, Editor, essayist and translator.Her poems have been translated into eleven languages. English, Spanish, Arabic, Russian, Croatian, Macedonian, Slovak, Chinese, Lithuanian, Romanian and Bengali.  Beyond activities: founder and organizer of the scene of poetry (2002) PoesiOnStage and (2003)-Södermalms poetry festival, which since 2002 has presented foreign and almost 250 Swedish poets on stage. PoesiOnStage moved in autumn 2010 in poetry with breakfast on Monday mornings to the 00: 54. 8:30, home of plate/culture of the library. The Thursday night once a month is presented in world poetry there. Playwright/Debut: against spring rain (Mr. WDR 1994 & 1995) shortlisted for the prizeFuture, Berlin. In the cold (Mr. 1996 & 1997 WDR), out of awareness (SR 1998), closer to the heart(1997, commissioned by the Stockholm City Theatre, not built), with great expectations (1999, order)SR - not completed), life premium (built 2000 at home), a cow is at home (2003, barnpjas, ordered the Royal dramatic Theatre, not built). Does not build dramas: the letter of intent (1993), a real pleasure (1994), the first goodbye (2002) the last seconds, (2009).Located in ApS Nordiska Strakosch, in Copenhagen. Games translated into English and German.   The editor of the lover of poetry (2003-2004). All published in the Post scriptum http://boelschenlaer.se

 

 

 

Parallel Elite

  

Ecce Homo Truman went out for a walk

which brought him to the alcoholics’ park.

There on the green bench sat Einstein.

So Ecce asked Albert if he ought not

to look for different company.

Forasmuch as the small birds’ screeching

there by the thorn bushes can be harmful.

But Albert squinted, inserted

a pinch of coarse snuff, took a mighty swig

from the bearded lapwing’s liquor bowl, cast his gaze

up towards the clouds and said cheerfully:

“Different company? I already have that.”

 

  

 

Piles of paper

  

Five in a doctrine. My belt. Morning on a table.

Jeopardy in the needle. A letter of crystal.

No one, no traces can be seen in the ball.

An expectant darkness should be visible.

I can hardly bear to see removals.

 

If there’s an “us” left at all.

I am on intimate terms with those

who are on poetic terms with me.

What I really know about the world

I am held to blame for, and every camp.

 

Some days it’s just not worth it.

The tulips flourish, everything’s alive

but a landscape of death shadows my cloth.

Every written book hit by water damage.

They earnestly cling fast to a train roof.

 

I belong, but I am past beyond.

Sometimes a whitewashed house, a dog

and a guitar leaning against a vending machine

can catch my gaze, I can make a grating sound

when a single meringue makes other people queue.

No one can take away my indifference.

 

Poems translated by Alan Crozier 

 

 
     

 সনাতনী প্রথা ভেংগে বাষট্টির বুড়ি

 অলোক মিত্র

 

 
 

সনাতনী প্রথা ভেঙ্গে তোকে
ভালবাসবো চুমুকে চুমুকে।
নিংরে নিবো তোর কাম-হীন উষ্ণতা,
তোর ভাজের পরতে পরতে রেখে যাবো
এঁটো চুম্বন আর নিখাদ ভালোবাসা।
গতকাল ফোটা তোর ছাদ বাগানের
গোলাপ রোদ প্রখরতায় লাবণ্য
ধরে রাখতে চায় তোর মতো,
প্রতিদিন আমি ওর প্রেমে পরি
তারপর মেঘ হয়ে বৃষ্টি
তোদের বাড়ির ছাদে আমার আর
গোলাপের অনিষিদ্ধ বসবাস।
নিরবচ্ছিন্নতা আমাদের কাছে আসতে,
প্রেমে পরতে শিখিয়েছে।
প্রেম বেচারা আরোগ্যনিকেতন,
বারবার বয়সের কাছে নতজানু হয়ে
বয়স কমায়, বলতে পারিস
প্রার্থনা ঈশ্বরে.....
আবারও বলছি প্রথা ভেঙ্গে
চাঁদেরহাটের বাষট্টির বুড়ি
চুমুকে চুমুকে নিংরে নিব
অতীত ভালোবাসা কাম-হীন
ক্রোধে, জানি বিমুগ্ধতা তোকে
মানায় না, জলের সংবরণে।

 

 

কখনো রাজহংস কখনো শকুন

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান



একটি উচ্চাভিলাষের দিকে মুখ করে হেঁটে যাই বলে
জীবন যাপন হয়ে যাচ্ছে।
নাহলে, আজ হয়তো আরেকটি শ্মশানে
শিশুরা হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকত
আরেকটি সন্দেশের জন্য।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
তরুণ পাটগাছগুলো মাথা নাড়ছে—
বাতাস এসেছে আজ 
রোদের গল্প নিয়ে।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
একটি কাঠবিড়ালি
আমডাল থেকে লাফ দিয়ে পড়ছে জামডালে,
জামডাল থেকে ভেরেন্ডা ডালে
ভেরেন্ডা ডাল থেকে আকন্দ ঝোঁপে।
আর অমনি আকন্দ ফুলের কাঁচা গন্ধে
তৈরি হচ্ছে
রোদের হাওয়াই মিঠাই।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
টাউনহলের বাজারে
দুটো বিরক্ত গজার মাছ
লেজ ঝাঁপটে
রস ছিটিয়ে দিচ্ছে
হরিপদ কেরানির গায়ে—
অতিরিক্ত দরকষাকষি
ওর আবাল্য স্বভাব।

আমি যখন একথা বলছি
তখন
দিঘির কালো জলে
সাতপাক ঘুরে
উঠে আসছে
রাজহংস রাজহংসী
আমলকি-জলপাই ছায়ায়।

তখন একটি চুলোয় বলক এল
মিহি মসুরের ডালে,
অন্য চুলোয় চড়চড় করে পুড়ছে
কুচি পেঁয়াজ
কাটা মরিচ
খুনতি হাতে গিন্নির বিষোদগার
তৃতীয় চুলোয়।

তখন এমোনিয়ামেঘের ভেতর দিয়ে
বৃহস্পতিকে চুমু খেতে
আছড়ে পড়ছে
শুমেকার লেভি-৯,
দেয়ালজোড়া স্ক্রিনে মাথা তুলে
তাকিয়ে আছে
নাসা।

কখনো রাজহংসের মতো 
কখনো শকুনের মতো
আর সব মানুষের মতো
অবিরত
আমারও আয়োজন চলে।
যদিও তখন
এক কুলো সজনে ফুল
ভেসে যায় 
নর্দমার জলে।

 

Ivan Hristov is a Bulgarian poet and literary researcher. He is the author of the poetry collections Farewell, Nineteenth Century (winner of the prize for best poetic debut from the National Southern Spring Competition 2002), Bdin (winner of the national literary prize Svetlostruy 2006, in 2015 Bdin was published in Turkey), American poems (2013) as well as the academic monograph The Sagittarius Circle and the Idea of the Native (2009). In 2016 in Romania was published the book Bdin, followed by American poems which contains his last two poetry books. In 2018, his fourth poetry collection called Dictionary of Love came out. The same year Ivan Hristov won the Culture is The Refuge of Humanity award at Safi International Forum of Poetry, Morocco. Since 2010, he has been a member of the organizing committee for the international Sofia: Poetics festival. He currently works at the Institute for Literature at the Bulgarian Academy of Sciences.

 

 

 Over Eight Million Books w/ Free Shipping

 

 

Diamond

 

(from Greek adamas “unbreakable,” “uncrushable”)

Also known as almaz in Russian,

the hardest naturally occurring substance,

the best thermal conductor

it has the highest melting point and

the largest refraction index of light

resistant to corrosion

a cut brilliant (for reference see: Brilliant) with 57 facets

It is brought to the surface of the earth

as a result of volcanic processes

Symbol of romantic attachment.

 

Over Eight Million Books w/ Free Shipping

 

 Hops

 

There once was a ritual in which newlyweds were sprinkled

with the fragrant green cones

of this plant

this way, people wished them

health and quick-to-come offspring

And they were never late in coming

Today, dry hops cones

or special hops teas

can be bought from the pharmacy.

The hops is stewed and then drunk,

added to rejuvenating baths

or used for rinsing the hair…

There is hops in beer as well.

It gives the drink a bit of bitterness,

that balances the sweetness of the malt,

and the floral, citrus and herbal fragrances and tastes.

When the beer is finished, it prolongs the foam’s staying power,

and with its acidity acts as a preservative

Men

who abuse this foamy drink

should keep in mind,

that in time

too much infatuation

might make them the owners

of feminine curves.

   

Trailsman 185: Bullet Hole Claims

Trailsman 185: Bullet Hole Claims

The richest open territory in the West is up for grabs, and Skye Fargo is caught between a lot of nasty people who would do anything to claim it for themselves Now no longer able to tell the bad guys from the good, all he can be sure of is that the bidding is being done with bullets -- and each one has his name on it


        

Page 3 of 11

লেখা পাঠাবার নিয়ম

মৌলিক লেখা হতে হবে।

নির্ভুল বানান ও ইউনিকোড বাংলায় টাইপকৃত হতে হবে।

অনুবাদ এর ক্ষেত্রে মুল লেখকের নাম ও সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দিতে হবে।

আরো দিতে পারেন

লেখকের ছবি।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি।

বিষয় বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্কন চিত্র বা ছবি। 

সম্পাদক | Editor

তারিক সামিন

Tareq Samin

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

লেখা পাঠাবার জন্য

ইমেইল:

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

 

We use cookies to improve our website. Cookies used for the essential operation of this site have already been set. For more information visit our Cookie policy. I accept cookies from this site. Agree